রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন

বেড়ায় যমুনা নদীতে গড়ে তোলা সেই ‘অবৈধ’ নৌবন্দর গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার বেড়ায় যমুনা নদীতে গড়ে তোলা ‘অবৈধ’ নৌবন্দর ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন। বেড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বাতেন এ অবৈধ নৌবন্দর স্থাপন করেছিলেন।

সোমবার (০৯ ডিসেম্বর) সকালে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শাহ হাবিবুর রহমান হাকিমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

একটি জাতীয় গণমাধ্যমের সূত্র ধরে গত ১৩ নভেম্বর ‘বেড়া পৌরমেয়রের যমুনা নদীতে অবৈধ বন্দর- বছরে কোটি টাকা আদায়’ শিরোনামে নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সংবাদ প্রকাশের ১ মাসের মাথায় আব্দুল বাতেন এর অবৈধ নৌবন্দর গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

উল্লেখ, বেড়া পৌর এলাকার বৃশালিখায় স্থাপিত এ বন্দর থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আদায় করা হতো। মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর বাদ দিয়ে মালবাহী নৌযান এ ঘাটে নোঙর করায় বিপুল অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছিল সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নৌবন্দর পরিচালনায় একমাত্র অনুমোদিত ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

অথচ দীর্ঘদিন নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বৃশালিখায় অবৈধ নৌবন্দর পরিচালনা করে আসছিলেন বেড়ার পৌর মেয়র।

তবে বৃশালিখা ঘাটকে অবৈধ মানতে নারাজ মেয়র আব্দুল বাতেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার আইন অনুসারে ঘাট থেকে অর্জিত রাজস্ব অবশ্যই স্থানীয় সরকারকে দেওয়া হতো।

মেয়র আব্দুল বাতেন দাবী করে বলেন, যেহেতু বৃশালিখা ঘাট পৌর এলাকার মধ্যে, তাই পৌরসভা সেখান থেকে রাজস্ব সংগ্রহ করছে। এখানে বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদনের কোনো প্রয়োজন নেই।

বন্দর পরিচালনার জন্য মেয়র আব্দুল বাতেন হুরাসাগর নদের পাড়ে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করেছিলেন। সেটি গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

এ ঘাটে প্রায়ই মালবাহী জাহাজ বিভিন্ন পণ্য নামাতো। পরে ট্রাকে সেসব পণ্য নেওয়া হতো নিজ নিজ গন্তব্যে।

বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের তুলনায় কম খরচে এ ঘাট দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া হতো।

এ ঘাট পরিচালনাকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে মত দিয়েছিলেন বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম।

সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আইন অনুসারে বিআইডব্লিউটিএ দেশে নৌবন্দর পরিচালনায় বৈধ কর্তৃপক্ষ। বাঘাবাড়ীর আশপাশে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থাকে নৌবন্দর পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সরকার খেয়া পারাপারের জন্য ঘাট ইজারা দিতে পারে, কিন্তু পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর করে বৃশালিখা ঘাটে যেভাবে বন্দরের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ।’

Displaying IMG_20191209_114259.jpg

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘বাঘাবাড়ী ঘাটে নোঙর করা প্রতিটি মালবাহী জাহাজকে প্রতি টন মাল খালাসের জন্য ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা দিতে হয়। ’

সেই হিসাবে বৃশালিখা ঘাটের কারণে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলো।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৫:২১
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:৪১
    যোহরদুপুর ১২:১১
    আছরবিকাল ১৬:০৪
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৪০
    এশা রাত ১৯:১০
মুজিববর্ষ
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!