শুক্রবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৮, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

প্রত্যন্ত অঞ্চল বদলে গেছে প্রযুক্তির ছোঁয়ায়

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তথ্য প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার যে দেশে যত বেশি সেই দেশ তত বেশি উন্নত। আমাদের দেশেও দিন দিন বাড়ছে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রাজধানী শহর চলছে প্রযুক্তির হাত ধরে। অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে প্রযুক্তির সম্প্রসারণ হচ্ছে ব্যাপক হারে। স্কুল শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গ্রামের কৃষক পর্যন্ত সবার জীবন বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তির ছোঁয়ায়। আগে অজপাড়া গাঁ বলতে যা বুঝানো হতো তা এখন আর দেখা যায় না গ্রামাঞ্চলে। ঘরে ঘরে আজ প্রযুক্তির ছোঁয়া।

বর্তমানে দেশে ৯০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছে। এর ভিতর রয়েছে গ্রামাঞ্চলের মানুষও। এক সময় শহরের বাহিরে গেলে অনেকটা বিচ্ছিন্ন দুনিয়ায় জীবনযাপন করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই দিন এখন অতীত। দুর্গম এলাকার গ্রামও এখন পাকা সড়ক দিয়ে সংযুক্ত হয়েছে শহরের সঙ্গে। এখন সেখানে পল্লী বিদ্যুৎ অথবা সৌর বিদ্যুতের আলো ঝলমল করে। গ্রামের সাধারণ জনগণ আজ পাচ্ছে সকল ধরণের নাগরিক সুবিধা। তারাও আজ শহরের মানুষের থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতরের তথ্যমতে, সারা দেশে ৫ হাজার ২৭৫টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ও ৮ হাজার ২০০ ই-পোস্ট থেকে ২০০ ধরনের ডিজিটাল সেবা পাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের জনগণ।

গ্রামে আগে ডাকে চিঠি, টেলিগ্রাম, মানি অর্ডার পৌঁছাতে অনেক দিন লেগে যেতো। প্রিয়জনের সাথে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় টাকা পয়সা লেনদেনের জন্য এখন আর দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়না তাদের। দেশের সব জায়গায় এখন পৌঁছে গেছে ফোর -জি মোবাইল ও ইন্টারনেট সুবিধা। রয়েছে টাকা পয়সা লেনদেনের জন্য নিরাপদ মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধা। ৩ হাজার ৮টি সেন্টারে চালু হয়েছে এই মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলো ডিজিটাল সেন্টারের আওতাধীন করা হয়েছে। ১১টি সিটি করপোরেশনে ৪০৭টি ডিজিটাল সেন্টার ও ৩২১টি পৌরসভায় ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়েছে। এসব ডিজিটাল সেন্টার থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৪০ লক্ষ মানুষ সেবা নিচ্ছে। এসব ডিজিটাল সেন্টার থেকে উদ্যোক্তাদের আয় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বিভিন্ন সরকারি দফতরও আনা হয়েছে তথ্য প্রযুক্তির আওতায়। ১৮ হাজার ১৩০টি সরকারি দফতরে কানেকটিভিটি স্থাপন, ৮০০ অফিসে ভিডিও কনফারেন্সি সিস্টেম চালু, ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক্যাল কানেকটিভিটি, ৮ হাজার ৫০০ শাখা ডাকঘরকে ইন্টারনেটের আওতায় আনা হয়েছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এখন পাচ্ছে শিক্ষার সুযোগ। শুধু তাই নয় পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় এখন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে শিক্ষার আলো। বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থাপন করা হয়েছে ৫০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। সারা দেশে ১২টি হাই টেক পার্ক নির্মাণের পর চালু করা হবে ডিজিটাল রেকর্ড রুম। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কাগজ পত্র সংরক্ষণের জন্য চালু করা হয়েছে ই-সিস্টেম। বর্তমানে ২৫ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েবপোর্টাল ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ এ এখন ৪৩ হাজার দফতর সংযুক্ত। কৃষকদের কৃষি সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য রয়েছে ‘কৃষি বাতায়ন।’

চিকিৎসা সেবায়ও এসেছে উন্নতির ছোঁয়া। ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করে তৎক্ষণাৎ জেনে নেয়া যাবে চিকিৎসা সেবার বিভিন্ন পরামর্শ। সাধারণ জনগণ ২৪ ঘন্টাই পাবে এই সেবা। ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেই মিলছে জরুরি সেবা। গ্রামে গ্রামে পৌঁছে গেছে ই-কমার্সের সেবা। আর এর স্বীকৃতিস্বরূপ পরপর পাঁচবার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস)’ পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ।

তথ্য প্রযুক্তির ডানায় ভর করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নতির দিকে। সরকার এখন জোর দিচ্ছে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য। দেশের ছেলেমেয়েরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে পড়াশোনা করে, রোবটিক্স নিয়ে চর্চা শুরু করেছে। সরকার রূপকল্প-২১ ও রূপকল্প-৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে দুর্নিবার গতিতে।


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!