মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন

বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালে ফ্রান্স

বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট ম্যাচের আগে ‘মওকা মওকা’  নিয়ে যেমন শোরগোল হয়েছে। তেমনি ফ্রান্স-বেলজিয়াম ম্যাচের আগে দু’দেশের নাগরিকরা ‘টিনটিন’ এবং ‘অ্যাসতেরিক’ নিয়ে মজা করেছেন। ‘টিনটিন’ হলো বেলজিয়ামের হাস্যরসাত্মক ধারাবাহিক। আর ‘অ্যাসতেরিক’ ফ্রান্সের হাস্যরসাত্মক ধারাবাহিক। তবে দুই দেশের এই মজার মধ্যে কোন তির্যক বার্তা ছিল না। কারণ তরা ভারত-পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো কিংবা সৌদি আরব-ইরানের মতো তিক্ত সম্পর্কের প্রতিবেশি না। শান্তি প্রিয় প্রতিবেশি। আর তাই ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে হেরে বেলজিয়ামের স্বপ্ন ভঙ্গ হলেও এই ম্যাচে তিক্ততা সৃষ্টি করেনি।

রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে ফ্রান্স। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ ছিল বেলজিয়ামের সামনে। তবে তাদের সেই স্বপ্নের শেষ ধাপে উঠতে দেননি স্যামুয়েল উমতিনি। প্রথমার্ধে গোল শূন্য সমতায় পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই উমতিতির গোল এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ম্যাচের ৫১ মিনিটে হেড থেকে গোল করেন তিনি। ওই গোলেই ফ্রান্সের তৃতীয় বারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যায়।

খেলার শুরুতে অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিজেদের কাছে রেখেছিল বেলজিয়াম। নিজেদের পায়ে ৬৪ ভাগ বল নিয়ে খেলছে তারা। আক্রমণও করেছে বেশ কিছু। কিন্তু গোল করতে না পারার দোষ যদি দু’দলের ফুটবলারদের হয় তবে কৃতিত্ব দুই গোলরক্ষকের। ফ্রান্স গোলরক্ষখ হুগো লরিস যেমন দুর্দান্ত কিছু বল ঠেকিয়েছেন। তেমনি গোল ঠেকিয়েছেন কোর্তোয়া। দু’জনেই ছিলেন সেরা ফর্মে। তবে একজনকে তো হারতে হতোই। সেই কোপটা গেছে কোর্তোয়ার ওপর দিয়ে। তিনি না থাকলে আরও কিছু গোল বেলজিয়ামকে হজম করতে হতো।

 

ম্যাচের ১৯ মিনিটে হ্যাজার্ডের দারুন এক শট বারের ওপর দিয়ে হেড দিয়ে ফিরিয়েছেন ভারানে। এরপর আন্ডারইউলেডের দারুণ এক শট ফিরিয়ে দিয়েছেন ফ্রান্স গোলরক্ষক লরিস। ফ্রান্স অবশ্য এমবাপ্পের ঝলক দেখেছে। দুর্দান্ত গতি দিয়ে ক’বার তিনি বেলজিয়াম শিবিরে ঢুকে পড়েন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন সুযোগ কাজে লাগাতে। সতীর্থদের উদ্দেশ্যে ভালো কিছু বলও পাস দিয়েছেন এমবাপ্পে।

কিন্তু জিরুদ, প্যাভার্ড, গ্রিজম্যানরা তা থেকে গোল করতে পারেননি। তবে ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগটি প্যাভার্ড পান ৩৯ মিনিটে। শঠটিও তিনি নেন ভালো। কিন্তু বেলজিয়াম গোলরক্ষকের পায়ে লেগে গোল বঞ্চিত হয় ফ্রান্স। তাতে প্রথমার্ধে সমতায় শেষ হয়। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৮১ মিনিটে উইটসেলের ভালো একটি শট পাঞ্চ করে ফেরার লরিস। ব্রুইনি-লুকাকুরা অবশ্য আরও কিছু সুযোগ পেয়েছে কিন্তু তা থেকে সমতায় ফিরতে পারেনি। অন্যদিকে ম্যাচের ৯৩ মিনিটে গ্রিজম্যানের এবং ৯৬ মিনিটে টলিসোর শট ঠেকিয়ে হারের ব্যবধানটা বাড়তে দেননি বেলজিয়াম গোলরক্ষক কোর্তোয়া।

এ জয়ে ফ্রান্স আগামী ১৫ জুলাই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে হওয়া ফাইনালে উঠে গেছে। তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে আগামী বুধবার ক্রোয়েশিয়া এবং ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ থেকে। এছাড়া ফ্রান্সের কাছে হেরে যাওয়া বেলজিয়াম আগামী ১৪জুন সেন্ট পিটার্সবার্গে তৃতীয় নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে। তাদের প্রতিপক্ষ হবে ক্রোয়েশিয়া এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে পরাজিত দল।

 


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!