রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

বাঘাইছড়িতে শিগগিরই যৌথ বাহিনীর অভিযান

নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ব্রাশফায়ারে হতাহতের ঘটনায় দায়ীদের ধরতে শিগগিরই যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ। সাতজন নিহত ও ২৬ জন আহতের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি। এদিকে, মঙ্গলবার নিহত ব্যক্তিদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।

সোমবার বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচনে সাজেকের কংলাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষে সদরে ফেরার পথে দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের ৯ কিলো এলাকায় একদল দুর্বৃত্তের ব্রাশফায়ারে সহকারী পোলিং অফিসার ও আনসার-ভিডিপি সদস্যসহ সাতজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২৬ জন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ১৬ জনকে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সিএমএইচে আহতদের দেখতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এদিকে, ঘটনার একদিন পরও বাঘাইছড়ি উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সব ধরনের দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। লোকজন আতঙ্কে ঘর থেকে বের হননি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি ফয়েজ আহমেদ, জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার আলমগীর কবিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ জানান, এ ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তীকে কমিটির প্রধান এবং রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে বিভাগীয় কমিশনার মঙ্গলবার বিকেলে এ কমিটি গঠন করে দেন। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটিতে পুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় সম্পৃক্ত সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি আরও জানান, নিহতের দাফনের জন্য প্রতি পরিবারকে ২০ হাজার টাকা ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চাকরি দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

লাশ হস্তান্তর : মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ছয়জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা হলেন- শিক্ষক আমির হোসেন, ভিডিপির প্লাটুন কমান্ডার মিহির কান্তি দত্ত, ভিডিপি সদস্য জাহানারা বেগম, বিলকিছ বেগম, আল আমিন ও চাঁদের গাড়ির হেলপার মিন্টু চাকমা। তবে শিক্ষক আবু তৈয়বের লাশ এখনও আনা হয়নি।

নিহতের স্বজনদের বক্তব্য : ভয়াবহ এ ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া আনসার সদস্য হাবিবুর রহমান ও মো. হানিফ বলেন, চোখের সামনে সহকর্মীরা মারা গেছেন। এ ঘটনা কেমনে ভুলি। তারা বলেন, গুলিবর্ষণ শুরু হলে তারা গাড়িতে শুয়ে পড়েছিলেন। তখন অন্ধকার ছিল। কোন দিক থেকে গুলি আসছিল, বুঝতে পারছিলাম না। তবে শব্দ শুনে গাড়িতে শুয়ে পড়ায় প্রাণে বেঁচে গেছি।

নিহত আবু তৈয়বের বড় ভাই আবু তাহের জানান, আবু তৈয়ব ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ঘরে তার দেড় ও দুই বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে? তিনি দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।

প্রতিবাদে বিক্ষোভ : মঙ্গলবার বিকেলে বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। এতে বক্তব্য দেন নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল কায়ুম, স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল জলিল, আবছার উদ্দীন প্রমুখ। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পার্বত্য নাগরিক কমিটির নিন্দা : ব্রাশফায়ারে হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন পার্বত্য নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান। যারা এ জঘন্য ও অমানবিক অপরাধ সংঘটিত করেছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

ইউপিডিএফের নিন্দা ও প্রতিবাদ : মঙ্গলবার ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘ঘটনাস্থল ইউপিডিএফ সমর্থক অধ্যুষিত হওয়ায় কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম দলটিকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছে। এ ধরনের অবিবেচনাপ্রসূত বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। হামলার মোটিভ ও যৌক্তিকতা বিচার না করে কেবল হীন উদ্দেশ্যে ইউপিডিএফের ওপর দায় না চাপাতে এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ৬ জন : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত ছয়জনকে মঙ্গলবার বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ২৪ পদাতিক ডিভিশনের অধিনায়ক মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান। তারা হলেন- রাঙামাটির বাঘাইছড়ির মারষ্যা এলাকার মিজানুর রহমান, জাফর ইকবাল, দুরছড়ি এলাকার গুলিবিদ্ধ ফুল কুমারী, সরিষ্যা এলাকার মো. মামুন, মাহবুবুল আলম, সাজেক এলাকার সাদ্দাম হোসেন ও বাঘাইছড়ির নিরু বিকাশ চাকমা।

মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এই ছয়জনকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন আহতদের আর কারও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাদেরও ঢাকায় পাঠানো হবে।

খাগড়াছড়িতে বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল :খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, বাঘাইছড়ি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবিতে বুধবার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ (পিবিসিপি)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে বৃহত্তর পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাঈনউদ্দিন জানান, একই ইস্যুতে তারাও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:১২
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৩৩
    যোহরদুপুর ১১:৫৭
    আছরবিকাল ১৬:৩১
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:২২
    এশা রাত ১৯:৫২
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!