বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

ভারতের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ

নাহ, এই বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশ নয়! ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিন ওয়ানডেতেই দাপট দেখানো সেই বাংলাদেশ নয়। এশিয়া কাপের শুরুতেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে লড়াই, যে বীরত্বে—কদিনের মধ্যে সব হারাল কোথায়? আফগানিস্তানের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতও সজোরে ধাক্কা দিল। গৌরবের লড়াইয়ের ছবিটা আজ আরও ফিকে করে দিলেন মুশফিকেরাই। দুবাইয়ে সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ ভারতের কাছে ৭ উইকেটে হেরে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস নেমে গেল আরও তলানিতে। ফাইনালে খেলার আশা জিইয়ে রাখতে পরের দুটি ম্যাচ জিততেই হবে মাশরাফিদের।

বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং লাইনআপের সামনে ১৭৪ রানের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে সেঞ্চুরি করতে পারব তো—ইনিংস বিরতিতে রোহিত শর্মার মাথায় এমন প্রশ্ন যে আসেনি, হলফ করে বলা যায় না! বাংলাদেশকে পেলে এমনিতেই ভারতীয় ওপেনারের ব্যাটটা ভীষণ চওড়া হয়ে ওঠে। গত মার্চে নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ দুটি ম্যাচে করলেন ৮৯ ও ৫৬। সিরিজটা হয়েছিল টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। ওয়ানডের কথাও যদি বলেন, সর্বশেষ সাক্ষাতেও বাংলাদেশের বিপক্ষে রোহিতের ব্যাটে বিদ্যুৎ চমকেছে। গত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে অপরাজিত ১২৩ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে দিয়েছিলেন। আজ সেঞ্চুরি করতে পারেননি, অপরাজিত ছিলেন ৮৩ রানে।

মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও ফর্মে ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। আজ ৩৩ করে পাস নম্বর পেয়েছেন হংকংয়ের বিপক্ষে শূন্য রান করা ধোনি। রোহিততে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে গড়েছেন ৬৪ রানের জুটি। বাংলাদেশের বোলারদের সাফল্য বলতে শিখর ধাওয়ানকে ৪০ রানে এলবিডব্লু করেছেন সাকিব আল হাসান আর ১৩ করা আম্বাতি রাইডুকে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচে পরিণত করেছেন রুবেল হোসেন। ধোনির উইকেটটি নিয়েছেন মাশরাফি।

বোলারদের আর কীই বা করার ছিল? ব্যাটসম্যানদের কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের পরও কোনোমতে পাওয়া গেছে ১৭৩ রানের পুঁজি। এতে কী আর লড়াই করা যায়? ১০১ রানে ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশের তো ১৫০ করা নিয়েই সংশয়। ২৫ রান করা মাহমুদউল্লাহ শুধু আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের বলি, বাকি সব বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে কাঠগড়ায় তোলা যায় অনায়াসে। বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের আরও অনুশোচনায় পড়ার কথা অষ্টম উইকেট জুটিতে মাশরাফি-মিরাজের ব্যাটিং দেখে। এই জুটি ৬৬ রান যোগ না করলে বাংলাদেশের ভাগ্যে আজ কী যে লেখা ছিল! নয়ে নেমে মিরাজ ৪২ ও আটে নামা মাশরাফি ২৬ রান করে সতীর্থদের দেখিয়েছেন, টপ কিংবা মিডল অর্ডারের দু-একজন দাঁড়িয়ে গেলে ভারতের সামনে কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়া যেত।

সেটি যেহেতু হয়নি, বাংলাদেশকে হারতে হয়েছে বড় ব্যবধানে। ফাইনালে খেলার আশা জিইয়ে রাখতে হলে পরের দুটি ম্যাচ জিততেই হবে। ক্রিকেট এমনই, মনস্তাত্ত্বিকভাবে একবার পিছিয়ে পড়লে, আত্মবিশ্বাস একবার টলে গেলে সেটি দ্রুত ফিরে পাওয়া খুব কঠিন। ইতিবাচক দিক হচ্ছে, পরশু আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলার আগে একদিনের বিরতি পাবেন মাশরাফিরা। সংক্ষিপ্ত এ সময়ে নিজেদের গুছিয়ে না নিতে পারলে বাংলাদেশের জন্য এবারের এশিয়া কাপটা ভুলে যাওয়ার মতোই হবে।


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!