বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন

মানুষ বাঁচবে দেড়শ বছর!

বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখা বা বেশি দিন বাঁচার চেষ্টা বহু শত বছর ধরেই করে আসছে মানুষ। এ বিষয়ে হার্ভার্ড মেডিকেলের সাম্প্রতিক গবেষণা যদি সফল হয়, তাহলে মানুষের বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখা বা বেশি দিন বাঁচার স্বপ্ন খুব শিগগির বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

গবেষকদের দাবি, এই গবেষণা সফল হলে মানুষ দেড়শ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় শরীরের বুড়িয়ে যাওয়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সেল বা কোষ ব্যবহার করে একেবারে নতুন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি করা যাবে। আর ২০২০ সালের মধ্যেই হয়তো এই চিকিৎসা মানুষের ওপর প্রয়োগ করা যাবে।

গবেষকরা ইতোমধ্যে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে সফল হয়েছেন। এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এটি মানবদেহে প্রয়োগ করা যায় কি না।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের এই যুগান্তকারী গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. ডেভিড সিনক্লেয়ার। তিনি বলেন, ‘আমাদের বয়স যখন বাড়ে, তখন আমাদের শরীরের ভেতর যেসব ছোট ছোট রক্তনালি আছে, সেগুলো বুড়িয়ে যেতে থাকে এবং এ পর্যায়ে একদম শুকিয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এবং পেশিকলায় রক্ত প্রবাহ অনেক কমে যায়। মানুষের শরীরের অনেক রোগ-ব্যাধির মূল কারণ কিন্তু এই রক্তনালির বার্ধক্য।’

অবশ্য হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষক দল ইঁদুরের ওপর গবেষণা চালিয়ে তাদের মধ্যে এই রক্তনালির বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ শুধু নয়, সেটিকে ঘুরিয়ে দিতেও সক্ষম হয়েছেন।

এই গবেষণার একেবারে কেন্দ্রে আছে রক্তনালি এবং মাংসপেশির সম্পর্ক। মানুষের রক্তনালির ভেতরের দেয়ালে আছে এনডোথেলিয়াল সেল বা কোষের আস্তরণ। রক্তনালিকে সজীব রাখতে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই এনডোথেলিয়াল সেলের বয়স যত বাড়তে থাকে, মানুষের শরীরের রক্তনালি শুকিয়ে যেতে থাকে এবং একপর্যায়ে একদম মরে যায়। ফলে শরীরের অনেক অংশেই রক্তপ্রবাহ কমে যায়। এর মানে হচ্ছে শরীরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ এবং পেশির কার্যক্ষমতা কমে যায়।

পেশিতে রক্ত নিয়ে যায় যে রক্তনালী, সেগুলোর শুকিয়ে যাওয়া বন্ধ করতে পারলে ঠেকিয়ে দেয়া যাবে বার্ধক্য

মানুষ যখন নিয়মিত শরীর চর্চা বা ব্যায়াম করে, তখন এই প্রক্রিয়া কিছুটা থামিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু সেটার একটা সীমা আছে। একটা বয়সের পর শরীর চর্চা করেও আর লাভ হয় না। রক্তনালির মৃত্যু ঠেকানো যায় না।

ডেভিড সিনক্লেয়ার বলেন, ‘আমরা এই রক্তনালির বুড়িয়ে যাওয়ার রহস্য আসলে উদ্ঘাটন করেছি এই গবেষণায়।’

এনএডি নামের একটি মলিকিউল এবং সার্ট-ওয়ান নামের একটি প্রোটিন মূলত এ ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে। রক্তনালিতে এই এনএডির মূল কাজ হচ্ছে সার্ট-ওয়ান-এর উপস্থিতি বাড়ানো। আর সার্ট-ওয়ান রক্তনালি এবং পেশিকলার মধ্যে সংযোগ ঘটায়। কিন্তু বয়স যত বাড়ে, রক্তনালির মধ্যে এই এনএডি এবং সার্ট-ওয়ান, দুটিই কমতে থাকে। ফলে রক্তনালি এবং মাংসপেশির মধ্যে যোগাযোগও কমতে থাকে।

ড. সিনক্লেয়ার এবং তার সহকর্মীরা ইঁদুরের ওপর যে গবেষণা চালিয়েছেন, সেখানে তারা এনএমএন নামের একটি রাসায়নিক যৌগ প্রয়োগ করেন ইঁদুরের দেহে। এই এনএমএন ইঁদুরের রক্তনালিতে এনএডির মাত্রা বাড়ায়। এর পরিণামে সার্ট-ওয়ান নামের প্রোটিনের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। ফলে ইঁদুরের রক্তনালির এনডোফেলিয়াল সেলগুলো খুবই কর্মক্ষম থাকে, যা পেশিতে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে।

যেসব বয়স্ক ইঁদুরের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়, তাদের ক্ষেত্রে নাটকীয় সাফল্য পেয়েছেন গবেষকরা। তাদের শারীরিক সক্ষমতা ৮০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

ড. সিনক্লেয়ার বলেন, ‘যারা এখন বার্ধক্যের কারণে আর শরীরচর্চা করতে পারেন না, বা চলাফেরা করতে পারেন না, তাদের জন্য এই গবেষণা এক বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।’

বিজ্ঞানীরা বলছেন, রক্তনালির ভেতরে রক্ত চলাচল বাড়ানোর জন্য নতুন ধরনের ওষুধ আবিষ্কার সম্ভব হবে এই গবেষণার ভিত্তিতে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!