শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

রাবি শিক্ষক শফিউল হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিয়ে সংশয় পরিবারের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা মামলার রায় সোমবার। গত ৪ এপ্রিল রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার যুক্তি-তর্ক শেষে বিচারক অনুপ কুমার রায় এ দিন ধার্য করেন।

এদিকে মামলায় রায়ে সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বে গাফিলতির সুযোগে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে অনেকে হত্যা মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছেন।

অধ্যাপক শফিউলের একমাত্র ছেলে সৌমিন শাহ্‌রিদ জেবিন সমকালকে বলেন, ‘আসলে মামলার সঠিক তদন্তই হয়নি। তদন্তহীন মামলায় ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করা যায় না। এটাকে অনেকে প্রসহনের মামলায় পরিণত করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছেন। হত্যা মামলা থেকে এটি এখন রাজনৈতিক মামলায় রূপ নিয়েছে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে সৌমিন শাহ্‌রিদ আরও বলেন, ‘আমি তখন রাজশাহী পৌঁছেই মামলার কথা জিজ্ঞাসা করি; কিন্তু তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মিজানউদ্দিন আমাকে বলেন, বাবার দাফন সম্পন্ন করা এই মুহূর্তে তোমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আর এসব নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। আমরা তো আছিই। এর পরদিন রেজিস্ট্রার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।’

সৌমিন আরও অভিযোগ করেন, মামলার দুই মাস পরে এ বিষয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, মামলার বিষয়ে কোনো খোঁজ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো মামলা করা হলে সেটি রেজিস্ট্রারকে করতে হয়, এ জন্য তিনি করেছেন। এরপর আইন সেলের প্রধানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা তখনই কোনো ব্যবস্থা নেন, যখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো নির্দেশ দেয়।

সে সময়ের আইন সেলের প্রধান অধ্যাপক ড. এম আহসান কবীর বলেন, ‘আমার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমার সম্পূর্ণ মনে নেই কোন পরিপ্রেক্ষিতে কী বলেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো দেখে। এটা হত্যা মামলা ছিল। ফৌজদারি মামলা হলে এর তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ বিভাগের ওপর চলে যায়। সে জন্য তখন আমাদের কিছু করার ছিল না।’

তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মিজানউদ্দিন বলেন, ‘অধ্যাপক লিলন আমারই ছাত্র এবং সহকর্মী ছিল। আমি উপাচার্যের দায়িত্বে থাকাকালে এমন ঘটনা ঘটে। লিলনের শিক্ষক, বিভাগের সহকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তার একমাত্র ছেলে সৌমিন ছোট ছিল, তাকে নানাভাবে সাপোর্ট দিয়েছি। এখন যদি সৌমিন কোনো অভিযোগ করে, তাহলে সেটা আসলেই দুঃখজনক।’

২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অধ্যাপক শফিউলকে। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে নগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই বছরের ২৩ নভেম্বর প্রধান সন্দেহভাজন পিন্টুসহ ছয়জনকে আটক করে র‌্যাব। পরে পিন্টুর স্ত্রী রেশমাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউস সাদিক জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত নাসরিন আখতার রেশমার সঙ্গে শফিউল ইসলামের দ্বন্দ্বের জেরে তার স্বামী যুবদল নেতা পিন্টু লোকজন নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, আবদুস সালাম পিন্টু ও তার স্ত্রী নাসরিন আখতার রেশমা, যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম মানিক, সবুজ শেখ, সিরাজুল ইসলাম কালু, আল-মামুন, সাগর, জিন্নাত ও আরিফ।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শিশির মাহমুদ বলেন, ‘স্যারের সঙ্গে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে তা খুবই মর্মাহত করেছে আমাদের। বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এম জুলফিকার আলী ইসলাম বলেন, বিভাগের সহকর্মী এবং সভাপতি হিসেবে এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করি।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:১৪
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৩৪
    যোহরদুপুর ১১:৫৮
    আছরবিকাল ১৬:৩১
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:২১
    এশা রাত ১৯:৫১
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!