সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন

শীতে ট্রেন্ডি

পোশাক নিয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়ছে দিন দিন। একসময় শীতের পোশাক তুলে রাখা হতো পরের বছরের জন্য। বছরের পর বছর পরা হতো একই শীতের পোশাক। এক বছরের শীতের শেষে ঠিকঠাক পরিস্কার করে বাক্সবন্দি শীত পোশাক নিয়েই খুশি ছিল মানুষ। নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাকের সম্ভার তখন সেভাবে দেখা যেত না। মানুষের জীবনে বেড়েছে ব্যস্ততা। প্রতিদিন যেতে হচ্ছে ঘরের বাইরে, তাই প্রতিদিন প্রয়োজন হচ্ছে পোশাক। তাই পোশাক প্রয়োজন হচ্ছে আগের তুলনায় বেশি। তা ছাড়া মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই পোশাক নয়, বরং মানুষের চাহিদা এখন পোশাকের বৈচিত্র্য।

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে বারান্দাতে দাঁড়ালেই ঘন কুয়াশা দৃষ্টিকে যেতে দিচ্ছে না খুব একটা দূরে। তবু বেরিয়ে পড়তে হচ্ছে তার মধ্যেই। আবার সারাটা দিনজুড়েও তাপমাত্রার পারদ থাকছে নিচের দিকে। তাই আলাদা করে ভাবতে হচ্ছে পোশাক নিয়ে। এ বিষয়ে সকাল সকাল অফিসের গাড়ির অপেক্ষায় থাকা মেহনাজ বলেন, ‘অফিস দূরে হওয়ার কারণে ভোরের আলো ফুটতেই রওনা হতে হয়। পরিবেশজুড়ে বেশ ঠাণ্ডা আবহাওয়া থাকে এ সময়। তাই শীতের পোশাক রাখতেই হয় সঙ্গে। প্রতিবছর কয়েক মাসের জন্য শীত আসে শহরে। তবুও এ সময়ের জন্য আলাদা করে কেনাকাটা করা হয়েই থাকে। এ বছরও তাই কেনার পরিকল্পনা আছে। সপ্তাহ শেষেই ছুটব পোশাকের বাজারে। দোকান ঘুরে প্রথমেই জেনে নিতে হবে এবারের ট্রেন্ড। তারপর পছন্দ করে কিনে নেওয়া।’ উত্তরা বাসস্টপে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাশেদ। তাড়াহুড়ার মধ্যে বললেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছতে অনেক পথ পারি দিতে হয় বাসের জানালার পাশে বসে। এ সময়টাতে বেশ শীত অনুভূত হয়। আবার সারাদিনের ক্লাস আর দৌড়ঝাঁপেও দরকার হয় হালকা শীত পোশাক। তাই লেয়ার করে শীত পোশাক পরে নিতেই পছন্দ করি আমি।’

এবারের শীত উপযোগী ফ্যাশন নিয়ে কাজ করেছে আমাদের দেশের বেশ কয়েকটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড। তাদের মধ্যে ‘সারা’ একটি। শীত পোশাকের ট্রেন্ড বিষয়ে লাইফ স্টাইল ব্র্র্যান্ড ‘সারা’র হেড অব ডিজাইন কাশফিয়া নেহরীন বলেন, ‘শীতকালকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা নিয়ে এসেছি নানা ধরনের পোশাক। হালকা শীত ও বেশি শীত- এ দুয়ের উপযোগী পোশাক রয়েছে সারার সংগ্রহে। ফেব্রিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ডেনিম, ফেক লেদার এবং সিনথেটিক কাপড়ের পোশাক। জ্যাকেট, ভেস্ট ও ব্লেজার রয়েছে এবারের আয়োজনে। তা ছাড়া আছে বাইকার জ্যাকেট, পাফার জ্যাকেট, হুডি। হালকা শীতের জন্য আছে ফ্লানেল, স্কার্ফ ও ডেনিম টপস।’

শীতের সময়ে খুব তাড়াতাড়ি দিন শেষ হয়ে যায়। ছোট্ট বিকেল থেকে সন্ধ্যা নেমে আসতে যেন মাত্র কয়েক মুহূর্তের ব্যবধান। তাই ঘর থেকে বের হওয়ার আগেই সারাদিনের জন্য পরিকল্পনা করে বের হতে হয়। দিন শেষে রাত যত কাছে আসে, তাপমাত্রা ততই কমতে থাকে। তাই বাড়ি ফেরার সময়ের কথা মাথায় রেখেই পোশাক পরিকল্পনা করুন। এ সময়ে লেয়ার করে পরতে পারেন শীতের পোশাক। একটির ওপরে অন্য একটি পোশাক পরে নেওয়ার জনপ্রিয়তা দেখা যাচ্ছে কয়েক বছর ধরেই। ট্রেন্ডি এবং সুবিধাজনক হওয়ার কারণে এ ধরনের পোশাকের চাহিদা রয়েছে। স্কার্ফ ব্যবহার করতে পারেন এ সময়ে। পোশাকের সঙ্গে রঙ মিলিয়ে অথবা একদম বিপরীত রঙ স্কার্ফ হতে পারে সুন্দর যুগলবন্দি। এ ক্ষেত্রে একটু ভারী কাপড়ের স্কার্ফ ব্যবহারে আরামদায়ক অনুভূতি পাবেন। চিকন নয়, বরং একটু চওড়া স্কার্ফ বেছে নিন। বিভিন্ন স্টাইলে পরতে পারেন স্কার্ফ। ডেনিমের তৈরি পোশাক যুগে যুগে পছন্দের তালিকার প্রথমেই রয়েছে। এবারেও ট্রেন্ডি ডেনিম। ডেনিম শার্ট হতে পারে আপনার এ সময়ের ফ্যাশন। লেয়ার করে পরে নিতে পারেন গোলগলা টি-শার্ট অথবা সোয়েটারের সঙ্গে। বেশ মানিয়ে যাবে। তবে ডেনিম শার্টের সঙ্গে ইনার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল রঙ বেছে নিতে পারেন। রঙের ফিউশন তৈরি হবে। হিম হিম ঠাণ্ডায় সবচেয়ে স্মার্ট পোশাক হিসেবে ব্লেজারের রয়েছে বেশ সমাদর। কিশোর বয়স থেকেই অনেকে এই পোশাক পরে নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন। নানা ধরনের ব্লেজার জনপ্রিয়তা পেয়েছে। স্লিম কাট এবং রেগুলার ফিট জনপ্রিয় বর্তমানে। এ ধরনের পোশাকের সঙ্গে শার্ট এবং পোলো হবে মানানসই। ট্রাউজার ব্যবহার করতে পারেন ফর্মাল, ন্যারো কাট অথবা ডেনিমে তৈরি। নানা ধরনের জ্যাকেট এ সময় হতে পারে আপনার উপযুক্ত সঙ্গী। জ্যাকেটের রয়েছে রকমফের। বেছে নিতে হবে নিজের চাহিদা এবং উপযোগিতা বুঝে। জ্যাকেট কেনার সময় ফেব্রিক নিয়ে সচেতনতা জরুরি।

জ্যাকেটের মাপের বিষয়েও নজর রাখুন। সঠিক মাপের জ্যাকেট ছাড়া পরিধানে আরাম খুঁজে পাবেন না। জ্যাকেটের সঙ্গে হালকা ইনার বেছে নিন।

কেমন জুতা পরবেন, এ ধরনের পোশাকের সঙ্গে তা নিয়ে ভাবুন। কেননা একটি পরিপূর্ণ পোশাক পরিকল্পনা কখনোই সঠিক জুতা ছাড়া সম্পন্ন হয় না। বুট জুতা হতে পারে এ সময়ের সঠিক পছন্দ। বুটের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যাবে জ্যাকেট এবং সঠিক ফিটিংয়ের ট্রাউজার। আবার পা ঢাকা জুতাও বেছে নিতে পারেন এ ধরনের পোশাকের সঙ্গে। রঙের ক্ষেত্রে গাঢ় রঙ মানানসই হবে। এর বাইরে পোশাকের সঙ্গে রঙ মিলিয়েও বেছে নিতে পারেন।

শীতের পোশাক দরকার হয় সব বয়সী মানুষের। তবে শিশু ও বয়স্কদের বিষয়ে ভাবতে হবে বিশেষভাবে। আরামদায়ক ও সহজ নকশার শীত পোশাক বেছে নিন তাদের জন্য। শিশুদের জন্য এমন ধরনের নকশা বেছে নিন, যাতে ব্যবহার হয় সহজ। শীত পোশাকে অনেক সময়েই আমরা বাড়তি অলঙ্করণ দেখতে পাই, এ ধরনের নকশার পোশাক বেছে নেওয়ার সময় স্বস্তি রাখুন বিবেচনায়।

শীতের এ সময়ে পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে ভাবুন সাজ নিয়েও। সময়োপযোগী সাজ বেছে নিন এ সময়ে। কোথায় যাচ্ছেন এবং কেন যাচ্ছেন, তা ভেবে তবেই সাজুন। অনুষঙ্গ নিয়েও থাকতে হবে সচেতন। পরিপাটি অনুষঙ্গ আপনাকে করে তুলবে পরিপুর্ণ।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৪০
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৫৮
    যোহরদুপুর ১২:০৫
    আছরবিকাল ১৬:২৯
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:১১
    এশা রাত ১৯:৪১
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!