বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১০:১১ পূর্বাহ্ন

শীগগিরই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে সংযুক্ত হতে চায় পাবনাবাসী

রনি ইমরান : বর্তমানে পাবনাবাসীর প্রাণের দাবী দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে সংযুক্তি হওয়া। এ বিষয়ে জোড়ালো আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন পাবনার সর্বস্তরের মানুষ।

দাবী বাস্তবায়নে চলছে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরনসহ জনসচেতনতায় নানা কর্মসূচী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবীর পক্ষে খোলা হয়েছে একাধীক পেজ সেখানে মানুষ তাদের আবেদনের কথা তুলে ধরছেন।

প্রতিদিনই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে সংযুক্ত হওয়ার পক্ষে দাবী জোড়ালো হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা নদীর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে দ্বিতীয় পদ্মাসেতু নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সংসদে সরকারি দলের সদস্য খোদেজা নাসরিন আখতার হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, মাওয়া-জাজিরা পদ্মাসেতুর কাজ শেষ হলে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মাসেতুর কাজ শুরু হবে।

কাদের বলেন, পদ্মাসেতুর কাজ এগিয়ে চলছে। সার্বিকভাবে ইতোমধ্যে ৭৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মাওয়া থেকে জাজিরা পর্যন্ত ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পদ্মাসেতুর কাজ চলমান। এই সেতুর কাজ শেষ হলে দ্বিতীয় পদ্মাসেতুর কাজ ধরা হবে।

পাবনাবাসীর প্রাণের দাবী দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে সংযুক্তি। পাবনার প্রবীন সাংবাদিক কলাম লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা এবাদত আলীর লেখনীতে উঠে এসেছে পাবনার মানুষের এই প্রাণের দাবী।

তিনি লিখেছেন…

দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ চলার পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতা লাভের পর গণমানুষের নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দেশের হাল ধরেন। সেসময় উত্তরবঙ্গবাসিদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে যমুনা নদীর উপর পুর্ব-প্রতিশ্রুতি মোতাবেক বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ১৯৭২-৭৩ সালের বাজেটে এজন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়।

যমুনা নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা ১৯৭৩ সালে যমুনা নদীর উপর একটি সড়ক-কাম রেল সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হাতে নেয়। কাজ এগিয়ে চলতে থাকে।

কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক পটের আমুল পরিবর্তন সাধিত হয়। পরবর্তীকালে ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রমত্তা যমুনা নদীর উপর ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু বহুমুখি সেতুর কাজ হাতে নেন এবং ১৯৯৮ সালে তা শেষ হয়।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রি শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালের ২৩জুন তারিখে বঙ্গবন্ধু সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের ফলে সমগ্র দেশের জনগণ লাভবান হচ্ছে এবং এটি আন্ত:আঞ্চলিক ব্যবসায় ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপর্ণ ভুমিকা রাখছে। সড়ক ও রেলপথে দ্রুত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন ছাড়াও এই সেতু বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঞ্চালন এবং টেলিযোগাযোগ সমন্বিত করার সুযোগ করে দিয়েছে।

টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত এই সেতু এশীয় মহাসড়ক ও আন্ত:এশীয় রেলপথের উপর অবস্থিত। এ দুটি সংযোগ পথের কাজ সম্পন্ন হলে দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়া থেকে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন আন্তর্জাতিক সড়ক ও রেলপথ স্থাপিত হবে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রি শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করনের লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁরই উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর একটি বহুমুখি সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে লৌহজং, মুন্সিগঞ্জের সাথে শরিয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পুর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে।

বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে ইতিহাসের একটি সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তর বিশিষ্ট ষ্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির উপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়কপথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ। ৬.১৫০মিটার দৈর্ঘ এবং ১৮.১০মিটার প্রস্থ পরিকল্পায় নির্মিত হচ্ছে দেশটির সবচেয়ে বড় সেতু।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এধরনের দুঃসাহসিক কাজের গতিধারায় মুগ্ধ হয়ে ঐতিহ্যবাহি পাবনা জেলাসহ আশেপাশের জেলা সমুহের সার্বিক উন্নয়নে রেল সংযোগসহ ঢালার চর/ কাজিরহাট (পাবনা)-দৌলদিয়া (রাজবাড়ি)-আরিচা (মানিকগঞ্জ) ত্রিমুখি দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের আশায় বুক বেধে এসকল অঞ্চলের সাধারণ মানুষ আশান্বিত।

এবিষয়ে উক্ত এলাকার অগণিত জনগণ একত্রিত হয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট তাদের দাবী পেশ করার বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত। পাবনা জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় প্রতিটি জায়গার জনসাধারণের একই দাবি দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন চাই।

এই দাবির পক্ষে জোরালো যুক্তি হলো, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রি শেখ হাসিনা পাবনাবাসির অনেক দাবি ইতোপুর্বে পুরণ করেছেন।

পাবনা মেডিকেল কলেজ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিন একাডেমী, ঈশ্বরদী ইপিজেড, ঈশ্বরদী হতে ঢালারচর পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ ও ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করণ ।

সর্বপোরি পাবনার পশ্চিমাঞ্চলে অর্থাৎ ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে ২হাজার ৪শত মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পরিকল্পিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যা বাংলাদেশের একটি মেগাপ্রকল্প। যা নাকি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবকাঠামোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে। কারণ রাশিয়াসহ দেশী-বিদেশী হাজার হাজার কর্মকর্তা কর্মচারি রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের সাথে জড়িত। তাদের জন্য রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত বর্তমানে খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হলে সাধারণ নাগরিকসহ সকল্রে জন্যই তা কল্যাণ বয়ে আনবে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবিতে গত ৩০ আগষ্ট-২০১৯, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১ পাবনা জেলা শাখা একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে বিশাল মানব বন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়।

সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও পাবনা জেলা শাখার সভাপতিবীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম পাকনের সভাপতিত্বে সেখানে দাবীর পক্ষে বক্তব্য দেন পাবনাবাসী।

বক্তারা বলেন, পাবনাসহ আশপাশের জেলাসমুহের সার্বিক উন্নয়নেও রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সাথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হবে এই দ্বিতীয় পদ্মা সেতু।

আর এই সেতুতে পাবনাকে সংযুক্ত না করলে পাবনা আড়ালে পড়ে যাবে পাশাপাশি সেতুটিও অসম্পূর্নই থেকে যাবে।

তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর নিকট পদ্মা নদীর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে দ্বিতীয় পদ্মাসেতু নির্মাণ প্রক্রিয়ায় পাবনাকে সংযুক্ত করতে দাবী জানিয়েছেন পাবনাবাসী।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৫৫
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:১৬
    যোহরদুপুর ১১:৪৪
    আছরবিকাল ১৫:৩৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:১২
    এশা রাত ১৮:৪২
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!