শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

বেড়ায় জেলেদের জন্য নেই সরকারি সহায়তা- থেমে নেই ইলিশ ধরা

বেড়া প্রতিনিধি : ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা ও বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় বেড়া উপজেলার কয়েক হাজার মৎস্যজীবি পরিবার নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে।

অভাব ও দুঃখকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছে এসব পরিবারের সদস্যরা। ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকালে সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকার জেলেদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাল সহায়তা দিচ্ছে।

পাবনা বেড়া উপজেলার জেলেদের জন্য এ ধরনের কোনো বরাদ্দ নেই বলে জানান মৎস্য অফিসার। ফলে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকাকালে জেলেদের চরম কষ্টে দিন কাটছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেড়া উপজেলার দশটি ইউনিয়নের বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া-নাকালিয়া, মাছখালি, ঘিওর, রাকশা, নগড়বাড়ি এলাকা মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার মৎসজীবি পরিবার রয়েছে যারা ইলিশ আহরোণ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।

তাদের বিকল্প কোন আয়ের উৎস নেই। ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুমে ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এসময় মাছ আহোরণ ও বাজারজাতকরণ সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।

মৌসুম শুরুর আগেই বেশিরভাগ জেলে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জাল কেনে। কিন্তু এই সময়ে আয় না থাকলেও তাদের কিস্তির টাকা শোধ করতে হচ্ছে।

সরেজমিন ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যদের নৌকাপ্রতি নির্ধারিত হারে উৎকোচ দিয়ে নদীতে মাছ ধরার অনুমতি কার্ড মিলছে। এ অবস্থায় সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে অনেক জেলেই মাছ ধরতে নদীতে নামছে।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী বেড়া উপজেলায় তালিভূক্ত মৎস্যজীবির সংখ্যা তিন হাজার ছয় শ ৩৪ জন। তবে উপজেলার কয়েকটি মৎস্যজীবি সমিতির হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা পাঁচ হাজারেরও বেশি।

মৎস্য কর্মকর্তা ও মৎস্যজীবিদের মতে শুধু অভিযান পরিচালনা করেই ইলিশ ধরা বন্ধ করা যাবে না। বরং ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকালে উপজেলার জেলেদেরকে সরকারি সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা হলে ইলিশ ধরা অনেক কমে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মালদাহপাড়া গ্রামের এক মৎস্যজীবি বলেন, ‘পাচ্ছি না কোন সরকারি সহায়তা মাছ না মারলি বাড়ির হগলে খাব কি। তাই বাধ্য হয়া অভিযানের ফাঁকফুক দিয়ে মাঝেমধ্যে নদীতে মাছ ধরা ছাড়া উপায় নাই। তাছাড়া কিস্তি তো আছেই।’

নগড়বাড়ি ঘাটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হলদার জানান, পুলিশকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে কার্ড নিছি ইউএনও স্যারের ভয়ে রাতে দিনে কখনই নদীতে নামতে পারছিনা।

এদিকে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও বেড়ার নদ-নদীতে থেমে নেই ইলিশ শিকার। ইলিশ শিকারের অভিযোগ গত ১৪ দিনে ধারাবাহিক ভাবে রাতদিন ঝুঁকি নিয়ে ইএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী’র নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে মাছ ক্রেতা-বিক্রেতা, জেলে, মহাজন সহ প্রায় ৪২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল জরিমানা করেন এবং ৩ লক্ষ ২৭ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে জনসম্মুখে বিভিন্ন স্থানে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানান মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, ‘বেড়াসহ পাবনার চার উপজেলার পদ্মা ও যমুনা নদীর অংশসমূহ ইলিশ প্রজননের কমান্ড এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। এই এলাকাসমূহে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৮৯ জন। ইলিশ ধরা বন্ধ থাকাকালে এসব জেলে বেকার হয়ে পড়েন। আমরা এসব জেলের জন্য সরকারি সহায়তা চেয়ে বার বার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখে চলেছি।’


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৫৭
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:১৮
    যোহরদুপুর ১১:৪৫
    আছরবিকাল ১৫:৩৫
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:১১
    এশা রাত ১৮:৪১
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!