মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২০, ০৬:০২ অপরাহ্ন

শিশুর স্কুল জীবন শুরু! বাবা-মা খেয়াল রাখুন এই বিষয়গুলো

নতুন বছর মানেই নতুন বইয়ের মিষ্টি গন্ধ। নতুন বই পড়ার মজাটাই যেন অন্যরকম। তবে নতুন বছরে যে শিশুরা জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে, তাদের জন্যই আমাদের আজকের আয়োজন।
তাছাড়া নতুন ক্লাসের জন্য নতুন নতুন সব পড়ার সামগ্রী সম্পর্কেই জানতে পারবেন আমাদের আজকের লেখায়। ক্লাস শুরু হওয়ার আগে বই রাখার জন্য চাই ব্যাগ, পোশাক, জুতা এবং নানা অনুষঙ্গ। স্কুলে যাওয়ার জন্য ব্যাগ, বই-খাতা, কলম, পেনসিল, টিফিন বক্স, পানির বোতল কী না লাগে। বছরের শুরুতে আপনার শিশুর জন্য কী কী কিনবেন তা জেনে নিন-

স্কুলব্যাগ
স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রধান দরকারি জিনিসটি হচ্ছে ব্যাগ। বই-খাতা থেকে শুরু করে টিফিন বক্স, পানির পাত্র সবই নিতে হয় ব্যাগে করে। তাই ব্যাগটা হওয়া চাই টেকসই ও সুন্দর। শিশুদের জন্য অনেক সময় ব্যাগ বহন করা কষ্টকর ব্যাপার হয়। তাই হালকা ওজনের স্কুলব্যাগটি বাছাই করে নিন।

শিশুদের কাছে কার্টুন আঁকা ব্যাগই বেশি পছন্দ। বর্তমানে বারবি, স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান, পোকেমন, টম অ্যান্ড জেরি, মিকি মাউসের ব্যাগ বেশি চলছে। এসব ব্যাগের বেশির ভাগই চীনে তৈরি। তবে বিদেশি ব্যাগ বেশি চললেও বাচ্চাদের জন্য দেশীয় ব্যাগগুলোই বেশি টেকসই।

জুতা
দেশীয় সবগুলো ব্র্যান্ড বাটা, এপেক্স, অরিয়ন, জেনিস সবই নতুন বছরে স্কুলপড়ুয়াদের জন্য সাদা-কালো দু’ধরনের কেডস নিয়ে এসেছে। এর সঙ্গে বোনাস হিসেবে টিফিন বক্স ও পানির পটও কেউ কেউ উপহার দিচ্ছেন। তাই বুঝে শুনে জুতা কিনুন।

পানির পট, পেনসিল বক্স, টিফিন বক্স
শিশুদের কার্টুন বেশি পছন্দ। তাই শিশুর পছন্দের কার্টুনেরএরসঙ্গে ম্যাচিং করে স্কুলসামগ্রী কিনে দিতে পারেন। যেমন- বারবির ব্যাগ থেকে শুরু করে পানির পাত্র, পেনসিল বক্স, টিফিন বক্স এমনকি মাথার রাবারের ব্যান্ডটাও বারবির। এতে স্কুলের প্রতি ও পড়ার প্রতি ওর আগ্রহ বাড়বে। ছবি আঁকার অভ্যাস শিশুর কল্পনাশক্তি, সৃজনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শিশুর জন্য চাই ভালো মানের রঙ পেনসিল।

এছাড়া নানা ধরনের, রঙের শার্পনার, ইরেজারের প্রতি বাচ্চাদের আগ্রহ সাধারণত একটু বেশি থাকে। তাই এগুলো কেনার সময় বাচ্চাদের পছন্দকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেয়া উচিত। এসব রাখার জন্য আছে হরেক রকম পেনসিল বক্স। সব জিনিস বক্সের ভেতর সাজিয়ে রাখলে শিশু দরকারের সময় সহজেই খুঁজে পাবে এবং এর ফলে গুছিয়ে রাখতে শিখবে। বাজারে বিভিন্ন ডিজাইনের ছোট-বড় পানির পাত্র পাওয়া যায়। পানির পাত্রগুলো দুই রকমের। একটিতে পানি ঠাণ্ডা থাকে, অন্যটিতে গরম থাকে দীর্ঘক্ষণ। প্লাস্টিক, স্টিল এবং অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি পানির পাত্র পাওয়া যায়। পছন্দমত কিনে নিন।

টেবিল চেয়ার
বাচ্চাকে স্কুলে দিচ্ছেন, পড়াশোনার জন্য টেবিল-চেয়ার না হলে কি চলে! না বাচ্চাদের পছন্দসই পরিবেশ দিতে পারলে পড়াশোনায় আগ্রহ ও মনোযোগ বাড়বে। তাই শিশুদের উপযোগী টেবিল-চেয়ারও তৈরি হচ্ছে। আসবাবের দোকানে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের কার্টুন, ফুল, ফল, পশুপাখি, চাঁদতারাসহ নানা প্রাকৃতিক দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা টেবিল। এসব টেবিলে একই সঙ্গে রয়েছে কলমদানি, ঘড়ি, ক্যালেন্ডার, বণর্মালা। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব টেবিল ছোট-বড় করা যায়। চেয়ারের ক্ষেত্রেও একই কথা। আরামদায়ক ও বিভিন্ন কালারের ছোট ছোট চেয়ার পাওয়া যায়, সেগুলোই বাচ্চার পছন্দ অনুযায়ী কিনুন।

দরদাম
ব্যাগের জন্য- বাজারে দুই ধরনের স্কুলব্যাগ পাওয়া যায়। দেশি ও বিদেশি। বিদেশিগুলোর বেশির ভাগই চীনে তৈরি। দেশি ব্যাগের দাম ২৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং বিদেশি ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার মতো।

জুতা- বাটা, এপেক্স, অরিয়নের মতো ব্র্যান্ডগুলোতে রয়েছে নানা ধরনের স্কুলের জুতা। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুতা পাওয়া যায়। ছেলেদের স্কুলের জুতার দাম ৪৫০ থেকে শুরু। মেয়েদের স্কুলের জুতা ৩৯০ থেকে শুরু।

স্কুলসামগ্রী- হরেক রকম টিফিন বক্স, পানির পাত্র, পেনসিল বক্স পাওয়া যায়। এসবের বাজার মূলত চায়নায় তৈরি সামগ্রীর দখলে। আকার ও মান অনুযায়ী পানির পাত্রের দাম ৭৫ থেকে ৪২৫ টাকা। টিফিন বক্স ৭৫ থেকে ৩০০ টাকা। পেনসিল বক্স পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। আর রঙের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন কোম্পানির রঙ পেনসিলের দাম পড়বে ৫০ থেকে ২৮০ টাকা।

টেবিল-চেয়ার- টেবিলের দাম ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। চেয়ার ৩০০ থেকে ৩ জাহার টাকা।

কোথায় পাবেন
নিউ মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, বসুন্ধরা সিটিসহ রাজধানীর প্রায় সব মার্কেট এবং বড় বিপণিবিতানগুলোতে। আঁকাআঁকির রঙ, পেন্সিল, ইরেজার, বোর্ডের জন্য শাহবাগের আজিজ মার্কেটের তিনতলায় যেতে পারেন। আর ব্যাগসহ স্কুলসামগ্রী সুলভমূল্যে কিনতে চাইলে চকবাজারে যেতে পারেন। সবকিছু পাবেন পাইকারি মূল্যে।

অটবি (কিডসজোন), হাতিল, নাভানা, পারটেক্স, হাইফ্যাশন, মেডালিয়ন, তানিন ফার্নিচারে পাওয়া যাবে পড়ার টেবিল-চেয়ার। পান্থপথ, রোকেয়া সরণির ফার্নিচারের দোকানগুলোতেও পাওয়া যাবে।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৫:২১
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:৪২
    যোহরদুপুর ১২:০৯
    আছরবিকাল ১৬:০১
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৩৭
    এশা রাত ১৯:০৭
মুজিববর্ষ
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!