শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন

আফিফ ঝড়ে অবশেষে জিতলো বাংলাদেশ

কথা ছিল সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে যাবেন। সেটি হয়নি বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়ায়। ইমার্জিং দলের হয়ে রানের মধ্যে থাকায় আফিফ হোসেন ধ্রুবকে ত্রিদেশীয় টি-টুয়েন্টি সিরিজের দলে রেখে দেন নির্বাচকরা। সুযোগ পেয়ে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত করলেন ১৯ বছরের এ তরুণ। দলের খাদের কিনারা থেকে খেললেন ২৬ বলে ৫২ রানের অসাধারণ ইনিংস। তাতে বাংলাদেশ পেল ৩ উইকেটের দারুণ এক জয়।

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে বাঁচান আফিফ। বৃষ্টির কারণে ১৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে জিম্বাবুয়ে তোলে ১৪৪ রান। জবাবে ১০ ওভারে ৬৫ রানে ৬ উইকেট হারায় টাইগাররা। শেষ ৮ ওভারে ৮০ রানের কঠিন সমীকরণ সহজেই পাড়ি দেন দুই তরুণ মিলে। মোসাদ্দেক ২৪ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। জয়ের পথে হাতে থেকে যায় দুটি বল।

একাদশ ওভারে বাঁহাতি স্পিনার শেন উইলিয়ামসকে দুটি চার ও এক ছয় মেরে ম্যাচের চিত্র বদলাতে থাকেন আফিফ। পরের ওভারে মোসাদ্দেকের টানা দুই ছক্কার চোখ রাঙানিতে দুর্বল হতে থাকে জিম্বাবুয়ে। দারুণ রসায়নে চলতে থাকে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দুই তরুণের ছুটে চলা। আফিফের বিদায়ে ৮২ রানের জুটি ভাঙার পর উইনিং শট খেলেন সাইফউদ্দিন।

টস জিতে আগে বোলিং বেছে নেয়া স্বাগতিকরা জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানদের ১৫ ওভার পর্যন্ত রেখেছিল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে। ১৫ ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশের সীমার মধ্যেই ছিল সবকিছু। কিন্তু সাকিব আল হাসানের একটা ওভারই পাল্টে দেয় হিসাব। অধিনায়কের করা ১৬তম ওভারে ৩০ রান নিয়ে টাইগারদের সামনে ১৪৫ রানের লক্ষ্য দেয় জিম্বাবুয়ে।

অথচ একটা সময় মনে হয়েছিল জিম্বাবুয়েকে অল্পরানে আটকে দিয়ে ত্রিদেশীয় টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচের টার্গেটটা আয়ত্তের মধ্যেই রাখবে বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের কাজটা সহজ করে দেয়ার জন্য যে শুরুটা তাইজুল-মোস্তাফিজরা এনে দিয়েছিলেন, সেটা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে না পারায় হিসেবটা পাল্টে যায়। ১৫ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের রান ছিল ৫ উইকেটে ৯৫। সেখান থেকে শেষ তিন ওভারে ৪৯ রান তুলে তারাই স্কোরবোর্ডে জমা করে ১৪৪।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে টস জিতে আগে বোলিং নেয়ার যুক্তি হিসেবে সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, আমাদের বোলিং বিভাগ বেশ শক্তিশালী, তাই শুরুতে উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ম্যাচের লাগামটাও টেনে ধরতে চান। জিম্বাবুয়ে ইনিংসের ১৫তম ওভার পর্যন্ত অন্তত বাংলাদেশ অধিনায়কের কথা খাপেখাপ মিলে যায়! কিন্তু তারপরই বিপত্তি। প্রথমে মাসাকাদজা এবং পরে রায়ান বুর্ল।

সাকিবের প্রথম ওভারে ৭ রান নিয়ে অবশ্য ইঙ্গিতটা অন্যরকম দিয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার। কিন্তু অভিষেক টেস্টের মতো টি-টুয়েন্টির অভিষেকেও তাইজুল যে বাজিমাত করবেন সেটা তো জানাই ছিল না তাদের। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম এবং নিজের অভিষেক ম্যাচের প্রথম বলে উইকেট তুলে রেকর্ড গড়ে ফেলেন বাঁহাতি স্পিনার।

তাইজুলের সামান্য টেনে দেয়া বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিসটাইমিং। সহজ ক্যাচ লুফে তাইজুলকে রেকর্ড বুকে নাম লেখাতে সাহায্য করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশকে ভোগানো সফরকারীদের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেলর এদিন পৌঁছাতে পারেননি দুই অঙ্কেও (৬)।

তাইজুল ছুঁয়ে দেয়ার পর যেন জিম্বাবুয়ে ব্যাটিং অর্ডারের খুঁটি আর জোরই পাচ্ছিল না। প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে লড়লেন শুধু হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। ক্যারিয়ারের শেষ সিরিজ খেলতে নামা জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ভালোই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে যতটা দরকার ততটা আগ্রাসী হতে পারেননি। ২৬ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৩৪ রান করতেই থামতে হয় তাকে। টপঅর্ডারে আর একজনই কেবল দুই ডিজিটের ঘরে যান, ক্রেইগ আরভিন (১১)।

তাইজুলের দেখানো পথে হেঁটে সফল হন মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও। আঁটসাঁট লাইনে বোলিং করে সাকিব ছাড়া প্রত্যেকেই ঝুলিতে ভরেন একটি করে উইকেট। সঙ্গে ফিল্ডারদের দুর্দান্ত ফিল্ডিং। সাব্বির রহমান যেমন চোখ ধাঁধানো ক্যাচ ধরেন, তেমনি সাকিব-মোস্তাফিজের যুগলবন্দীতে আসে রানআউটও।

এই অবস্থায় ১৬তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন সাকিব। প্রথম বল থেকেই তার ওপর চড়াও হন বুর্ল। প্রতিটি বল বাউন্ডারি ছাড়া করে তুলে নেন ৩০টি রান। যার মধ্যে সমান তিনটি করে চার ছক্কার মার। সাকিবের এক ওভার পর মাঠে শুরু হয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকার আবার শুরু হয়। বাকি শেষ ওভারে মোস্তাফিজ দেন ৮ রান। তাতে জিম্বাবুয়ের ফাইনাল স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৪৪।

জিম্বাবুয়ে দলের ব্যাটিং নায়ক রায়ান বুর্ল শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে পাঁচ চার ও চার ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৫৭ রানে। তাকে সঙ্গ দেয়া টিনোটেনডা মুটোমবোজি ২৬ বলে করেন ২৭ রান। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৮১ রান করে অবিচ্ছিন্ন থাকেন দুজন।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৩৯
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৫৭
    যোহরদুপুর ১১:৪৪
    আছরবিকাল ১৫:৫৩
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৩০
    এশা রাত ১৯:০০
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!