শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন

প্রিয় নবী (সা.)-এর বিনয়

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন সমগ্র মানবজাতির জন্য উত্তম নমুনা। সর্বোত্তম মডেল। তিনি মহান চরিত্রের অধিকারী। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘(হে নবী) আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।’ সূরা আল কলম, আয়াত ৪। অন্য আয়াতে ঘোষিত হচ্ছে, ‘যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ রাখে তাদের জন্য রসুলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।’ সূরা আহজাব, আয়াত ২১। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন বিনয়ী। তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন পরিবারের সবার সঙ্গে নম্ন আচরণ করতেন। বিনয় প্রকাশ করতেন। অত্যন্ত সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করতেন। মদিনা ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে বড় মনে করতেন না। এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জুতা নিজেই ঠিক করতেন। নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করতেন। তোমাদের প্রত্যেকেই যেমন নিজ নিজ ঘরের কাজ কর, তেমন তিনিও নিজের ঘরের কাজকর্ম করতেন। হজরত আয়শা (রা.) এও বলেছেন, তিনি অন্যান্য মানুষের মতো একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আচরণ করতেন। নিজের কাপড় থেকে নিজেই উকুন (বা পোকা-মাকড়) বাছাই করতেন। নিজ হাতে বকরির দুধ দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই সম্পাদন করতেন (নিজের কাজ করার জন্য অন্য কাউকে আদেশ দিতেন না, বরং নিজের কাজ নিজেই করতেন)। তিরমিজি, মিশকাত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে যেমন বিনয়ী ছিলেন, ঘরের বাইরেও তেমন বিনয়ী ছিলেন। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন। জানাজায় উপস্থিত হতেন। গাধায় আরোহণ করতেন এবং গোলামের দাওয়াতও কবুল করতেন। (সে যুগে গরিব মানুষ গাধায় চড়ত আর ধনীরা ঘোড়া, উটে চড়ত। গোলাম ও চাকর-বাকরদের দাওয়াতে ধনীরা যেত না। অথচ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাধায় চড়তেন ও গোলামের দাওয়াত কবুল করতেন।) হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের প্রশংসা পছন্দ করতেন না। তাই তিনি সাহাবিদের বলতেন, তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে এমন বাড়াবাড়ি করো না, যেমন খ্রিস্টানরা ইসা ইবনে মারিয়াম (আ.)-এর ব্যাপারে করেছিল। আমি আল্লাহর বান্দা। সুতরাং তোমরা (আমাকে) আবদুল্লাহ তথা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসুল বলে সম্বোধন কর। তিরমিজি।

লেখক : মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন, খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৪৪
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:০১
    যোহরদুপুর ১২:০৫
    আছরবিকাল ১৬:২৮
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:১০
    এশা রাত ১৯:৪০
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!