মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন

পাবনা-মালঞ্চি সড়কের বেহাল দশা, সংস্কারের উদ্যোগ নেই

3185956083057a27260b77fc395a8285-2বার্তাকক্ষ : পাবনা-মালঞ্চি সড়কটির পিচ উঠে তৈরি হয়েছে ঢিবি। আটকে যায় যানবাহন। কখনো কখনো বিকল হয়ে পড়ে থাকে, ঘটে দুর্ঘটনা। তবু সংস্কারের উদ্যোগ নেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির।

জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার চেতনের মোড় থেকে মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত এটাই একমাত্র সড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে পৌর সদর, মালঞ্চি, দোগাছি, একদন্ত ও গয়েশপুর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে।

জেলা শহরের স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়া করে কয়েক শ শিক্ষার্থী। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশে রয়েছে বেশ কিছু ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকারখানা, একটি আবাসিক প্রকল্পসহ বেশ কিছু গ্রাম। কিন্তু দীর্ঘদিন মেরামত না করায় চার কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলে পুরো সড়কটিতে পানি ও কাঁদা জমে আরও খারাপ অবস্থা তৈরি হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ঈশ্বরদী মহাসড়কে কিছুটা এগুলোই ডান দিকে মালঞ্চি সড়ক। সড়কে উঠলেই চোখে পড়বে ভাঙাচোরার চিহ্ন। যত দূর এগোনো যায়, ভাঙার পরিমাণ বাড়ে। অধিকাংশ স্থানেই পিচ উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও ঢিবি। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে চলছে মাইক্রোবাস, কার, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ থেকে ১২ বছর আগে সড়কটি সর্বশেষ মেরামত হয়েছে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। এর মধ্যে সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বেড়েছে। বেড়েছে ছোট যানবাহনের সংখ্যাও।

এ ছাড়া নির্মাণাধীন রেললাইনের কাজের জন্য বহু ট্রাক চলাচল করছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে পৌরসভার ময়লার ট্রাক ভাগাড়ে যাওয়া-আসা করে। এ অবস্থায় সড়কটির দুই পাশে গর্ত হয়ে মাঝখানে উঁচু ঢিবির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের পক্ষ থেকে বহুবার ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হলেও সড়কটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

মালঞ্চি ইউনিয়নের কাবলিপাড়া গ্রামের অটোরিকশার চালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। মাঝেমধ্যেই অটোরিকশার চাকা ভেঙে যায়। এতে সড়ক ব্যবহারকারী যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

গয়েশপুর ইউনিয়নের পারনলমুরা গ্রামের তন্নী পারভেজ বলেন, তাঁর সন্তান শহরের একটি স্কুলে পড়ে। আগে গ্রামে থেকেই সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করতেন। কিন্তু সড়কটির বেহাল দশার কারণে তাঁকে এখন বাধ্য হয়ে শহরে বাসা নিতে হয়েছে।

মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আসলাম হোসেন বলেন, সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি বহুবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হয়েছে। জেলা সদরে গিয়ে সরকারদলীয় বড় নেতাদের দিয়ে সুপারিশ করানো হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

সড়কটির বেহাল দশার কথা স্বীকার করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের বহু সড়কই বেহাল হয়ে পড়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। সড়কটি মেরামতের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। টাকা পেলে কাজ করা হবে।’


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:২৭
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৪৫
    যোহরদুপুর ১১:৫৩
    আছরবিকাল ১৬:১৮
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:০১
    এশা রাত ১৯:৩১
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!