শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:১৩ অপরাহ্ন

পাবনা সফর শেষে কি বলে গেলেন শীর্ষ ৪ রুশ ব্লগার?

 

বার্তা সংস্থা পিপ, পাবনা : পর্যটকদের আকর্ষনের জন্য বাংলাদেশে অনেক কিছু রয়েছে, তবে সহজ সরল, বন্ধুভাবাপন্ন ও অতিথিপরায়ন মানুষই হচ্ছে এদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন সম্পদ।

এমন মন্তব্য বর্তমানে রাশিয়ার সর্বাধিক জনপ্রিয় ভ্রমণ ব্লগার আলেগ ক্রিকেটের। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ।

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে রাশিয়ার জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করার লক্ষ্য নিয়ে ৮ দিনব্যাপী বাংলাদেশ সফর শেষে ৩ অক্টোবর ৪ জন শীর্ষ রুশ ব্লগার ঢাকা ত্যাগ করেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত রুশ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজ বা এটমস্ত্রয়এক্সপোর্ট সফরটির আয়োজন করেন। এটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন- রসাটমের প্রকৌশল শাখা।

আলেগ তার মন্তব্যে আরো বলেন, “আমি বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশ ভ্রমণ করেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখার এবং জনগণের সঙ্গে ভাব বিনিময়ের সুযোগ হয়েছে আমার। এটা আমার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

এদেশের মানুষ অনেক কর্মঠ, চলমান বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আমাদের নজরে এসেছে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের জন্য একটি উজ্জল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই মনোরম।”

রুশ ব্লগাররা হলেন, আলেগ ক্রিকেট, দিমিত্রি লাজিকিন, ইরিনা গোল্ডম্যান এবং নিকিতা তেতেরেভ।

ইনস্টাগ্রামে তাদের মোট অনুসারির সংখ্যা ১৬ লক্ষের অধিক।

সফরকালে ব্লগাররা ঢাকা, টাঙ্গাইল, বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, খুলনা, বাগেরহাটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থাপনা পরিদর্শন করার পাশাপাশি এদেশের জনগণ, জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন।

অর্জিত অভিজ্ঞতা তারা তাদের ব্লগের অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন এবং করবেন।

এছাড়াও তারা বাংলাদেশ ও রাশিয়ার পারস্পরিক সহযোগীতা ও বন্ধুত্বের অন্যতম নিদর্শন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজও ঘুরে দেখেন।

ব্লগার গ্রুপের একমাত্র মহিলা সদস্য ইরিনা গোল্ডম্যান। তিনি জনপ্রিয় ফ্যাশন ম্যাগাজিন কসমোপলিটনের সাবেক সম্পাদক। ইরিনা বাংলাদেশে এসেছিলেন তার পোষা কুকুর স্পেসকে নিয়ে।

“৪০টির অধিক দেশ ভ্রমণ করলেও আমি বাংলাদেশকে ভালবেসে ফেলেছি। এখানকার মানুষ দারুন বন্ধুভাবাপন্ন, প্রকৃতিও অনেক সুন্দর। আমি সুযোগ পেলে আবারও বাংলাদেশ ভ্রমণে আসবো।

সুন্দরবনে নৌকায় ভ্রমনের সময় মনে হচ্ছিল আমি যেন বিখ্যাত অ্যানাকোন্ডা ছবির স্যুটিং স্পটে আছি,” এমনই অভিজ্ঞতা ইরিনার।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে পারমাণবিক বিদ্যুৎ সম্পর্কে রুশ জনগণের মনোভাব জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি রাশিয়ার যে শহরে বাস করি সেখানেও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এলাকার জনগণের মনোভাব পুরোপুরি ইতিবাচক কারণ তারা নিরবিচ্ছিন্ন ও মানম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিবেশ বান্ধবও বটে।”

দিমিত্রি লাজিকিন একজন ফ্যাশন ব্লগার। বাংলাদেশে ফ্যাশন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে দিমিত্রি বলেন, “গ্রামের মানুষরা শহরবাসীর তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম ফ্যাশন সচেতন হলেও তাদের ঐতিহ্যবাহী পোষাকগুলো আমার নজর কেড়েছে। পোশাকগুলো অনেক কালারফুল। পুরুষদের স্কার্ট (লুঙ্গি) আমার জন্য অনন্য এক অভিজ্ঞতা। এখানকার কাপড়ের মান যথেস্ট উন্নত এবং বেশ কয়েকটি উন্নতমানের ফ্যাশন হাউজও রয়েছে এখানে।”

“আমার জানা ছিলনা যে বিশ্বের অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হয় এখানকার গার্মেন্টসগুলোতে।”

পেশাদার ভিডিওগ্রাফার নিকিতা তেতেরেভ বলেন,“ফটো বা ভিডিও শুটের জন্য বাংলাদেশে অনেক আকর্ষনীয় স্থান রয়েছে। এখানকার রাস্তা-ঘাটের অবস্থা বেশ ভাল, যদিও ট্রাফিক জ্যাম একটি বড় সমস্যা। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে বেশ সময় লেগে যায়।

তাই রুশ পর্যটকরা যদি বিষদভাবে এখানকার প্রকৃতি ও জীবনযাত্রা দেখতে ও ক্যামেরায় ধারণ করতে চান তবে তারা যেন হাতে যথেস্ট সময় নিয়ে আসেন।”

ঢাকা ত্যাগের পূর্বে রুশ ব্লগাররা বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

বিটিবি’র প্রধান নির্বাহী রুশ জনগণের মধ্যে বাংলাদেশের পর্যটনের প্রচারে ব্লগারদের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি তাদের নিজ নিজ ব্লগে লেখার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

 

 


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!