বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন

বইমেলায় খণ্ডকালীন চাকরি

বইপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান শেষে বছর ঘুরে আবার আসছে বইমেলা। বইমেলা লেখক-পাঠকের মিলন মেলায় পরিণত হয়। নানা বয়সের মানুষ তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রিয় লেখকের অটোগ্রাফসহ বই নিতে হাজির হন প্রাণের এই বইমেলায়।

প্রতি বছর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হয়ে মেলা চলে মাসব্যাপী। যেহেতু হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন আছে তাই ছাপাখানা আর প্রকাশনাগুলোতে এখন বিরামহীন প্রস্তুতি চলছে। মেলাকে কেন্দ্র করে দেশ এমনকি দেশের বাইরের বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হয় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোও সারা বছর অপেক্ষায় থাকে এই সময়ের জন্য। বইয়ের ক্রেতা আর পাঠকের হাতে প্রিয় লেখকের বই তুলে দিতে তাদের প্রস্তুতির কমতি থাকে না। বাড়তি চাপ সামলাতে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো খণ্ডকালীন জনবল নিয়োগ করে। ফলে অনেকেরই বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়, সেই সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতাও বাড়ে। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

আপনি যদি বইপ্রেমী হন আর এই এক মাস নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে বড় করে বাড়তি কিছু উপার্জন করতে চান, তবে দেরি নয়। আসুন তাহলে সংক্ষেপে জানা যাক নিয়োগ প্রক্রিয়া, সুযোগ-সুবিধাসহ অন্যান্য দরকারি বিষয়।

খোঁজ-খবর : আপনি যদি বইমেলায় কাজ করতে চান তাহলে আপনাকে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে খোঁজ-খবর নিতে হবে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক, ওয়েবসাইটে খোঁজ রাখতে হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খণ্ডকালীন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জেনে রাখা ভালো, বেশিরভাগ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে লোক নিয়ে থাকে, আবার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। তাই বইমেলায় যারা খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজ করতে চান, তাদের জন্য আবেদন করার এখনই সময়।

কোন কোন পদে কাজের সুযোগ : বইমেলায় মূলত মেলায় বিক্রয়কর্মী হিসেবে সব থেকে বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠান ক্যাশিয়ার, জনসংযোগ কর্মকর্তা ইত্যাদি পদেও জনবল নিয়ে থাকে। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করা হয়। আর এসব কর্মীর বেশিরভাগই নেওয়া হয় কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে।

যোগ্যতার যাচাই-বাছাই : বইমেলায় যেহেতু সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হয় বিক্রয়কর্মী হিসেবে, সেহেতু নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি আবেদনকারীর উপস্থাপন কৌশল, কাজ করার আগ্রহ, চাপ নিয়ে কাজ করার ক্ষমতা, বুদ্ধিমত্তা, যোগাযোগ দক্ষতা ইত্যাদি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। সেই সঙ্গে সততা, দায়িত্বশীলতাসহ নৈতিক বিষয়গুলোর ওপর নজর রাখেন।

বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা :বইমেলায় প্রকাশনা ভেদে পারিশ্রমিক ছয় হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। কথা হয় গত বছর বইমেলায় কাজ করা ইডেন মহিলা কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার রুপার সঙ্গে। তিনি একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনি বলেন, যারা বই পড়তে ভালোবাসেন তাদের জন্য বইমেলায় কাজ করা নিঃসন্দেহে আনন্দের। বইমেলায় পারিশ্রমিকের পাশাপাশি বাড়তি একটা অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়। ভালোমানের প্রকাশনাগুলো বেতনের পাশাপাশি দুপুরের খাবার, সন্ধ্যার নাশতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়। এ ছাড়া কমিশনে বই কেনার সুবিধা তো রয়েছেই।

যে ধরনের কাজ করতে হয় :৩টায় শুরু হওয়া বইমেলা চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। তবে ছুটির দিনগুলোতে সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে মেলা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলা চলাকালে বিক্রয়কর্মীদের খাওয়ার বিরতি বাদে পুরোটা সময়ই স্টলে থাকতে হয়। দোকানের বইগুলো ক্রেতার কাছে সুন্দরভাবে প্রদর্শন করতে হয়। সেই সঙ্গে পাঠক-ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দের দিকে খেয়াল রাখতে হয়।

বইমেলার এই খণ্ডকালীন চাকরির মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে বড় করতে পারেন। শিক্ষাজীবন শেষে এই ছোট ছোট অভিজ্ঞতা আপনাকে স্থায়ী চাকরিতে অনেক সাহায্য করবে। পাশাপাশি পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে এসে কীভাবে কাস্টমারদের খুশি করতে হয় এবং কীভাবে দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা যায়, সেসব বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৫:১০
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:২৭
    যোহরদুপুর ১২:১২
    আছরবিকাল ১৬:২০
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৫৭
    এশা রাত ১৯:২৭
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!