সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন

লালনে প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছেন ফ্রান্সের তরুণী দেবোরা

লালন ফকিরের তিরোধান দিবসের স্মরণোৎসবে এসেছেন ফ্রান্সের নাগরিক দেবোরা কিউকারম্যান। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। তিনি একজন ভালো অনুবাদক। দেশে থাকাকালে ফরাসি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদের কাজ করেছেন তিনি।

দেবোরা দর্শনে স্লাতকোত্তর। ফ্রান্সে ইয়োগার শিক্ষক ছিলেন। বাংলাদেশে বাউলসম্রাট লালন শাহর জীবনদর্শন সম্পর্কে জানতে এসে প্রেমে পড়ে গেছেন। গুরুর কাছে দীক্ষা নিচ্ছেন এবং তিনি বাউলদের জীবনাচারে প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছেন। ছেউড়িয়ার সাঁইজির ধামে প্রখ্যাত বাউল ফকির নহির শাহর শিষ্যত্ব লাভ করেছেন তিনি।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমে বাংলাদেশে আসেন দেবোরা। বর্তমানে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বসবাস করেন। মাঝে মাঝে ফ্রান্সে যান। কয়েকদিন থেকে আবার চলে আসেন। নাম বদল করে হয়েছেন দেবরা জান্নাত। মঙ্গলবার সকালে দেখা মিলে এই ফরাসি তরুণীর।

আলাপকালে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে লালনের দেশ কুষ্টিয়ায় আসি। লালনের গবেষণার জন্য এসে আর ফিরে যেতে পারিনি। আমি তো বাংলা ভাষা জানি না। কিন্তু ভাষা না জানলেও আমি গুরুজির সঙ্গে সাধুসঙ্গে গেলাম। সাধুসঙ্গতে গিয়ে সেখানকার শৃঙ্খলা ও ভাব বিনিময়ের মধ্যে যে লালন দর্শন পেলাম, সেখানে ভাষা কোনো বিষয় ছিল না।

তিনি বলেন, লালন সাঁইজির দর্শন যারা মানে এবং সাধনা করে, তাদের সঙ্গে মিশতে হবে। তাদের জানতে হবে, বুঝতে হবে। তবেই সৃষ্টির এ বিস্ময়কে জানা যাবে। তার মতে, ঈশ্বরকে পেতে হলে, তার সন্তুষ্টি অর্জন করতে হলে সুপথের সন্ধান করতে হবে।

তিনি বলেন, লালন সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই কুষ্টিয়ায় আসা। তারপর গুরুজি নহির শাহর কাছ থেকেই শিষ্যত্ব নিয়ে আমৃত্য থাকতে চাই সাধুসঙ্গ নিয়ে।

দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুরে ফকির নহির শাহর আস্তানায় তার বসবাস। কিন্তু অবিবাহিত থাকায় দেবোরা জান্নাত এ আস্তানায় বসবাসকারী নহির শাহর আরেক শিষ্য রাজনকে বিয়ে করেছেন গুরুর আদেশেই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সংসার হল সমাজ, সংসার হল ঘর। সংসার হল মনের মানুষকে নিয়ে যে ঘর ও সমাজের বসবাস।

তারই চিন্তাচেতনা থেকে ঘর-সংসার করতে গুরুজির শিষ্যকে বিয়ে করি। আর ফিরে যাবেন কি না- এমন প্রশ্নে দেবোরা জান্নাত বলেন, আমি শান্তি খুঁজে পেয়েছি এই দেশে এবং এই লালনেই। আর ফিরে যাব না ফ্রান্সে।

ফকির নহির শাহ বলেন, দেবোরা সত্যের সন্ধানে প্রথিবীর ১৫টি দেশ ঘুরে তারপর বাংলাদেশে আসে। এখানে এসে সে লালন দর্শন সম্পর্কে জানে এবং আরও বেশি কিছু জানার আগ্রহ প্রকাশ করে। পরবর্তী সময়ে সে সপ্তাহব্যাপী সাধুসঙ্গ করে। লালন দর্শন সম্পর্কে আলোচনা করে। তারপর সে লালন দর্শনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে।

লালন দর্শন সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে চাইলে আমি তাকে বাংলা ভাষা শেখার কথা বলি। দেবোরা বাংলা ভাষা শেখার পর তার সঙ্গে আমার ভাব বিনিময় হয়। আমার দর্শনজ্ঞান আস্তে আস্তে তার মধ্যে দেয়া শুরু করি এবং সে এখন লালনের দেখানো পথের অনুসারী। ফকির নহর শাহ হচ্ছেন দরবেশ লবান শাহ ওরফে আবদুর রবশাহর শিষ্য। ৪০ বছর ধরে তিনি মেলায় অংশগ্রহণ করে আসছেন।


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!