শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯, ০১:১৫ অপরাহ্ন

বিপিএল শেষ স্টিভ স্মিথের

স্টিভেন স্মিথের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আসা নিয়ে কম পানি ঘোলা হয়নি। স্রেফ তাকে আনার জন্য বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল আইন বদলেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্মিথের সেই বিপিএল পর্ব সুখকর হলো না।

কনুইয়ের ব্যথা নিয়ে দেশে ফিরে যাওয়া স্মিথের বিপিএল শেষ হয়ে গেছে বলেই জানা গেলো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) বিবৃতিতে। সিএ জানিয়েছে, মঙ্গলবারই অপারেশন টেবিলে যেতে হচ্ছে স্মিথকে।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ এখন বল টেম্পারিং কাণ্ডে নিষেধাজ্ঞায় আছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের কোনো ক্রিকেট খেলতে পারছেন না তিনি। এই নিষেধাজ্ঞার আর মাত্র মাস তিনেক সময় বাকী আছে। ঠিক এই সময়ে অস্ত্রপচার করাতে হওয়াটা এই বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের বিশ্বকাপ খেলাটাকে একটা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিলো।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, কনুইয়ের এই ইনজুরির কারণে মঙ্গলবারই তার অপারেশন করা হবে। এরপর অন্তত ৬ সপ্তাহ বন্ধনী পরে থাকতে হবে তাকে। তারপর শুরু হবে নিবিড় পুনর্বাসন।

ছয় সপ্তাহ বন্ধনী পরে থাকার মানে হলো প্রথমত বিপিএলে আর খেলতে পারছেন না কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের এই সুপারস্টার। এরপর তার মাঠে ফেরাটা দীর্ঘায়িত হলে ঝুঁকিতে পড়ে যাবে বিশ্বকাপ খেলাও। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই মুখপাত্র বলেছেন, একবার বন্ধনী খোলা হলে তবেই বলা যাবে যে, স্মিথ কতোদিনের মধ্যে মাঠে ফিরে আসতে পারবেন।

কুমিল্লার হয়ে খেলতে আসার আগে তাকে নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। অনেক নাটকের পর স্মিথকে পেয়েছিল কুমিল্লা। আসেলা গুনারত্নের বদলি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ককে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছিল দলটি। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলও অনুমোদন দিয়েছিল। পরে বাকি দলগুলো আপত্তিতে বাতিল হয়েছিল তার বিপিএলে অংশগ্রহণের অনুমোদন। আবার সাত দিন পর বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলই আইন সংশোধন করে স্মিথকে বিপিএল খেলার অনুমোদন দিয়েছিল। বিপিএলের অভিষেকে দুই ম্যাচ খেলে ১৬ রান করেছিলেন স্মিথ। প্রথম ম্যাচে ১৬ ও দ্বিতীয় ম্যাচে রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়েছিলেন তিনি।

স্মিথের এই চোটটা বেশ পুরাতন। বিপিএলে আসার পর চোটের তীব্রতা বেড়ে যায়। আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে বুধবারই দেশে ফিরে যান স্মিথ। অস্ট্রেলিয়া গিয়ে হাতের এমআরআই করান তিনি। এরপর নিজস্ব ফিজিওকে দেখিয়েছেন। কুমিল্লার আশা ছিল, এমআরআই রিপোর্ট ভালো হলে স্মিথ দ্রুত ফিরে আসবেন। কিন্তু বলাই বাহুল্য যে, সে আশা পূরণ হচ্ছে না।

গত মার্চে কেপ টাউন টেস্টে বল টেম্পারিং কাণ্ডে অধিনায়ক স্মিথ, সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ও বল টেম্পারিং করা ব্যানক্রফট নিষিদ্ধ হন। এর মধ্যে স্মিথ ও ওয়ার্নারের নিষেধাজ্ঞার শেষ দিকে চলে এসেছিলেন তারা। দুজনেরই আশা ছিল, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা। আর ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে শুরু হবে বিশ্বকাপ।

কিন্তু এরকম সময় বেশ লম্বা সময় মাঠের বাইরে চলে যাওয়াটা স্মিথের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে সমস্যায় ফেলে দিলো। তার পক্ষে নিজেকে প্রস্তুত করে তোলার যথেষ্ট সময় আর পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!