বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:২৯ অপরাহ্ন

মৎস্য খাতে শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্য

নদী মাতৃক বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে মৎস্য খাতের অবদান দিন দিন বেড়েই চলেছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা পূরণে মৎস্য সম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাছে ভাতে বাঙালির দৈনন্দিন জীবনের খাদ্য তালিকায় আমিষের ৬০ ভাগ যোগান দিচ্ছে মাছ।

মৎস্য খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের মাঠ পর্যায়ে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো :

মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান, পোনা অবমুক্তি কার্যক্রম ও বিল নার্সারি স্থাপন, সমাজভিত্তিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা ও মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন, পরিবেশবান্ধব চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ, মৎস্য খাতে বিভিন্ন ধরণের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

গত নয় বছরের মৎস্য উৎপাদনের সরকারের সাফল্যকে অর্থনীতিবিদরা প্রশংসা করছেন। বর্তমানে বিশ্বে মৎস্য সম্পদ উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

দেশের মৎস্যসম্পদের কাঙ্খিত উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবি থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মাছের মোট উৎপাদন ছিল ২৭.০১ লাখ টন, সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ তথা মৎস্যবান্ধব কার্যক্রম এবং চাষী-উদ্যোক্তা পর্যায়ে চাহিদামাফিক কারিগরি পরিসেবা প্রদানের ফলে ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৪.১০ লাখ টন। ২০১৭- ১৮ অর্থ বছরে মৎস্য উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৪২ লাখ টন ছাড়িয়েছে।

মৎস্য খাতে প্রবৃদ্ধির এ ক্রমধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২০-২১ সনের মধ্যে দেশে মৎস্য উৎপাদন ৪৫.৫২ লাখ টন অর্জিত হবে বলে আশা করা যায়। ফলে ২০২০-২১ সালে দেশের বর্ধিত জনগোষ্ঠীর জন্য প্রক্ষেপিত মৎস্য চাহিদা (৪৫.২৮ লাখ টন) পূরণ করা সম্ভব হবে। গত ৯ বছরের মৎস্য উৎপাদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ খাতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বেশ উৎসাহব্যাঞ্জক (গড় প্রবৃদ্ধি ৫.৪৯ শতাংশ) এবং এক্ষেত্রে প্রায় স্থিতিশীলতা বিরাজমান।

উন্নয়নশীল দেশ হবার অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে দারিদ্রতা নিরসন করা। আর এই দারিদ্রতা হ্রাসের অন্যতম উপায় হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। মৎস্য খাত এ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। প্রতি বছর এ খাতে প্রায় ছয় লাখ লোকের নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। গত ৯ বছরে প্রায় ৬০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে বদ্ধ জলাশয়ের পরিমাণ ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৩৬১ হেক্টর। উন্মুক্ত জলাশয়ের পরিমাণ ৩৯ লাখ ৬ হাজার ৪৩৪ হেক্টর। দেশে মোট হ্যাচারির সংখ্যা ৯৪৬। এর মধ্যে সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারের সংখ্যা ১৩৬। আর বেসরকারী মৎস্য হ্যাচারির সংখ্যা ৮৬৮।

বর্তমানে শেখ হাসিনা সরকারের হাত ধরে মৎস্য খাতে উন্নয়নের যে বিপ্লব শুরু হয়েছে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকা শক্তি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নেও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!