সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন

পুনরায় ২০ দলীয় জোটে ভাঙন!

পুনরায় ভাঙনের কবলে পড়তে যাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। সরকারবিরোধী এই জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপি। মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে গুলশানের একটি হোটেলে (ইমানুয়েল ব্যানকুয়েট হল) সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেবেন দল দু’টির শীর্ষ নেতারা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অভিমান আর নতুন জোট গঠনের অভিযোগে বিএনপির সঙ্গে ছয় বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা।

এ বিষয়ে জেবেল রহমান গাণি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আসন চেয়েছিলাম, বিএনপি দেয়নি। বিএনপির কাছে প্রত্যাশাও ছিল অনেক। ন্যাপ তো তাদের সবকিছুর সঙ্গে জড়িত। ধানের শীষের উপহার তারা কিভাবে গ্রহণ করলো। যাদু মিয়ার নামও উচ্চারণ হয় না বিএনপিতে। ভবিষ্যতে বিএনপি ভালো ভূমিকা রাখতে পারে, এই কামনা করি। কিন্তু বর্তমানে তারা যে রাজনীতি করছে, তার সঙ্গে আমরা দ্বিমত প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যতবার নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি, সুকৌশলে খালেদা জিয়ার কারাবন্দির কথা তুলে তা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে এখন ঐক্যফ্রন্টে কিভাবে নির্বাচন ও আসন নিয়ে আলোচনা হয়? খুব বেশি দিন নেই নির্বাচনের। অথচ, নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র আলোচনা নেই। সবকিছু মিলিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে ন্যাপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি ব্লাইন্ডলি ড. কামাল ও ব্যারিস্টার মইনুলদের নেতৃত্ব মেনে নিতে পারছি না। মইনুল হোসেন নির্বাচন করবেন কিনা, থাকবেন কিনা। এমন অনেকেই আছেন, রাজনৈতিক জোটে সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের আনতে চান। তাহলে আরও অনেক বড় উদার মন নিয়ে করা উচিৎ ছিল। বিএনপির মতো উদার রাজপথের দলকে একজন-দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে কেন? আমরা অধ্যাপক এমাজউদ্দীনকে দেখতে চেয়েছিলাম। জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া, ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানে হামলার পর। তাকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এমাজউদ্দীন আহমদ। তাহলে ওই সময় তারা কেন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্য করেননি? এই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে প্রশ্ন আছে।’

এদিকে, বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিলেও আপাতত কোনও জোটে শরিক হবেন না বলে জানিয়েছেন জেবেল রহমাণ গাণি। এক্ষেত্রে আরও কিছুদিন তিনি তার দল ও এনডিপির সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

বিকেলে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে দীর্ঘদিনের জোটগত সম্পর্ক ত্যাগ করে ইসলামি ঐক্যজোট। এর আগের বছর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিএনপি জোটে ভাঙন ধরিয়ে বেরিয়ে যায় শেখ শওকত হোসেন নিলুর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) ন্যাপ ও এনডিপি বেরিয়ে গেলে গত দুই বছরে তৃতীয়বারের মতো ভাঙনের কবলে পড়বে বিএনপি জোট।


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!