শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯, ০২:৩০ অপরাহ্ন

বাগাতিপাড়ায় অরক্ষিত ৯ লেভেল ক্রসিং, নেই গেটম্যান!

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ৯টি লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত রয়েছে। ক্রসিংগুলো দিয়ে ঝুঁকিতে চলাচল করছে যানবাহন ও লোকজন।

উপজেলার মালঞ্চি-নাটোর ও আব্দুলপুর-রাজশাহী রুটের রেলপথে ১০টি ক্রসিংয়ের মধ্যে ৯টিতেই কোনো গেটম্যান নেই।

৯ রেল ক্রসিংগুলো হলো- উপজেলার ইয়াছিনপুর, স্বরূপপুর, ঠেঙ্গামারা, বড়পুকুরিয়া, মাড়িয়া নিংটিপাড়া, মাড়িয়া, হাড়ডাঙ্গী, মালিগাছা ও গাঁওপাড়া।

ওইসব রেলগেটে একদিকে যেমন গেটম্যান নেই, তেমনি রাখা হয়নি কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা।

ফলে ওইসব উন্মুক্ত রেলগেট দিয়ে যানবাহন এবং লোক চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ঘটছে প্রাণহানি।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সীমানার মধ্যে মালঞ্চি ও লোকমানপুর নামে দুটি রেলস্টেশন রয়েছে। উপজেলার মাঝ বরাবর আব্দুলপুর থেকে পার্বতীপুর অভিমুখে মালঞ্চি রেলস্টেশন এবং আব্দুলপুর থেকে রাজশাহী অভিমুখে রয়েছে লোকমানপুর রেলস্টেশন। মালঞ্চি স্টেশনের দুই পাশে রয়েছে ৫টি লেভেল ক্রসিং।

এর মধ্যে মালঞ্চি রেলগেট ছাড়া কোনোটিতেই গেটম্যান নেই। আর লোকমানপুর স্টেশনের দুই পাশের ৫টি লেভেল ক্রসিংয়ের সবগুলোই অরক্ষিত।

ওই সব রেলগেট ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহন এবং লোকজন ওইসব পথে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সাধারণ পথচারী ছাড়াও ওইসব পথের বেশ কয়েকটি দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা চলাচল করে। মোট দশটির মধ্যে মালঞ্চি রেলগেটে রয়েছে অনুমোদিত গেটম্যান। আর বাকি সব রেলগেটগুলো উন্মুক্ত।

রেলগেট সংলগ্ন এলাকাবাসীরা জানান, বছর চারেক পূর্বে ইয়াছিনপুর রেলগেট পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় ভটভটির দুর্ঘটনায় নববধূসহ ৩ জন নিহত হয়।

বড় পুকুরিয়া রেলগেটে পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় তিন বছর আগে মৃত আতাহার আলী সরকারের ছেলে রাজ্জাক আলী সরকার নামে একজন নিহত হন।

মাড়িয়া নিংটিপাড়া রেলগেটে চিথলিয়া গ্রামের ফজিলা নামে এক গৃহবধূ ট্রেনে কাটা পড়েন। মাড়িয়া রেলগেটে গরু নিয়ে পারাপারের সময় ধাক্কায় মকছেদ নামে এক কৃষকসহ ওই রেলগেটে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রায় সাতজন নিহত হয়েছেন।

হাড়ডাঙ্গী রেলগেটসংলগ্ন চা দোকানদার জমসেদ জানান, বছর খানেক পূর্বে তার চোখের সামনে পারাপারের সময় এক ট্রলি চলন্ত ট্রেনের ধাক্কা খায়। তাতে থাকা চালকসহ অন্যরা ছিটকে পড়েন। এতে মৃত কুরবান আলী সরকারে ছেলে আব্দুল খালেক সরকার নামে একজন মারা যান। এছাড়া ওই গেটে প্রায় প্রতিবছরই যানবাহনসহ পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হন।

এছাড়াও এসব রেলগেট পারাপারের সময় নসিমন, খাবারের গাড়ি, সাংবাদিকদের মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন যান রেলের ধাক্কা খেয়েও বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়ার তথ্য মিলেছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ এসব রেলগেটে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাদের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হতে হচ্ছে।

অটোচালক আজিজুর রহমান জানান, রাতে ট্রেনের আলো দেখে ওইসব রেলগেটের ওপর দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হয়। কিন্তু দিনে ট্রেন আসছে কিনা তা বোঝা যায় না। ফলে রেলগেটে গাড়ি থামিয়ে দু’পাশ দেখে পারাপার হতে হয়।


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!