রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৩২ অপরাহ্ন

পাবনায় বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়াই বৈজ্ঞানিক উপকরণ পেলো দুই মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান!

বৈজ্ঞানিক উপকরণ নেওয়া হচ্ছে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ফাইল- ছবি

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধিঃ বিজ্ঞান বিভাগ না থাকলেও পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দুটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বারো লক্ষাধিক টাকার বৈজ্ঞানিক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেকেন্ডারী এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (SESIP)এর আওতায় বিজ্ঞান বিভাগ বিহীন হাজী গয়েজ উদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা ও ভেড়ামারা দাখিল মাদ্রাসাসহ উপজেলার মোট ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।

তবে জাতীয়করণের জন্য সদ্য ঘোষিত হওয়া উপজেলার কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গুড়া মডেল ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে এই সকল উপকরণ বিতরণের এ তালিকায় রাখা হয়নি।

এতে বিজ্ঞানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিহীন দুইটি প্রতিষ্ঠানে উপকরণ বরাদ্দ দেয়া এবং মডেল ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে না দেয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কারোর কাছেই বিষয়টি বোধগম্য হচ্ছে না।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল আলম জানান , সম্প্রতি উপজেলার ৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান বিভাগের জন্য পাঁচ লাখ আশি হাজার টাকা মূল্যের বৈজ্ঞানিক উপকরণ ও অর্ধ লক্ষাধিক টাকায় দুইটি করে আলমীরা বিতরণ করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেকেন্ডারী এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (SESIP) এর আওতায় (RDPP)এর সংস্থান অনুযায়ী ভারতের এনজেলিক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এসব উপকরণ বিতরণ করে।

বিতরণকৃত এসব উপকরণের মধ্যে ১১৭ প্রকারের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। তবে এসব যন্ত্রপাতি প্রদানের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসের কাছ থেকে পূর্বে কোনো তালিকা নেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

ফলে বিজ্ঞান বিভাগবিহীন একাধিক প্রতিষ্ঠানকে ভুলবশত এসব উপকরণ দেয়া হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা।

এদিকে এ দুইটি প্রতিষ্ঠানে প্রদানকৃত এতো দামী যন্ত্রপাতি সুষ্ঠু ব্যবহারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাবে বলেও আশংকা করেছেন ঐ কর্মকর্তা।

এই তালিকা থেকে বাদ পড়া ভাঙ্গুড়া মডেল ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তার প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক পর্যায়ে উপজেলার সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেখানে নবম-দশম শ্রেণিতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বিজ্ঞান শাখায় পড়াশুনা করে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে বিজ্ঞান বিভাগবিহীন প্রতিষ্ঠানকে এতো দামী ও প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক উপকরণ দেয়া হয়েছে।

এতে মন্ত্রণালয়ের একটি ভালো উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, আমরা এব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

এব্যাপারে হাজী গয়েজ উদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন জানান, ‘বৈজ্ঞানিক উপকরণ পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস তাকে ডেকে নিয়ে এসব উপকরণ দেওয়ায় তিনি হতবাক হয়েছেন। এখন এসব যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে ভেড়ামারা দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব বৈজ্ঞানিক উপকরণ আমাদেরকে দিয়েছে তাই দেখি কোনো কাজে লাগাতে পারি কিনা।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি ঠিকাদারের মাধ্যমে এসব বৈজ্ঞানিক উপকরণ বিতরণের কাজটি করেছে। এতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পালন করা ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই।’

 

 


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!