সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বৈশ্বিক প্রয়াস জরুরি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নের জন্য শান্তি এবং সম্প্রীতি বজায় রাখাটা জরুরি। তাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে টেকসই প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিষয়টি অনুধাবন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস (বিস) এবং ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী এই ডায়ালগের আয়োজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ মনে করে, পরস্পরের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা বা ‘জিরো-সাম গেম’ বঙ্গোপসাগর বা ভারত মহাসাগরের ‘নীল অর্থনীতি’ বিকাশের জন্য সহায়ক নয়।

বরং তা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক। সমুদ্র সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও এর মাধ্যমে ‘নীল অর্থনীতির’ টেকসই উন্নয়নের জন্য সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোর মধ্যে সহায়তাপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমতাপূর্ণ সম্পর্ক আবশ্যক।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সর্বদা বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে সচেষ্ট। বাংলাদেশ দুই প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সম্পর্কিত বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করেছে। সমস্যা সমাধানে আমাদের এরূপ সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা অন্য অঞ্চলের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. সামির স্মরণ এবং বিস’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আবদুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি ভিডিও উপস্থাপনা ও পরিবেশিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় জলদস্যুতা, সশস্ত্র ডাকাতি, উপকূলবর্তী ও সামুদ্রিক এলাকায় সন্ত্রাসী আক্রমণ, মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনো একক দেশের পক্ষে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘মাছসহ সামুদ্রিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত আহরণ ও নানাবিধ দূষণ এই এলাকার সামুদ্রিক পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলেছে। শুধু বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর নয়, বিশ্বের সকল সাগর-মহাসাগরই আজ এ ধরনের বহুবিধ সমস্যায় আক্রান্ত। প্রতি বছর বিশ্বের সাগর-মহাসাগরগুলোতে যোগ হচ্ছে ৮ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য।

দূষণ ও সামুদ্রিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত আহরণ সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানকে বিনষ্ট করছে। পৃথিবীর সামগ্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে মানুষের জীবন-জীবিকা। এই সমস্যা সমাধানে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব জোরদার করার জন্য সকল রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাই।’

তিনি বলেন, ‘এই ডায়ালগে যেসব সুপারিশ প্রদান করা হবে তা এ অঞ্চলের প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, সহযোগিতা জোরদারে এবং সর্বোপরি এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি।’ এই অঞ্চলের দেশগুলোর ‘কমন এনিমি’ হিসেবে দারিদ্র্যকে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দারিদ্র্য আমাদের প্রধান শত্রু।

কাজেই আমাদের সকল কাজের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের দারিদ্র্য দূর করে তাদের সুন্দর এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন নিশ্চিত করা।’ তিনি বলেন,‘ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদী ভাঙনসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের বসবাস করতে হয়।’

অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুল প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন বিরাট এক ঘূর্ণিঝড় আমাদের আক্রমণ করতে এসেছিল। এরকম প্রতিনিয়তই আমাদের মোকাবেলা করতে হয়।

তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা এখন যথেষ্ট সচেতন এবং দুর্যোগকালীন করণীয় বিষয়েও আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। আর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচিও আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, “আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বিবেচনায় বর্তমান শতক ‘এশিয়ার শতক’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সমৃদ্ধির স্বার্থে শান্তি-সৌহার্দ্য বজায় রাখা আবশ্যক।”

বাংলাদেশের বহির্বাণিজ্যের শতকরা ৯০ ভাগই সমুদ্রপথে হয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সমুদ্র বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির পর বঙ্গোপসাগরের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার ওপর বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সমুদ্রসীমার বিশাল এলাকা বাংলাদেশের জন্য বিপুল সম্পদের উৎস। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই সম্পদের সদ্ব্যবহার অনেকাংশে নির্ভর করে এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর।’

তিনি বলেন, ‘গ্যাস ছাড়াও ভারত মহাসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ মৎস্য, খনিজ ও অন্যান্য সম্পদ আছে। সুষ্ঠু ও পরিবেশসম্মত পরিকল্পনা এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সম্পদ এই অঞ্চলের দেশসমূহের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবহার করা সম্ভব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত মহাসাগরকে ঘিরে মোট ৪০টি উন্নয়নশীল দেশের অবস্থান। সেখানে বাস করে বিশ্বের জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে আছে ৬টি দেশ। নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত না হলেও ওই দেশগুলোর অর্থনীতিতে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’

বিগত সাড়ে ১০ বছরে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ আজ প্রায়শই ‘উন্নয়নের বিস্ময়’ হিসেবে অভিহিত হচ্ছে এবং আজ বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর অন্যতম।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ বর্তমানে এশিয়ায় দ্বিতীয় ও বিশ্বের পঞ্চম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। চলতি বছর বাংলাদেশের অর্থনীতি ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী পিপিপি’র ভিত্তিতে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন সারা বিশ্বে ৩০তম।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৫:১০
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:৩৩
    যোহরদুপুর ১১:৫৪
    আছরবিকাল ১৫:৩৮
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:১৪
    এশা রাত ১৮:৪৪
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!