মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন

পাবনা বিচার বিভাগের অনন্য দৃষ্টান্ত- এক বছরে ৫ সহস্রাধিক মামলা নিস্পত্তি

বার্তা সংস্থা পিপ, পাবনা : বদলে গেছে পাবনার বিচার বিভাগের চিত্র। বিচারকের দক্ষতায় গত এক বছরে পাবনার আমলি আদালত সমুহে ৫১৬৭ টি মামলা নিস্পত্তি হয়েছে।

পাবনা জেলার বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সালেহ্ মোঃ সালাহ্উদ্দিন খাঁর ব্যাক্তিগত উদ্যোগে জেলার বিচারাঙ্গণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পাবনায় গত জুন/২০১৮ সালে যোগদানের পর থেকে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা, সততা এবং মেধা খাটিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে আদালতের বিচারিক কাজে এ যাবত কালের রেকর্ড গড়েছেন।

জুলাই / ১৮ থেকে জুন / ১৯ পর্যন্ত ১ বছরে গৃহীত সাক্ষীর সংখ্যা ১৫২১৩ টি, মাদক মামলা নিস্পত্তি ১০৯২ টি, নিস্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ৬৮৯৬ টি, দণ্ডাদেশ প্রদানকৃত মামলার সংখ্যা ১৮৭৩ টি এবং বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১৪৫৬৪ টি।

পক্ষান্তরে জুলাই /১৭ থেকে জুন /১৮ পর্যন্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গৃহীত সাক্ষীর সংখ্যা ৭৭০৯ টি, মাদক মামলা নিস্পত্তি ২৪২ টি, নিস্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ৫১৬৭ টি, দণ্ডাদেশ প্রদানকৃত মামলার সংখ্যা ৪২৩ টি এবং বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১৪৮৭২ টি।

গত এক বছরে ২০১৮ সালে দায়ের এবং ২০১৮ সালেই সাক্ষীর মাধ্যমে নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ৪৬৭ টি। গত এক বছরে ২০১৫ সাল বা তার পূর্বের নিষ্পত্তিকৃত পুরাতন মামলার সংখ্যা ১০৫৮ টি।

এ ব্যাপারে চীফ জুডিসিয়ল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোঃ সালাহউদ্দিন খাঁ জানান, আদালতে সম্পাদিত বিচারিক কাজের এ উর্ধমুখী চিত্র যা পাবনা পুলিশ প্রশাসন ও বারের বিজ্ঞ আইনজীবীগনের আন্তরিক সহযোগিতাসহ ম্যাজিস্ট্রেসির বিজ্ঞ বিচারকগনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল।

এছাড়াও অবদান ছিল আদালতের সহায়ক কর্মচারীদের। তিঁনি আদালতের বিচারিক কাজে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

আদালত সূত্র জানায়, বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোঃ সালাহউদ্দিন খাঁ প্রতিদিন এজলাসে উঠে প্রথমে ফৌজদারি কার্য বিধির ৫২৮ ধারা প্রয়োগ করে রাষ্ট্র পক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষীদের সমহারে প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বন্টন/সমন্বয় করেন।

এক্ষেত্রে তিনি প্রত্যেক আদালতের পেশকারদের নিকট থেকে রাষ্ট্র পক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষীর তালিকা পূর্বে সংগ্রহ করেন এবং এজলাসে বসে তৎক্ষনাৎ প্রয়োজন হলে মামলা ট্রান্সফার করেন প্রস্তুতকৃত ফরমেটেড আদেশের মাধ্যমে।

ইতঃপূর্বে তিনি পাবনা পুলিশ সুপারের সাথে মিটিং করে সাক্ষী উপস্থিত করাসহ মামলা নিষ্পত্তির কার্যপন্থা নির্ধারণ করেন।

যেসব নতুন মামলার সরকারী সাক্ষী পাবনাতেই আছে সেসব মামলার তারিখ ৭/১০ দিন অন্তর প্রদান করার জন্য বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটগনকে নির্দেশনা দেন।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মাদকের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করায় মাদক মামলা নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকার দেন। গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডাক্তার সাক্ষীদের হাজিরার জন্য স্টেনোর মাধ্যমে মেসেন্জার, ইমো, ভাইয়ার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদির সাহায্যে প্রসেস পাঠান।

একই আইও সাক্ষী বা ডাক্তার সাক্ষীর মামলার তালিকা করে তাদের মামলাগুলো যতদুর সম্ভব একই তারিখে রাখেন। সপ্তাহে একদিন সিজেএম আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটগনদের নিয়ে বসেন।

ফলে সিজেএম আদালতের বিচারিক কাজে ব্যাপক গতি আসে। ১৬৪ ধারায় আসামীর স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করতে না হলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটগনকে এ জন্য অফিস সময়ের অধিক বিচারিক কাজও করতে হয়না।

এ ব্যাপারে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস (পদন্নোতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার), বলেন পাবনার বিচার বিভাগ এবং পুলিশ প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের মধ্যে পাবনা একটি নিউ মডেল তৈরী করেছে।

দেশের বিচার ব্যবস্থায় পাবনা জেলার এই চিত্র দৃষ্টান্ত স্বরূপ। যার মূখ্য ভূমিকায় আছেন বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সাবেক এসপি স্যার এবং বর্তমান এসপি স্যার। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

পাবনা জেলা এডভোকেট বার সমিতির সভাপতি এডঃ আমিনুল ইসলাম পটল বলেন, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে এ রকম কাজই দরকার। যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে।

মামলার বিচার যত দ্রুত সম্পন্ন হয় তত ঘাপলা কম হয়। আলামত নস্ট হয় না। বাদী ও বিবাদী উভয়ই সু বিচার পায়। সারা দেশের মধ্যে পাবনায় বিচার বিভাগে যে মডেল তৈরী করা হয়েছে তার জন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ বিচারকগণসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

পাবনা জেলা এডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ ইকবাল লিটন বলেন, বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সালেহ্ মোঃ সালাহ্উদ্দিন খাঁ এর সততা এবং আন্তরিক প্রচেস্টার কারনেই এটা সম্ভব হয়েছে। তিনি এ কাজে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানান।

বিচারপ্রার্থী কয়েকজন বাদী ও বিবাদীর সাথে আলাপকালে তারা জানান, বর্তমানে পাবনা বিচার বিভাগে বেশ পরিবর্তন হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে বিচার কাজ শেষ হলে আদালতে বারবার আসতে হয় না। এতে কাজের ক্ষতি হয় না অর্থ এবং সময় উভয়ই বাঁচে।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:২৭
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৪৫
    যোহরদুপুর ১১:৫৩
    আছরবিকাল ১৬:১৮
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:০১
    এশা রাত ১৯:৩১
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!