রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন

শাহজাদপুরে জলাশয় অবৈধ দখলমুক্ত ও পূনঃখননের উদ্যোগ

 

এম এ হান্নান (শাহজাদপুর) সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রাচীনকাল থেকে প্রবাহিত করতোয়া ও বড়াল নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এবং শাহজাদপুর শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খোনকারের জোলাটি অবৈধ দখলমুক্ত করে পূনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আমাদের ছোট নদী, চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার, হাঁটু জল থাকে, স্থানীয়ভাবে বিশ্বাস বিশ্বকবি রবি ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শাহজাদপুরের কুঠিবাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই ছোট নদীকে নিয়েই কবি লিখেছিলেন এই কবিতাটি।

অবৈধ দখল হওয়ার পূর্বে কবিতার সাথে হুবহু মিল ছিল এই খোনকারের জোলাটি।

৮০র দশকে অবৈধ সামরিক সরকার খাল খননের ধুয়া তুললেও রবি ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত এই খোনকারের জোলাটি সেই সময়ের অধিক মূল্য দেখিয়ে ভরাট করে ভূমি দখলের কু-মতলব নিয়ে।

অবৈধ দখল হওয়ার পূর্বে বর্ষাকালের প্রথম অবস্থা শহরের আসপাশের গ্রাম থেকে নৌকাযোগে গ্রামিণ জনসাধারণ আসতেন ব্যবসামূখর এই শাহজাদপুরে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রায় ১০ বছর বিভিন্ন সময় কোলকাতা থেকে তার পদ্মাবোটে পদ্মা নদী হয়ে বড়ালের বুক বয়ে করতোয়ায় এসে নামতেন এই খোনকারের জোলার মুখে। সেখান থেকে পান্সি নায়ে আসতেন ঠাকুর জমিদারির কাছারিবাড়ি।

খোনকারের জোলাটি অবৈধ দখল হয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় প্রায় ৩০ বছরেও গড়ে উঠেনি শাহজাদপুর পৌরসভার ড্রেনেজ সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।

যে কারণে শাহজাদপুরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেন সর্ব সময় ভরাট ও অচল হয়ে থাকে। বর্তমান সরকারের নদীনালা, খালবিল, হাওর, বাওর সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে সারাদেশে।

এরই অংশ হিসেবে খোনকারের জোলা ৩ কি.মি পূনঃখনন ও সংস্কারের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে অবৈধ দখলমুক্ত করা ও খোনকারের জোলার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারনি।

শাহজাদপুরের সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ হাসিব সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, ‘খোনকারের জোলাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নির্দিষ্ট স্থান জরিপের মাধ্যমে জানানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে অবহিত করেছে।

তার প্রেক্ষিতে আমি খোনকারের জোলার এই ৩ কি. মি. সরেজমিন পরিদর্শন করে অবৈধ দখলদারদের কাউকে মৌখিক ও কাউকে লিখিতভাবে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে অবহিত করেছি। স্বেচ্ছায় দখলদাররা দখলমুক্ত না করলে সরকারিভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অবৈধ দখলমুক্ত করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন থেকে শুরু করতোয়া নদী পর্যন্ত ৩ কিঃ মিঃ ক্যানেল পূনঃখনন ও ক্যানেলের দুই পাশ দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ হলে শাহজাদপুর শহরের জলাবদ্ধতা দূর হবে।

সেই সাথে ক্যানেলটি বহুদিন পরিত্যাক্ত অবস্থায় ময়লা, আবর্জনা ও নানা লতাগুল্মে ভরে থাকায় মশার উৎপত্তিস্থল হয়েছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ থেকে মুক্তি পাবে শাহজাদপুর শহর।


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!