বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন

পাবনায় দুদকের মামলায় ইসলামী ব্যাংক ম্যানেজারের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

 

পাবনা প্রতিনিধি : দুর্নীতির দায়ে পাবনায় দুদকের মামলায় ইসলামী ব্যাংক সিরাজগঞ্জ শাখার সাবেক ম্যানেজারের পৃথক ধারায় ১৫ বছরের বেশি সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

পাবনার বিশেষ জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক শেখ মো. নাসিরুল হক মঙ্গলবার বিকেলে এক রায়ে এই কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন, ইসলামী ব্যাংক সিরাজগঞ্জ শাখার সাবেক ম্যানেজার ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার স্বরুপনগর গ্রামের আলতাফুর রহমানের ছেলে মো. সেতাউর রহমান।

দুদক পাবনা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক জানান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি. সিরাজগঞ্জ শাখার চলতি হিসাব নং ১৮৫ এর গ্রাহক মো. হায়দার আলী ব্যাংকের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে গত ১৭/০৮/৯৬ তারিখে চাল কেনার জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ সুবিধা চেয়ে ব্যাংক বরাবর আবেদন করেন।

ব্যাংকের ম্যানেজার সেতাউর রহমান একই তারিখে মুরাবাহা বিনিয়োগ হিসাব নং ৭২৬/৯৬ খুলে চাল ক্রয়ের নিমিত্তে মো. হায়দার আলীর নামে আসল সাড়ে ৩ লাখ টাকা ও ব্যাংকের ৫৪ হাজার ৩০০ টাকার লাভসহ মোট ৪ লক্ষ ৪ হাজার ৩০০ টাকা মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্ট মুরাবাহা বিনিয়োগ মঞ্জুরি স্বাক্ষর করেন।

এরপর বিনিয়োগকৃত সাড়ে ৩ লাখ টাকা ম্যানেজার কর্তৃক স্বাক্ষরিত ডেবিট ভাউচারমূলে ব্যাংকের চলতি হিসাব ৫০৪ এ স্থানান্তর করে চেকমূলে উত্তোলন করা হয়।

উক্ত মঞ্জুরির প্রেক্ষিতে কোনো সিকিউরিটিও ব্যাংকে জমা রাখা হয় নাই ও পরবর্তীতে ঋণ মঞ্জুর সংক্রান্ত রেকর্ডপত্রও ব্যাংক হতে গায়েব করা হয়েছে।

মুরাবাহা চুক্তিনামা অনুযায়ী বিনিয়োগ হিসাবে সময়সীমা ১৬/০৮/১৯৯৭ তারিখের মধ্যে গ্রাহক মাত্র ৯২ হাজার ৯৫০ টাকা পরিশোধ করে অবশিষ্ট ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫৮ টাকা পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাত করেন।

এ ঘটনায় ব্যাংক ম্যানেজার সেতাউর রহমানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দঃবিঃ ৪০৯/৪২০/২০১/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করা করা হয়।

মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আদালত বিচার প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার রায় প্রদান করেন।

রায়ে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৬ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৪২০ ধারায় ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫৮ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

একই সময় রায়ে আসামি মো. হায়দার আলী মৃত্যুবরণ করায় তাকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়।

এছাড়া অপর আসামি মো. হাসান ইকবাল হেফজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. সেতাউর রহমান পলাতক রয়েছেন। দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিজ্ঞ পি.পি খোন্দকার আ: জাহিদ রানা।

 

 


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!