শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯, ০২:০৫ অপরাহ্ন

ভালোমন্দের ২০১৮

একটি বছর বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেখে যায় অনেক স্মৃতি। ২০১৮ এর ব্যতিক্রম নয়। শুধু ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির কথা বললে সেখানে ঘটেছে নানা কিছু। কিন্তু প্রেক্ষাপট যখন আমাদের দেশ তখন বলতেই হয়, আরও একটা ঘটনাহীন বছরের হারিয়ে যাওয়া।

গোটা এক বছরে সত্যিকার অর্থে হাতে গোনা কয়েকটি ফ্যাশন শো, কয়েকটি ফ্যাশন হাউসের আত্মপ্রকাশ আর পুরনো কয়েকটি ব্র্যান্ডের সাবব্র্যান্ড খোলা। মোটের ওপর এটাই আমাদের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির চিত্র। অন্যদিকে লোকাল ফ্যাশন হাউসগুলোর অবস্থা বেশ করুণ। আর্থিকভাবে পর্যুদস্ত। এর জন্য কার দায় তা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি এবং ট্যাক্স-ভ্যাটের খাঁড়ার সঙ্গে আছে নানা অনুঘটক। পরোক্ষে তাদের তরফেও যে খুব একটা তৎপর ভূমিকা আছে তা অন্তত বলা যাচ্ছে না। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যে ধরনের কৌশল অবলম্বন করা উচিত, সেটা তারা করতে পারছেন বলে অন্তত অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে না।

এই টানাপড়েনের মধ্যদিয়ে এগিয়ে গেছে সময়। আর এই সময়ের পায়ে পায়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ং পূর্ণ করেছে ৪০ বছর। চার দশকের এ পথচলা তারা উদযাপন করেছে মহাসমারোহে। তিন দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজনে। এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে নানা সময়ে সম্পৃক্ত কুশীলবদের ৪০ জনকে শ্রেষ্ঠত্বের নিরিখে সম্মাননা জানিয়েছে আড়ং। সূচনা দিনের এ অনুষ্ঠান ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে সবার মন কেড়েছে দ্বিতীয় দিনের ফ্যাশন শো। শোকেস করা হয়েছে আড়ংয়ের ফিউচার প্রডাক্ট। দর্শক দেখেছে সে ঝলক। পাশাপাশি তাদের নতুন সাবব্র্যান্ড তাগা মেনও এর কিছুদিন আগে আত্মপ্রকাশ করে। তাগা আগে ছিল শুধু কিশোরী আর তরুণীদের জন্য। এবার তরুণরা পাবে তাদের পছন্দের পোশাক।

তৃতীয় দিনের আয়োজনে জেমসের উপস্থিতি বলে দেয় আড়ংয়ের ভবিষ্যৎ ভাবনা। ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের সিনিয়র ডিরেক্টর তামারা আবেদও বিষয়টা পরিস্কার করেন। তরুণরাই এখন সবার লক্ষ্য। আড়ংও সেটা বিবেচনায় রেখেই এগোচ্ছে। তবে সাব-ব্র্যান্ডগুলোর সমান্তরালে মূল আড়ংয়ের প্রডাক্ট লাইন, বিশেষত পোশাক সংগ্রহ কোনোভাবেই উপেক্ষিত হবে না, তা তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।

আড়ং ছাড়া শীর্ষসারির হাউসগুলোর মধ্যে কে ক্র্যাফট অনেক আগেই তাদের সাবব্র্যান্ড ইয়াংকে লঞ্চ করে। সেটা ২০১৫ সালের কোরবানির ঈদের আগে। তবে রঙ বাংলাদেশের ওয়েস্টরঙ ও পুরনো। এবার দেশী দশের বাকিরা তাদের সাবব্র্যান্ড লঞ্চ করেছেন। নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে বাজারে এসেছে নিপুণের মাকু, অঞ্জন’সের মারজিন ও আর্ট অব ব্লু, বিবিয়ানার বালিকা বেলা, সাদাকালোর বিয়ন্ড সাদাকালো, দেশালের এসেন্স অব দেশাল, বাংলার মেলার বাংলার হাট আর সৃষ্টির প্রিন্ট ক্র্যাফট।

এ বছর নতুন আত্মপ্রকাশিত হাউসগুলোর সবই বলতে গেলে তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের। স্নোটেক্সের সারা এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। এ নিয়ে পৃথক রচনায় থাকছে বিস্তারিত।

এবারের উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলতে জুরহেমের ফ্যাশন শো আর শাহরুখ, আমিন ও সারা করিমের ফ্যাশন শো। দুটো নগরীর ফ্যাশন বোদ্ধাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অন্যদিকে এ বছর অনুষ্ঠিত হয়নি ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ-এর ক্যালেন্ডার ইভেন্ট খাদি ফেস্ট।

তবে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, অনলাইন শপিং। বিভিন্ন সাইটের রমরমা ব্যবসা চোখে পড়ার মতো। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে, বিশেষত তরুণ-তরুণীরা আগ্রহী হয়েছেন এ ধরনের কেনাকাটায়। এর পাশাপাশি বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোও ঢাকার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। সরাসরি স্টোর না খুললেও ফ্র্যাঞ্চাইজিং দিচ্ছে। চারটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডকে এক ছাদের নিচে নিয়ে এসেছে লেন্ড। এ তালিকায় আছে জারা, হিসপানিটাস, লা গারোশা ও লইস। গুলশান এভিনিউ আর যমুনা ফিউচার পার্কে রয়েছে লেন্ডের আউটলেট। একইভাবে লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড মিনিসো যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে হ্যাফলেও। হ্যাফলে পুরনো ব্র্যান্ড। তুলনায় নবীন মিনিসো। উভয়ের প্রডাক্ট লাইন আলাদা। কিন্তু মানসম্পন্ন আর প্রয়োজনীয়। বাংলাদেশের বাজারের সমুজ্জ্বল সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এসব ব্র্যান্ড বাংলাদেশের বাজারে পা রাখছে। বিনিয়োগে উৎসাহিত হচ্ছে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এটা যেমন সুখবর, তেমনি দেশি ব্র্যান্ডগুলোরও প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে যাওয়া। একই কথা প্রযোজ্য বাংলাদেশের ফ্যাশন হাউসগুলোর ক্রমেই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার ক্ষেত্রে। কারণ তাদের সংকট উভয়মুখী। প্রথম তৈরি পোশাক শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা দেশের বাজারে পা রাখছে। অন্যদিকে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর উপস্থিতি ক্রমেই বাড়বে। এজন্য যে কৌশল অবলম্বন করা উচিত, তা নিয়ে না ভাবলে পরিস্থিতি ক্রমেই তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে তাদের মধ্যে সে উৎসাহ কিংবা তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং প্রচণ্ড হতাশার মধ্যে রয়েছেন তারা। এ ইন্ডাস্ট্রিকে জাগাতে হলে প্রয়োজনীয়, সময়োপযোগী আর গঠনমূলক পরিকল্পনার বিকল্প নেই। উপরন্তু এর সঙ্গে যোগ করতে হবে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ।

এক বছরে বলার মতো ঘটনা একটা অবশ্যই রয়েছে। একাধিক ভালো প্রকাশনা হয়েছে এ বছরে। বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ প্রকাশ করেছে জামদানি নকশার বই ‘ঐতিহ্যবাহী জামদানি নকশা’। জামদানি নকশা এই প্রথমবারের মতো মুদ্রিত হলো। ইউএস অ্যাম্বাসাডরস কালচারাল প্রিজারভেশন ফান্ডের পৃষ্ঠপোষণায় পরিচালিত গবেষণার তথ্য-উপাত্তসহ এ প্রকাশনায় পৃষ্ঠপোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। এ ছাড়া শাওন আকন্দের গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের তাঁতশিল্প’ প্রকাশ করেছে দেশাল। আর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষণায় বাংলাদেশের নকশীকাঁথা নিয়ে মালেকা খান প্রকাশ করেছেন ‘নকশীকাঁথা : বাংলাদেশের নন্দিত শিল্পের স্মারক’। প্রতিটি বই গবেষকদের কৌতূহল নিরসনে সহায়তা করবে।

এবার একটু তাকানো যাক আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডের দিকে। শুরু করা যাক মৃত্যু দিয়ে। বিশ্বের শীর্ষ ডিজাইনার এবং ট্রেন্ড সেটারদের একজন হিউবার্ট ডি জিভাশিঁ পৃথিবী ছেড়েছেন এ বছর। অড্রে হেপবার্নের এই প্রিয় বন্ধু বিদায় নিলেন ৯১ বছর বয়সে। জিভাশিঁর ফ্যাশনদের তরিকা কম ঈর্ষণীয় নয়; রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ আর জ্যাকি কেনেডিরাও রয়েছেন এ তালিকায়। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, আত্মহত্যা করেছেন ৫৫ বছর বয়সী মার্কিন ফ্যাশন ডিজাইনার কেট স্পেড। এই আত্মহননে অনুঘটক হয়েছে হতাশা। বিখ্যাত রসনা লিখিয়ে উপস্থাপক অ্যান্থনি বরদোঁর বন্ধু কেটের মৃত্যুর পর তিনিও মৃত্যুবরণ করেন। এটাও আত্মহত্যা।

এবার প্রসঙ্গান্তর। এ বছরের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কম নয়। সবচেয়ে আগে বলতে হয় ভারসাচির বিক্রি হয়ে যাওয়ার কথা। মাইকেল করসের প্রতিষ্ঠান ক্যাপ্রি হোল্ডিংই এই ঐতিহ্যবাহী হাউসকে কিনে নিয়েছে। এরাই ২০১৭ সালে কিনেছিল জিমি চু। আবার ফ্রেঞ্চ লাক্সারি ব্র্যান্ড কেরিং বিক্রি করে দিয়েছে তার পিউমার শেয়ার। আবার কেরিং থেকে নিজের ব্র্যান্ড প্রত্যাহার করে নিয়েছেন স্টেলা। মিসোনির ৪১ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে এফএসআই। অবসরে গেছেন ক্যারোলিনা হেরেরা। ব্রিটিশ সরকার নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্য হ্রাসে উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারের মতো প্রতিষ্ঠানের ব্যবধান ১২.৩ শতাংশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্পকে বন্ধ করে দিতে হয়েছে নিজের নামের ব্র্যান্ড। অন্যদিকে এইচ অ্যান্ড এম বন্ধ করে দিয়েছে তাদের সাশ্রয়ী জিন্স ব্র্যান্ড চিপ মানডে।

বারবেরির নতুন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দিয়েছেন রিকোর্ডো তিসি। অন্যদিকে সেলিন-এ যোগ দিয়েছেন লুই ভুইতোর ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হেদি সিলমেন। দিওর হোমের দায়িত্ব নিয়েছেন কিম জোন্স। প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ ভোগ-এ যোগ দিয়েছে কৃষ্ণাঙ্গ সম্পাদক। এদিকে কাইয়া গেরবার হয়েছেন মডেল অব দ্য ইয়ার।

বিশ্বজুড়ে তুঙ্গে ছিল ফারমুক্ত আন্দোলন। জারা, টপশপ, এইচ অ্যান্ড এম ঘোষণা দিয়েছে ফারের পোশাক না বানানোর। এই কাফেলায় যোগ দিয়েছে শ্যানেল। এ বছর মেট গালার থিম ছিল হেভেনলি বডিস। আর প্রদর্শনী দেখেছে অন্তত ১৩ লাখ ফ্যাশন উৎসাহী।

মেগান মার্কেলের সঙ্গে রাজপুত্র হ্যারির বিয়ে নিঃসন্দেহে মাইলফলক ঘটনা। অতঃপর ব্রিটিশ রাজপরিবারে প্রজার প্রবেশ। তাও আবার কালারড প্রজা। প্রথম কোনো কৃষ্ণাঙ্গ। প্রথা ভাঙলেন হ্যারি। মেগানের পোশাক, বিয়ের পোশাক বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলবে তা আর নতুন কী। বিয়ের পোশাক নিয়ে তো রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেছে। ক্লেয়ার হোয়াইট মেগানের বিয়ের পোশাক আর স্টেলা তার রিসেপশনের পোশাক ডিজাইন করেন। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তিনি যে পোশাক পরছেন, সেটাও হবু মায়েদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

বিয়ের কথা যখন উঠল, তখন বলতেই হয় ব্রিটিশ ফ্যাশন ডিজাইনার স্টেলা ম্যাককাটর্নি বিয়ের পোশাকের কালেকশন লঞ্চ করেছেন এই প্রথমবারের মতো। ফলে তার অনুরাগীরা এতে বেজায় খুশি।

এদিকে রিহানা তার লঞ্চারি কালেকশন স্যাভেজ এক্স ফেন্টি দিয়ে মাত করে দিয়েছেন। কণ্ঠশিল্পী রিহানার নিজস্ব ফ্যাশন লাইন এরই মধ্যে জনপ্রিয়। কিন্তু ২০১৮-এর নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে লঞ্চারি কালেকশন ছিল তাক লাগানো। বিশেষত, অন্তঃসত্ত্বা মডেল, পৃথুলা মডেল ব্যবহার করে তিনি নতুন ট্রেন্ড সেট করেছেন। তার এই কালেকশন ছিল প্রত্যক্ষভাবে নারীত্বের উদযাপন। দিওর দুই দশক পর পুনরায় লঞ্চ করেছে তার স্যাডল ব্যাগ।

গেল নভেম্বরে চীনে শো বাতিল করতে বাধ্য হয় ডলশে অ্যান্ড গ্যাবানা। ইনস্টাগ্রামে স্তেফানো গ্যাবানার মন্তব্যের কারণেই এটা ঘটে। এ বছর নানা ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অবশ্যই নাওমি ক্যাম্পবেল আর কেট মসের রানওয়েতে একসঙ্গে হাঁটা। লুই ভুইতোর হয়ে কিম জোন্সের শেষ শোতে তারা মার্জার গমন করেছেন। আবার এই লুই ভুইতোতেই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দিয়েছেন ভার্জিল আবলো। এ বছর অনেক বিখ্যাত ডিজাইনারই চার শীর্ষ ফ্যাশন উইকে সৃজনসম্ভার প্রদর্শন থেকে বিরত থেকেছেন। যেমন নিউইয়র্কে এবার ছিলেন না আলেকজান্ডার ওয়াঙ; বরং জুনে তিনি নিজের সংগ্রহ প্রদর্শন করেন। এখন আর মৌসুম নিয়ে মাততে চান না তিনি। বরং তার লক্ষ্য এখন সিজনলেস। তবে ওয়াঙের অনুপস্থিতি যেমন খবর, তেমনি রোডার্তের নিউইয়র্কেও প্রত্যাবর্তনও খবর বৈকি।

এত সব হৈ-হল্লার মধ্যে র‌্যালফ লরাঁ উদযাপন করলেন ডিজাইনার ক্যারিয়ারের সুবর্ণজয়ন্তী। আলো ঝলমলে অনুষ্ঠানে অন্তত শ’খানেক রানওয়ে লুক উপস্থাপন করা হয়। আর সেই আসরে উপস্থিতির তালিকায় কে ছিলেন না, সেটাই বোধ হয় খুঁজে দেখা যেতে পারে। ছিলেন হিলারি ক্লিনটন, অপেরা উইনফ্রে, ইমান, ব্লেক লাইভলি, কেনি ওয়েস্ট, ক্যালভিন ক্লাইন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অতিথি তালিকায় ছিল দ্যুতি ছড়ানো।

লেখক :ফ্যাশন কলামিস্ট ও এটিএন নিউজের নিউজ এডিটর


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!