রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

সংরক্ষিত নারী আসনে পাবনায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত জলি

নিজস্ব প্রতিনিধি : একাদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে (পাবনা- সিরাজগঞ্জ) থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন পাবনা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাদিরা ইয়াসমিন জলি।

গতকাল শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোনো প্রার্থী না থাকায় এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম ৪৯ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

আইন অনুযায়ী আজ রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশের জন্য কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকার সাথে আলাপকালে নাদিরা ইয়াসমিন জলি বলেন, কাজের মূল্যায়ন করে আমাকে নতুন যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলীয় সভাপতির কাছে কৃতজ্ঞ।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনৈতিক দলের একজন কর্মী হিসেবে আমি জনগণের সেবা করতে চাই। আমার বাকি জীবনটা আমি তাদের সেবায় নিয়োজিত রাখতে চাই। এটাই আমার জীবনের বড় পাওয়া যে, আমি সংসদে আমার এলাকাবাসীর হয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একজন কর্মী হিসেবে আমি নারীর ক্ষমতায়নের জন্যে ভূমিকা রাখতে চাই। নারীদের উন্নয়নে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, আমি যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করব। শুধুমাত্র নারীদের আত্মনির্ভরশীল করার জন্য নয়, সমাজে পিছিয়ে পড়া নারীদের আমি সামনে এগিয়ে নিতে চাই।

আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল যেভাবে সমাজের অটিস্টিক ও দুস্থ শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, আমি তাতেও ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব। জাতীয় মহিলা সংস্থা পাবনার চেয়ারম্যান হিসেবে আমার এলাকায় নারী উন্নয়নের কাজ আমার হাত দিয়েই হয়।

নতুন দায়িত্ব তাই আমার কাজে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি। প্রতিবন্ধীদের জন্যে কাজ করে যেতে চাই। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করতে চাই, বলেন তিনি।

নাদিয়া ইয়াসমিন জলি আরও বলেন, প্রতিবন্ধীরা কিন্তু এখন পিছিয়ে নেই। তারাও এখন সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছে। আন্তর্জাতিক পদক আনছে খেলাধূলার মাঠ থেকেও। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অনেকে কাজ করছে। তাদের জন্য তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়েই কাজ করে যাব।

আমিও এক সময় কর্মী ছিলাম, আজ নেতৃত্বে এসেছি। নেতা তৈরি করার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও যেন সমানভাবে এগিয়ে আসে- তা নিশ্চিত করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার। সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শিশু-কিশোর-তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। আগামী প্রজন্ম যেন সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। কাজ করতে চাই, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জনের মধ্যে ৪৩ জনই আওয়ামী লীগের। অন্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টির চারজন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির একজন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে একজন নির্বাচিত হয়েছে।

নির্বাচিত আওয়ামী লীগের ৪৩ জন হলেন— ঢাকা থেকে সুবর্ণা মুস্তাফা, শিরীন আহমেদ, জিন্নাতুল বাকিয়া, শবনম জাহান শিলা ও নাহিদ ইজহার খান; চট্টগ্রাম থেকে খাদিজাতুল আনোয়ার ও ওয়াশিকা আয়েশা খানম; কক্সবাজার থেকে কানিজ ফাতেমা আহমেদ, খাগড়াছড়ি থেকে বাসন্তী চাকমা, কুমিল্লা থেকে আঞ্জুম সুলতানা ও আরমা দত্ত; ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, গাজীপুর থেকে শামসুন্নাহার ভূঁইয়া ও রুমানা আলী; বরগুনা থেকে সুলতানা নাদিরা, জামালপুর থেকে হোসনে আরা, নেত্রকোনা থেকে হাবিবা রহমান খান (শেফালী) ও জাকিয়া পারভীন খানম; পিরোজপুর থেকে শেখ এ্যানী রহমান, টাঙ্গাইল থেকে অপরাজিতা হক, সুনামগঞ্জ থেকে শামীমা আক্তার খানম, মুন্সিগঞ্জ থেকে ফজিলাতুন নেসা, নীলফামারী থেকে রাবেয়া আলীম, নরসিংদী থেকে তামান্না নুসরাত বুবলী, গোপালগঞ্জ থেকে নার্গিস রহমান, ময়মনসিংহ থেকে মনিরা সুলতানা, ঝিনাইদহ থেকে খালেদা খানম, বরিশাল থেকে সৈয়দা রুবিনা মিরা, পটুয়াখালী থেকে কাজী কানিজ সুলতানা, খুলনা থেকে গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, টাঙ্গাইল থেকে খন্দকার মমতা হেনা লাভলী, দিনাজপুর থেকে জাকিয়া তাবাসসুম, নোয়াখালী থেকে ফরিদা খানম (সাকী), ফরিদপুর থেকে রুশেমা বেগম, কুষ্টিয়া থেকে সৈয়দা রাশেদা বেগম, মৌলভীবাজার থেকে সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, রাজশাহী থেকে আদিবা আনজুম মিতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, শরিয়তপুর থেকে পারভীন হক সিকদার, রাজবাড়ী থেকে খোদেজা নাসরীন আক্তার হোসেন, মাদারীপুর থেকে তাহমিনা বেগম, পাবনা থেকে নাদিয়া ইয়াসমিন জলি ও নাটোর থেকে রত্না আহমেদ।

জাতীয় পার্টির চারজনের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যাওয়া সালমা ইসলামও রয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির অপর তিন সদস্য হলেন— দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রওশন আরা মান্নান ও নাজমা আকতার।

বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি সংরক্ষিত নারী আসনে দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের স্ত্রী লুৎফুন নেসা খানকে মনোনয়ন দেয়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনিও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে তাদের মাঝে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী বিএনপির একটি আসন পাওয়ার সুযোগ থাকলেও সংসদ নির্বাচনে দলটির বিজয়ী সদস্যরা এখনও শপথ না নেওয়ায় তাদের সংরক্ষিত নারী আসনটি স্থগিত রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে সাংসদ হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিতদের শপথ নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৩:৪৫
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:১৩
    যোহরদুপুর ১১:৫৫
    আছরবিকাল ১৬:৩৫
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:৩৮
    এশা রাত ২০:০৮

পাবনা এলাকার সেহেরি ও ইফতারের সময়সূচি

© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!