বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

প্রাণ দুধের গুণ প্রচারে আদালতের নাম ব্যবহার

দুধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কোনো তথ্য ও বিজ্ঞাপন প্রচার না করতে বিএসটিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের আদেশের আগে যাতে কোনো সংবাদ প্রচার করা না হয় সে বিষয়ে গণমাধ্যমকেও সতর্ক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বিএসটিআইয়ের আইনজীবীর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত বলেন, দুধ পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে আমরা কোনো আদেশ দেইনি, মতামতও প্রকাশ করিনি। অথচ আপনি মিডিয়ার সামনে আদালতের সন্তোষ প্রকাশের কথা বললেন।

আপনার এ বক্তব্যের পর গণমাধ্যমে প্রাণ গ্রুপ হাইকোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তাদের পণ্যের গুণগান প্রচার করছে। এই দুধ খেয়ে যদি কেউ অসুস্থ হয়, তার দায় কে নেবে? আদালত বলেন, যে প্রতিবেদনে কোনো শুনানিই হল না, আদালত কোনো আদেশ দিল না; তারপরও আদালতকে জড়িয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার হল।

আদালতের আদেশ ছাড়া কোনো বক্তব্য মিডিয়ার সামনে না দিতে বিএসটিআইয়ের আইনজীবীকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ১৪ জুলাই শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিএসটিআইয়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এমআর হাসান। রিটের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ। এর আগে গত ৮ জুলাই পাস্তুরিত দুধ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ ও বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের দেয়া প্রতিবেদন যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাখিল করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

বিএসটিআইয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার এমআর হাসান যুগান্তরকে বলেন, জনমনে বিভ্রান্তিকর তথ্য যেন না ছড়ায় দুধ নিয়ে এমন প্রতিবেদন ও বিজ্ঞাপন প্রকাশ না করতে আদালত মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক করেছেন। যেন আদেশের আগে কোনো সংবাদ প্রচার না হয়।

এর আগে পাস্তুরিত দুধ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিস রিসার্চ, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষণা প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারে থাকা ৭৫ শতাংশ পাস্তুরিত দুধেই ভেজাল ধরা পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদন করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ।

ওই রিট আবেদনে গত বছরের ২১ মে বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে কমিটি গঠন এবং বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। খাদ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালককে দেয়া এ নির্দেশের পর গত ২৫ জুন বিএসটিআইয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার এমআর হাসান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৪টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে আশঙ্কাজনক বা ক্ষতিকর কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি। কিন্তু একইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ ও বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাবি করে, পাস্তুরিত দুধের সাতটি নমুনার কোনোটিতেই কাক্সিক্ষত মাত্রার ‘সলিড নট ফ্যাট’ পাওয়া যায়নি।

বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী দুধে ‘ফ্যাট ইন মিল্ক’ ৩.৫ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও এগুলোতে আছে ৩.৬ থেকে ৩.৬১ শতাংশ। এসব দুধে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

দুধের ব্র্যান্ডগুলো হল : প্রাণ, মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, ইগলু, ইগলু চকলেট এবং ইগলু ম্যাংগো। অপাস্তুরিত (খোলা) দুধের তিনটি নমুনা রাজধানীর পলাশী, গাবতলী ও মোহাম্মদপুর বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৩৯
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৫৬
    যোহরদুপুর ১১:৪৪
    আছরবিকাল ১৫:৫৪
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৩১
    এশা রাত ১৯:০১
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!