রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ১২:০৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের তাবলিগ সংকট নিয়ে পাকিস্তানি আলেমদের বক্তব্য

তাবলিগ জামাতের চলমান সংকট নিরসনে তাবলিগের মুরব্বীদের কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন পাকিস্তানের শীর্ষ আলেমরা।

পাকিস্তানের খ্যাতিমান ২৬ জন আলেম ভারতের তাবলিগের প্রধান মারকাজ নিজামুদ্দিন, পাকিস্তানের রায়েবেন্ড, বাংলাদেশের কাকরাইলের মুরব্বিদের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

গত রোববার পাকিস্তানের শীর্ষ আলেমদের স্বাক্ষরিত এ চিঠি তিনটি মারকাজে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা যায়। তাবলিগের চলমান সংকট নিরসনে কার্যত উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্যই এ চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে অতীতের সব ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে, সমস্যা সমাধানে শুধু আল্লাহর জন্য এক জায়গায় একত্রিত হওয়ার আহ্বান করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সম্প্রতি যে দুঃখজনক ও লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে, এতে করে আমাদের তাবলিগ নিয়ে শঙ্কা আরো বেড়ে গিয়েছে। কখনো কল্পনাও করতে পারিনি, দীনদারগণ এভাবে দু’দলে বিভক্ত হয়ে রক্তারক্তি কান্ড ঘটাবে।

তাবলিগের উভয় দলের মুরব্বিগণ সব মত আর দাবিগুলোকে এক পাশে রেখে আমরা একটি জায়গায় বসি। এক ও নেক হতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। তাহলেই এর সমাধান সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।’

যদি দু পক্ষের একতাবদ্ধ হওয়া সম্ভব না হয় ,তাহলে আলাদাভাবেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পাকিস্তানের আলেমগণ।

‘আমাদের মূল আবেদন হলো ইখলাস, ইসার, লিল্লাহিয়্যত ও তাওয়াজুর ভিত্তিতে উভয় দল সংকট নিরসনে অবশ্যই কোনো না কোনো রাস্তা বের করবেন। কিন্তু যতক্ষণ না উভয় দলের কোনো সমন্বয় না হয়, আমরা আশা করবো উভয় দল তাদের নিজেদের জায়গায় নিজেদের মত করে দীনের কাজ করে যাবে। এক দল অন্য দলের সঙ্গে বিরোধ করতে যাবে না।

উভয় দলের মুরব্বিদের প্রতি আমাদের আবেদন তারা যেনো তাদের অনুসারিদের খুব গুরুত্বের সঙ্গে এ কথা বলে দেয়, তারা অন্য দলের সম্পর্কে দোয়া ছাড়া আর কোনো মন্তব্য না করে। বিশেষ করে ঝগড়া সৃষ্টি করে এমন কোনো কথা বা আলোচনা যেনো তারা না করে।

কোনো জায়গায় যদি কোনো দলের আধিক্য বেশি হয়, বা তাদের মারকাজ নির্মাণ করে সেখানে অন্য দল জোর করে ঢুকতে চেষ্টা থেকে বিরত থাকবে। আর যদি এমনই বিরোধ চলতে থাকে তাহলে দাওয়াতের মেহনত পৃথিবীর মানুষের কাছে জঘণ্যতম হয়ে ওঠবে।’

মুফতি রফি উসমানী, মুফতি তাকী উসমানীসহ পাকিস্তানের শীর্ষ আলেমগণ এ আহবান জানান।

প্রসঙ্গত তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অংশদারিত্বের বিষয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বীগণ।

তাবলিগের বর্তমান আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভির নেতৃত্রের বিরোধীতা করে কয়েকজন মুরব্বী নিজামুদ্দীন মার্কাজ ত্যাগ করলে বিভক্তি স্পষ্ট হয়। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই ছড়িয়ে পড়ে বিভক্তি। তাবলিগ জামাতের বাংলাদেশের প্রধানকেন্দ্র কাকরাইল মসজিদের দায়িত্বশীলদের মধ্যেও মতানৈক্য ছড়িয়ে পড়ে।

১১ জন শুরা সদস্যের মধ্যে ৬ জন নিজামুদ্দীন মারকাজ ও মাওলানা সাদের পক্ষে অবস্থান নিলেও বাকী ৫ জন তার বিরোধীতা করেন। হেফাজতপন্থী আলেমগণ তাদের সঙ্গে যুক্ত হলে বাংলাদেশেও বিষয়টি নিয়ে উত্তাপ ছড়ায়। এ অংশের বাধায় তাবলিগের কেন্দ্রীয় আমির মাওলানা সাদ ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারেননি।

২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা সংশয়। সংকট নিরসনে আগামি ২২ জানুয়ারির মধ্যে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে উচ্চতর একটি প্রতিনিধিদল ভারতের দেওবন্দ সফরের কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিদল যাওয়ার প্রাক্কালে দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ জানালো, তাবলিগের বিবাদমান কোনো পক্ষের সঙ্গেই তারা নেই।

দেওবন্দে তাবলিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ

তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ দুই গ্রুপের কারো সঙ্গেই সম্পর্ক রাখবে না বলে ফের জানিয়ে দিয়েছে। আজ ১৭ জানুয়ারি দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

দেওবন্দে জারি হওয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দ্বীনের প্রচার, ইসলামের দাওয়াত আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু তাবলিগের পারস্পরিক দ্বন্দ্বে সৃষ্ট ফিতনা থেকে দারুল উলুমকে রক্ষার জন্য দারুল উলুমের দায়িত্বশীলরা প্রথম থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দারুল উলুমের প্রতিটি ছাত্র উভয় দল (সাদ- শুরা) থেকে সম্পর্কহীন থাকবে। এজন্য ছাত্ররা দারুল উলুমের অভ্যন্তরে বহিরাগত বা ভিতরগত কোনও তাবলিগি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে না।’

দারুল উলুমের ভেতরে মাদ্রাসা ছাত্র বা বহিরাগত কারোই তাবলিগী কাজ করা যাবেনা ঘোষণা দিয়ে এ নির্দেশ অমান্য করলে ছাত্রদের কঠোর শাস্তির হুশিয়ারিও দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, তাবলিগের চলমান এ সঙ্কটের প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের আগস্টে দারুল উলুম দেওবন্দ ঘোষণা করে, বিবেদ না মেটা পর্যন্ত দারুল উলুমের ভেতর তাবলীগের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। মূলত তাবলিগ বিষয়ে দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেছে। তাবলিগের বিবাদমান কোনো পক্ষকেই তারা সমর্থন দেননি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৩:৪১
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:১১
    যোহরদুপুর ১১:৫৯
    আছরবিকাল ১৬:৩৯
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:৪৭
    এশা রাত ২০:১৭
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!