মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন

শীতে চাদর

হিমমাখা কাক ভোরে সোনালি আবছায়া অস্পষ্টতা
ঘুমভাঙা চোখে চেয়ে থাকে নিঝুম প্রহর, শিশিরের টুপটাপ খসে পড়া।
খেজুর রসের গন্ধে মাতাল চিরচেনা সেই পথে বহুদিন বাদে ফের দেখা;
লাগামহীন সময়ের ঘোড়ার অবাধ্য জিনে মুষ্টিবদ্ধ দু’হাত।
তবুও দু’হাতের ফোকর গলে বেরিয়ে এসেছে অনেকটা সময়।
কুয়াশার মাদকতা পিছ ছাড়ে না যদিও,
দূর পথে ঘোর লাগে অচেনার, থমকে চাওয়া পেছন ফিরে…
কে যায়? ঐ যে ঐ?
পথের ক্লান্তিতে ভুল দেখা বুঝি,
শাল জড়ানো চেনা উষ্ণতার মাঝে অচেনা প্রতিবিম্বের মরীচিকা।

শীত এ বছর খুব একটা জেঁকে বসেনি রাজধানীতে। গ্রামাঞ্চলের চিত্র একটু ব্যতিক্রম। কম শীত বা বেশি শীতে চাদর যে উষ্ণতা দিতে পারে, তা অন্য কোনো গরম কাপড় যেন দিতেই পারে না। শীতের আগমন মানেই আলমারিতে যত্নে তুলে রাখা শালের কদর। সোয়েটার বা গরম কাপড় যতই পরা হোক, চাদরের উমের সঙ্গে তুলনা হয় না কোনো কিছুর। কম শীত বা বেশি শীত যে কোনো সময় আবহাওয়া বুঝে চাদর বেছে নেওয়া যায়।

ফ্যাশনিস্তাদের জন্য শীত পছন্দের মৌসুম। তবে শহরাঞ্চলে এখন শীতের প্রভাব অনেকটাই কমে গেছে। এই সময়টা বিভিন্ন রকম শাল গায়ে জড়িয়ে পার করতে পছন্দ করবেন ফ্যাশন সচেতনরা।

চাদরে রকমফের এসেছে অনেক। এক রঙ, প্রিন্ট, কারুকাজ করা, একই সঙ্গে অনেক রঙের ব্যবহার করা চাদর পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। বাহারি রঙের চাদরের সুবিধা হলো- তা যে কোনো পোশাকের সঙ্গে পরা যায়। মেয়েরা টি-শার্ট থেকে শুরু করে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ সবকিছুর সঙ্গেই চাদর পরতে পারে, তৈরি করে নিতে পারে নিজের মতো স্টাইল। এক রঙের সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে ভালো লাগবে প্রিন্টেড চাদর বা কাজ করা চাদর। অভিজাত শ্রেণির মানুষের কাছে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য হলো কাশ্মীরি শাল। মিহি সুতার কাজ করা শাল। যেমন- পশ্চিমা খাদি উলের চাদর, সিলেট, রাঙামাটি, বান্দরবানের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের চাদর।

ছেলেরা আজকাল চাদরকে তাদের ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করেছে। একটু বয়স্করা কাশ্মীরি শাল জড়িয়ে নিজের স্টাইলে নিয়ে আসেন আভিজাত্য। নবাব আমল থেকে চাদরের প্রচলন ছিল উপমহাদেশে। কালের বিবর্তনে রকমফের এলেও হারিয়ে যায়নি এর মূল বৈশিষ্ট্য। এক টুকরো কাপড় জড়িয়ে আরাম খোঁজার সঙ্গে সঙ্গে হয় ফ্যাশন।

খাদি বা সুতি তন্তুর চাদরে স্ট্ক্রিন প্রিন্টের প্রচলন সর্বাধিক ছিল এ বছর। বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের চিত্র থেকে শুরু করে কবির কবিতা সব প্রিন্টের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে চাদরে। ডিজাইনাররা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছেন ক্রেতাদের নতুন কিছু উপহার দিতে। ভ্যানগগের বিখ্যাত চিত্রশিল্প, ফ্রিদা কাহলোর অবয়ব, এমনকি ঢাকা শহরের চিত্র উঠে এসেছে। রঙিন ফুলেল মোটিফ, কবিতা, গানের লাইনও মোটিফ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।

চাদরে ব্লক প্রিন্ট, হাতের কাজ বা এক রঙের চাদর যে কোনোটি পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরা যায়। অনেক সময় চাদরের সঙ্গে মিলিয়েও পোশাক নির্বাচন করা যেতে পারে।

এ বছর আমাদের দেশের ডিজাইনাররা একেবারেই নতুনত্ব নিয়ে এসেছেন চাদরে। সুতি চাদরে ফ্লোরাল প্রিন্ট বা অন্যান্য নকশায় জরি সুতা বা চুমকির কাজ, হাতে সেলাই, নকশিকাঁথা সেলাই ইত্যাদি দিয়ে অলঙ্করণ করা হয়েছে। কাপড় জোড়া লাগিয়ে কাঁথা স্টিচের মাধ্যমে এক বিশেষ নকশার প্রচলন আছে এবার শীতে। সাদা বা ক্রিম কালারে খুব রঙিন হাতের কাজ দেখা গেছে আড়ংয়ের চাদরে। বাটিক, টাইডাই একটু মোটা কাপড় শীতের কাপড় হিসেবে গায়ে জড়িয়েছেন অনেকে। চাদরে টার্সেলের ব্যবহারও হচ্ছে অনেক।

গ্রামাঞ্চলে গায়ে চাদর মুড়ে সকালের সোনা রোদের তাপ দেন বিভিন্ন বয়সীরা। শহরে চাদর খুব ফ্যাশনের বিষয় হলেও গ্রামাঞ্চলে একে অন্যতম শীতের পোশাক হিসেবে ব্যবহার করে বেশিরভাগ মানুষ। প্রকৃতিতে কুয়াশার চাদর জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষ শরীরে জড়িয়েছে তুলার বা পশমের চাদর। আর এই চাদরই বতর্মান সময়ের ফ্যাশনের একটি অনুষঙ্গ। আগে চাদর গোটা কয়েক ব্যক্তিত্ব যেমন কবি-সাহিত্যিকরা ব্যবহার করলেও এখন এটা সবাই নিজের প্রয়োজনের অংশ করে তুলেছে।

বর্তমানে চাদরের ফ্যাশনে এগিয়ে আছে তরুণ প্রজন্ম। তাই শুধু মেয়েদের জন্য নয়, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছেলেদের চাদরেও এসেছে বৈচিত্র্য। দেশি খাদি ও আদিবাসী শাল বেশ জনপ্রিয় ছেলেদের কাছে। টি-শার্ট, ফতুয়া কিংবা পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে পরতে পারেন নজরকাড়া এসব চাদর।

চাদর কোথায় পাওয়া যাবে- যে কোনো শপিং মল, নিউ মার্কেট ও গাউছিয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোতে।

হিমের এ দিনগুলোতে পোশাকে দেশাত্মবোধ ও আরামদায়কতার মেলবন্ধন তৈরিতে চাদর হতে পারে আপনার নিত্যসঙ্গী। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে না নিয়ে ভিন্ন শেড বেছে নিতে পারেন। আবার বিপরীত রঙে নিয়ে আসতে পারেন নান্দনিক সৌন্দর্য।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:১০
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৩১
    যোহরদুপুর ১১:৫৭
    আছরবিকাল ১৬:৩১
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:২৩
    এশা রাত ১৯:৫৩
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!