শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২:২৪ অপরাহ্ন

ভাঙ্গুড়ায় শিক্ষকের থাপ্পরে ছাত্র হাসপাতালে

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ছোট বিশাকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মজিদের থাপ্পরে ইমন হোসেন (১৪) নামের এক ছাত্রের কানের পর্দা ফেটে গেছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে।

ইমন ঐ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র ও বিশাকোল গ্রামের আব্দুল মালেকের পুত্র। সে বর্তমানে ভাঙ্গুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

রোববার এ বিষয়ে ইউএনও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভূক্তভোগী পরিবার।

আহত শিক্ষার্থী ইমন হোসেন সাংবাদিকদের জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে রুটিন মোতাবেক শিক্ষক না থাকায় প্রধান শিক্ষক আব্দুর মজিদ নিজেই ৯ম শ্রেণির বাংলা ২য় পত্র ক্লাসে হাজির হন।

শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঐ সময়ে চেঁচামেচি করছিল । শিক্ষক ক্লাসে ঢুকে চেঁচামেচি থামাতে বলে। বলতে বলতেই মাথার চুর ধরে ইমনের কানের উপর বেশ কয়েকটি থাপ্পর মারে।

এরপর তার ডান কান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে ইমন নিজেই বাইরে গিয়ে কানের রক্ত ধুয়ে মাথায় পানি নেয়। বিকালের দিকে তার কানে বেশী ব্যাথা শুরু হলে স্থানীয় ডাক্তারের নিকট প্রাথামিক চিকিৎসা নেয়।

কিন্তু তার কানের ব্যাথা বাড়তে থাকলে শুক্রবারে নাক-কান-গলা বিশোষজ্ঞ ডাক্তার মোঃ রফিকুল ইসলামের নিকট দেখান। এসময় ডাক্তার মোঃ রফিকুল ইসলাম কানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে মর্মে তার অভিভাবকে অবগত করেন।

কিন্তু কানের ব্যাথা না কমায় শনিবারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে ইমন।

এবিষয়ে ইমনের পিতা আব্দুল মালেক বলেন, ‘একজন শিক্ষক এভাবে আমার ছেলেকে কানের উপর মেরে কানটার ক্ষতি করবে এটা কখনো আমি আশা করি নি। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশাকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন,‘শ্রেণি কক্ষে বেয়াদবি করায় তাকে একটা থাপ্পর মারা হয়েছে। কিন্তু সে ঘার ঘুরোতেই হয়তো তার কানে লেগেছে। তবে আমি তাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছি এবং বর্তমানে চিকিৎসার খোঁজ খবর রাখছি।’

এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল আলম বলেন, শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রকে কানের উপর থাপ্পর মারার অভিযোগ পেয়ে ঐ বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেছি এবং প্রথমেই শিক্ষার্থীকে যাথাযাথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে প্রধান শিক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার বিষয়ে ইউএনও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘লিখিত অভিযোগটি এখনো আমার হস্তগত হয়নি। তবে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে বিষয়টি আমি জেনেছি। আহত শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষকিত চিকিৎসার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত বা আঘাত করা যাবে না। ঐ শিক্ষাকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমানিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৩৯
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৫৭
    যোহরদুপুর ১১:৪৪
    আছরবিকাল ১৫:৫৩
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৩০
    এশা রাত ১৯:০০
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!