বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ

।।মো. মোমিনুল ইসলাম।।

যে কোনো দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো এনার্জির পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা। দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের সঙ্গে এর সরাসরি যোগসূত্র বিদ্যমান। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ এনার্জির বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করতে শিখেছে। বর্তমান বিশ্বে এনার্জির যেসব উৎস ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি ইত্যাদি।

আন্তর্জাতিক বাজারে জীবাশ্ম জ্বালানির (তেল-গ্যাস-কয়লা) মূল্য সংক্রান্ত জটিলতাসহ ভবিষ্যতে এ ধরনের জ্বালানির প্রাপ্তিজনিত অনিশ্চয়তা আজ আর অজানা নয়। অধিকন্তু এর ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন প্রকার পরিবেশ দূষণসহ প্রচুর পরিমাণে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধ এবং একে একটি সহনীয় পর্যায়ে (১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) নামিয়ে আনা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কারণে সংশ্নিষ্ট সবাই এমন জ্বালানি উৎসের সন্ধানে বাধ্য হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব এবং দূর ভবিষ্যতেও যার ঘাটতি দেখার কোনো আশঙ্কা নেই। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে, যদিও এই জাতীয় জ্বালানি ব্যবহারে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা রয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় এমন একটি বিদ্যুতের উৎস রয়েছে, যা ব্যবহারের মাধ্যমে এসব সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা অতিক্রম করা সম্ভব। আমি পারমাণবিক বিদ্যুৎ শক্তির কথাই বলছি। যদিও জানি যে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে অনেকের মনে শঙ্কা ও প্রশ্ন রয়েছে। এটা অজানা নয়, পরমাণু শক্তির সাহায্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। সেই একই শক্তি বর্তমানে মানবকল্যাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহূত হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা শাস্ত্র, মহাকাশ গবেষণাসহ নানা শিল্প।

বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনে পরমাণুর ব্যবহার শুরু হয়েছে গত শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকেই। আর্থিক লাভ ও পরিবেশগত সুবিধাদি বিবেচনায় এ প্রযুক্তি বিভিন্ন দেশে যথেষ্ট জনপ্রিয়তাও লাভ করে। এখানে উল্লেখ্য, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কোনো গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরিত হয় না এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম চলাকালীন কোনো তেজস্ট্ক্রিয়তা পরিবেশে ছড়াতে পারে না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং সর্বশেষ জাপানে সংঘটিত দুর্ঘটনার কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক মনোভাব পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে খুব দ্রুত এর সমাধানও বের করে ফেলেন। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক প্রাধান্য পায় এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত হতে থাকে। তাই আধুনিক প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যে কোনো সময়ের তুলনায় সর্বাধিক নিরাপদ এবং এগুলোতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। ফলে আগে পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী অনেক দেশসহ নতুন অনেক দেশ এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকতে থাকে।

বর্তমানে পৃথিবীতে ৩০টিরও অধিক দেশে ৪৫০ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। সেগুলো থেকে উৎপন্ন বিদ্যুতের পরিমাণ পৃথিবীতে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের প্রায় ১২ শতাংশ। বর্তমানে সর্বাধিক সংখ্যক পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, যার সংখ্যা ৯৯। ফ্রান্সে ৫৮টি, জাপানে ৪২টি, চীনে ৩৯টি, রাশিয়ায় ৩৭টি এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২২টি। ১৪টি দেশে আরও ৬৫টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন। ২০২৫ সাল নাগাদ ২৭টি দেশে ১৭৩টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশসহ পরমাণু বিশ্বে একেবারেই নবাগত দেশগুলোতে নির্মাণাধীন বা পরিকল্পনাধীন রয়েছে ৩০টির বেশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

আমাদের দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৬১ সালে। তৎকালীন পটভূমিতে এটি ছিল অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর প্রকল্পটি অনুমোদিত হওয়া সত্ত্বেও অজ্ঞাত কারণে এর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নতুন করে উদ্যোগ নেন। ২০০১ সালে Bangladesh Nuclear Power Action Plan অনুমোদিত হয়। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকার একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা প্রদান করে এবং ২০১০ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব সংসদে অনুমোদিত হয়।

সরকার ‘ভিশন-২০২১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে এবং ২০২১ সাল নাগাদ ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে, যার ১০ শতাংশ আসার কথা পারমাণবিক উৎস থেকে।

২০১০ সালে বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্পর্কিত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং ২০১১ সালে উভয় সরকারের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ সংক্রান্ত Framework Agreement স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে পাবনার রূপপুরে প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ এটমস্ত্রয়এক্সপোর্ট-এর সঙ্গে জেনারেল কন্ট্রাক্ট স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে সাত বছর। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালের অক্টোবরে উৎপাদনে যাওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব বাধ্যবাধকতা প্রতিপালন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন, রিঅ্যাক্টরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশের ভারসাম্য সংরক্ষণসহ প্রভৃতি কাজ যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কারণ এর সঙ্গে জড়িত আছে পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়টি। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টরের প্রযুক্তি বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সরকার ও সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। আর এ বিষয়টি মাথায় রেখেই রূপপুরে নির্বাচন করা হয়েছে বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে নিরাপদ ও সর্বাধুনিক রিঅ্যাক্টর- VVER-1200 (AES-2006). বিশ্বের বিভিন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলো মাথায় রেখেই রাশিয়া ৩+ প্রজন্মের অত্যাধুনিক এই রিঅ্যাক্টরের ডিজাইন করে। রাশিয়ায় নভোভরোনেঝ এবং লেনিনগ্রাদে এ ধরনের রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে এবং যেগুলো ইতিমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সফলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

VVER-1200 (AES-2006))-এ রয়েছে ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রিঅ্যাক্টরটি একটি ২০ সেন্টিমিটার পুরু উন্নতমানের ইস্পাতের নিশ্ছিদ্র শেলের ভেতর আবদ্ধ থাকে। রিঅ্যাক্টর ভবনটি ঘিরে রয়েছে পুরু আরসিসির তৈরি অত্যন্ত মজবুত দুই দেয়ালবিশিষ্ট নিশ্ছিদ্র কনটেইনমেন্ট। এর ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেও তেজস্ট্ক্রিয়তা কনটেইনমেন্টের বাইরে আসতে পারবে না। রিঅ্যাক্টরের নিচে থাকবে ‘কোর ক্যাচার’ নামে একটি ডিভাইস। দুর্ঘটনায় রিঅ্যাক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হলে এমনকি ‘কোর মেল্টডাউন’ হলে স্বয়ংক্রিভাবে সেই গলিত বস্তু ওই কোর ক্যাচারের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যাবে। ফলে সেখান থেকেও কোনো তেজস্ট্ক্রিয়তা ভূগর্ভে তথা পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। রিখটার স্কেলে ৯ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প ধারণক্ষমতা রয়েছে সর্বশেষ আধুনিক এই মডেলটির। এমনকি কোনো যাত্রীবাহী বিমানও যদি এর ওপর আছড়ে পড়ে, তবে কন্টেইনমেন্ট সে লোড নিতে সক্ষম। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল একটি কাজ। রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের যে জেনারেল কন্ট্রাক্ট আছে সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহূত ইউরেনিয়ামের বর্জ্য রাশিয়া তাদের নিজস্ব তদারকিতে রাশিয়ায় ফেরত নিয়ে যাবে। পরে এতদসংক্রান্ত একটি স্বতন্ত্র চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়।

দেশের পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সহায়তায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের দুই শতাধিক বিজ্ঞানীকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছর রাশিয়ায় বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে কয়েকটি দল কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে রাশিয়া যাচ্ছে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে। দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য সারাদেশ থেকে বাছাই করে তিন বছর মেয়াদি মাস্টার্স প্রোগ্রাম এবং ছয় বছর মেয়াদি স্পেশালিস্ট প্রোগ্রামে রাশিয়ার ‘ন্যাশনাল রিসার্চ নিউক্লিয়ার ইউনিভার্সিটি’তে বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পড়াশোনা শেষ করে তারা দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্জিত জ্ঞান ও মেধা কাজে লাগাবেন। একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ভারতও বাংলাদেশকে পরামর্শক সেবা প্রদান করার পাশাপাশি মানবসম্পদ প্রশিক্ষণে সহযোগিতা প্রদান করবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ার পরের কয়েক বছর প্রকল্পটি রক্ষণাবেক্ষণে রাশিয়া সহযোগিতা করবে। কিন্তু সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরাই নিজ দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং রিঅ্যাক্টর ডিজাইন করতে সক্ষম হবেন। দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত, বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন এবং পরিবেশ রক্ষায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেবে।

এক্সিকিউটিভ ট্রেইনি (সায়েন্টিফিক) নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি
বাংলাদেশ লিমিটেড
mominapdu48@gmail.com


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৫:১০
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:২৭
    যোহরদুপুর ১২:১২
    আছরবিকাল ১৬:২০
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৫৭
    এশা রাত ১৯:২৭
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!