রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন

বিএনপির দুরবস্থার অন্তরালে

।। মহিউদ্দিন খান মোহন।।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে দেড় সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। ফলাফলের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথও নিয়েছেন। টানা তৃতীয়বার এবং মোট চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভাও। এটি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের এক অনন্যসাধারণ সাফল্য। প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিকে ‘নাস্তানাবুদ’ করে সাফল্যের ফসল ঘরে তুলেছেন তিনি। রাজনীতি যদি কৌশলের খেলা হয়, তাহলে মেনে নিতেই হবে- শেখ হাসিনা সে খেলায় অনেক গোলের ব্যবধানে জিতে গেছেন। তা সে যে কায়দাতেই হোক। সেই সঙ্গে এটাও মেনে নিতে হবে যে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কৌশলের কাছে বিএনপি অসহায়ের মতো পরাভূত হয়েছে। দীর্ঘদিনের ভুল রাজনৈতিক কৌশল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকটি বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত এ পরাজয়ের মূল কারণ- এ কথা বলছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের ‘কারচুপি’ ও পেশিশক্তি ব্যবহারের অভিযোগ আমলে নিলেও বলতে হয়, সেটা মোকাবেলার কোনো প্রস্তুতি বিএনপির ছিল না। অন্তত তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার হাল দেখে সেটাই অনুমান করা গেছে।

নির্বাচনকালীন বিএনপির কর্মকাণ্ডে দলটির সাংগঠনিক অগোছালো অবস্থা আর অস্পষ্ট থাকেনি। মনোনয়ন পেতে যারা উদগ্র ছিলেন, নির্বাচনী মাঠে তারা ততটা সিরিয়াস ছিলেন না। সহজেই প্রতিপক্ষকে মাঠ ছেড়ে দিয়েছিলেন তারা। ফলে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা সহজেই দখলে নিতে পেরেছিলেন নির্বাচনী ময়দান। এ নির্বাচনে বিএনপি জিতবে এবং সরকার গঠন করবে- এটা দলটির কতিপয় অতিআত্মবিশ্বাসী কর্মী-সমর্থক ছাড়া কেউই ভাবেননি। কেননা, সরকার যেভাবে আগে থেকেই পরিকল্পনার জাল বিছিয়ে বিএনপিকে হীনবল করে রাখার চেষ্টা করে আসছিল, তাতে তারা যে ঠিকভাবে নির্বাচন করতে পারবে না- এটা বোঝা গিয়েছিল। তাই বলে সংসদে সম্মানজনক আসন তারা পাবে না- এটা কারও ধারণায় ছিল না। অথচ বাস্তবে তাই ঘটেছে। কেন হলো এমন বিপর্যয়? কেন বিএনপি ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কোথাও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারল না? এক কথায়, এর জবাব দেওয়া কঠিন। তবে বিগত বছরগুলোতে বিএনপির কর্মকাণ্ডের দিকে তাকালে ক্রমান্বয়ে দলটির দুর্বল হয়ে আসার কারণগুলো অস্পষ্ট থাকে না।

মূলত ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময় থেকেই বিএনপির বিপর্যয় শুরু। ২০০৭ সালের ২৫ জুন তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া যে সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করেন, কার্যত সেটা ছিল বিএনপি থেকে খালেদা জিয়া তথা জিয়া পরিবারকে মাইনাস করার একটি উদ্যোগ। খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার আগে আবদুল মান্নান ভূঁইয়াকে মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি এবং দল থেকে বহিস্কার করে স্থায়ী কমিটির সদস্য খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে মহাসচিব নিযুক্ত করেন। বিএনপির চরম দুঃসময়ে দায়িত্ব পেয়ে তা বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। তিনি যদি দৃঢ় হাতে দলের নেতৃত্ব দিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ না রাখতেন, তাহলে বিএনপির ইতিহাস আজ অন্যরকম হতো।

এর পর থেকে বিএনপি আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ওয়ান-ইলেভেনে যে ফাটল দলটিতে সৃষ্টি হয়েছিল, তা আর মিশে যায়নি। কেন্দ্র থেকে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত বিভেদের একটি প্রাচীর দলটিকে দুর্বল থেকে দুর্বলতরই করেছে। বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এর নড়বড়ে সাংগঠনিক কাঠামো। লক্ষণীয় হলো, গত ১২ বছরে দলটি কোনো সিদ্ধান্তই শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বেশ কয়েকবার সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস ও দলকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে দলটির দুটি কাউন্সিল অধিবেশন হয়েছে। একটি ২০০৯ সালে, অপরটি ২০১৬ সালে। দুটি কাউন্সিলেই তৃণমূল কর্মীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। বিপুল আয়োজনে কর্মীদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কাউন্সিল সমাপ্ত হলেও নতুন কমিটি গঠনের সময় অভিযোগ ওঠে পদবাণিজ্যের। শীর্ষ পর্যায়ে আছেন এমন কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে অর্থের বিনিময়ে পদ বিক্রির। আর এ অভিযোগ দুটি কাউন্সিলের সময়েই উঠেছে। এ সময় দলের নেতাদের চেয়ে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী হয়ে ওঠেন অতিশয় ক্ষমতাধর। তারা নিজেদের মর্জিমাফিক দলকে পরিচালনা করতে থাকেন চেয়ারপারসন ও লন্ডনে অবস্থানরত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার বাতাবরণে। ফলে দলের অভ্যন্তরে সৃষ্টি হয় সুস্পষ্ট দুটি বলয়। একটি নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে ঘিরে নেতাকর্মীদের একটি অংশ; অপরটি চেয়ারপারসনের অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট। এসব নিয়ে পত্রপত্রিকায় বহু খবর বেরিয়েছে; টিভি টক শোতে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের টনক নড়েনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই সময় বিএনপির যেটি ছিল প্রধান কাজ, সেদিকে দলটির নেতারা নজরই দেননি। দলটির ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তার কথা অনেকেই বলেছেন। কিন্তু সে কাজটি আর করা হয়নি। ২০১৬ সালের কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল- একজন নেতা একাধিক পদে থাকতে পারবেন না। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি এখনও অপূর্ণাঙ্গ রয়েছে জাতীয় নির্বাহী কমিটি। পাশাপাশি এখনও বেশ কয়েকজন নেতা একই সঙ্গে একাধিক পদ দখল করে আছেন। সবচেয়ে অবাক কাণ্ড, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ছাড়াই দলটি গত ১০ বছর ধরে চলছে। এখন দপ্তর চালাচ্ছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তালিকায় দপ্তর সম্পাদকের পদটি শূন্যই আছে। ২০১৬ সালের কাউন্সিলের পাঁচ মাস পর যে জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়, তাতে ব্যাপক পদবাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে। সে সময় অনিয়ম-বঞ্চনার শিকার বেশ কয়েকজন নেতার দল থেকে পদত্যাগের ঘটনাও ঘটে। কেউ কেউ হয়ে যান নিষ্ফ্ক্রিয়। এসব কারণে বিএনপি উঠে দাঁড়ানোর পরিবর্তে আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অনড় থেকে বিএনপি সে নির্বাচন বর্জন করে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অনেকের মতে, ওই নির্বাচন বয়কট করা বড় ধরনের ভুল ছিল বিএনপির। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপের আমন্ত্রণে খালেদা জিয়ার সাড়া না দেওয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না বলে অনেকে মনে করেন। আর যারা সে নির্বাচন বয়কটকে সমর্থন করেছিলেন. তাদের বক্তব্য হলো- নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি যদি তা ঠেকিয়ে দিত পারত, তাহলে ইতিহাস অন্য রকম হতো। কিন্তু সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের অদূরদর্শিতার কারণে সে আন্দোলন ব্যর্থ হয়। বিএনপির আরেকটি ভয়ঙ্কর ভুল পদক্ষেপ ছিল ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে তিন মাসের লাগাতার অবরোধ। এ লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে দলটির ভেতরেই মতদ্বৈধতা ছিল। লক্ষণীয় বিষয়, দল বা জোটের কোনো রকম পূর্বসিদ্ধান্ত ছাড়াই বিএনপি চেয়ারপারসন সাংবাদিকদের উপর্যুপরি প্রশ্নের মুখে ‘অবরোধ চলবে’ বলে ঘোষণা দেন। তার পরের ইতিহাস সবারই জানা। দীর্ঘ তিন মাস খালেদা জিয়া তার কার্যালয়ে আটকে থাকলেন। আর রাস্তায় পেট্রোল বোমায় নিহত হলো শতাধিক মানুষ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতেও প্রাণ হারাল প্রায় সমসংখ্যক বিএনপি কর্মী। অপরিণামদর্শী সে আন্দোলন শেষ পর্যন্ত লাভ করে ছোটগল্পের সূত্রের মতো ‘শেষ হয়ে হইল না শেষ’-এর পরিণতি। সে সময় দেশের সর্বত্র বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে রুজু হয় হাজার হাজার মামলা। ওইসব মামলার আসামি দলটির কয়েক লাখ কর্মী পুলিশের গ্রেফতার অভিযানের হাত থেকে বাঁচতে গা ঢাকা দিতে বাধ্য হয়। এলাকা ছেড়ে আশ্রয় নেয় রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে। নেতাকর্মীরা মামলায় জর্জরিত হওয়ার ফলে বিএনপি মাঠের রাজনীতিতে হয়ে পড়ে দুর্বল।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তার সে আন্দোলন দেশবাসীর মধ্যে সাড়া জাগিয়েছিল সন্দেহ নেই। যে কারণে প্রতিষ্ঠার পর আশাতীত গতিতে দলটি ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছিল। কিন্তু আজ সেই স্বনির্ভর আন্দোলনের প্রবক্তার দলটিই যেন পরনির্ভর দলে পরিণত হয়েছে। যে জন্য চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির সুযোগে দলটি পরিচালিত হচ্ছে রহস্যময় কায়দায়। নিজেদের নেতৃত্বে ২০টি দলের সমন্বয়ে একটি বড় রাজনৈতিক জোট থাকা সত্ত্বেও গণফোরামের মতো কর্মী-সমর্থকহীন একটি দলের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টে তাদেরকে যোগ দিতে হয়েছে। তাতে কি খুব একটা লাভবান হয়েছে দলটি? এ বিষয়ে রাজনীতি বোঝেন এমন ব্যক্তিদের অভিমত নেতিবাচক। তাদের যুক্তি- বিএনপি ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে নির্বাচন করলে ফলাফল যদি এ রকম হতো, তারপরও নেতৃত্ব বিএনপির হাতে থাকত। এখন বিএনপিকে গণফোরামের অনুগামী হতে হচ্ছে। বিএনপি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, তাদের দলের নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। অথচ গণফোরাম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল সংসদে যোগ দেওয়ার। যদিও পরে তারা সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত গণফোরাম থেকে নির্বাচিত এক জোড়া সদস্য কী করবেন বলা যাচ্ছে না।

এদিকে নির্বাচনে ভরাডুবির কারণ হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ৫ জানুয়ারি যে কথা বলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নির্যাতিত জননীকে দেখতে গিয়ে সেখানে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেছেন, ‘সব নিয়ে গেছে। আপনারা কেউ বাধা দিতে পারেননি। কারণ আমরা সংখ্যায় অনেক, আবেগ অনেক। কিন্তু শৃঙ্খলা নেই। বাংলাদেশে এটাই হয়েছে। কেন পারেননি? কেন রুখতে পারছি না আমরা? কারণ আমরা শৃঙ্খলা না রেখেই যুদ্ধ করে যাচ্ছি।’ বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে দলটির দুর্বলতার একটি প্রধান কারণ বেরিয়ে এসেছে। গত দশ বছরে দলটির কর্মকাণ্ড এবং সাংগঠনিক অবস্থার দিকে তাকালেই তা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। নেতারা পদ পাওয়ার জন্য যতটা আগ্রহী, কাজ করতে ঠিক ততটাই অনাগ্রহী। আর সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক যোগ্যতা, অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় না এনে যে দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়।

বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। তারা বলছেন, যে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়েছে দলটি, তা সহসাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অবশ্য তারা এটাও মনে করেন, সঠিক নেতৃত্বের সঠিক নির্দেশনাই পারে বিএনপিকে এ মহাবিপর্যয় থেকে পরিত্রাণ দিতে। কিন্তু সে নেতৃত্ব কি সহসাই পাবে দলটি?

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্নেষক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৩:৪১
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:১১
    যোহরদুপুর ১১:৫৯
    আছরবিকাল ১৬:৩৯
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:৪৭
    এশা রাত ২০:১৭
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!