বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

সাঁথিয়ায় শিক্ষা অফিসের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল

বেড়া প্রতিনিধি : পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হেড কেরানীর (উচ্চমান সহকারী) ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ বরাদ্দ, মেরামত বাবদ অনুদান, ওয়াশ ব্লক ও রুটিন মেইনটেনেন্স বাবদ বরাদ্দকৃত টাকার ৬ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে সাঁথিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী তথাকথিত বড় বাবু গোলজার হোসেনের বিরুদ্ধে।

সাংবাদিক আলাউল হোসেন সোমবার রাতে একযোগে তার ফেসবুক আইডি ও সিটিজেন ভয়েসের পেইজে ঘুষগ্রহণের একটি ভিডিও পোস্ট করার পর থেকে অসংখ্য শেয়ার ও মন্তব্যে তোলপাড় হয় ফেসবুক পেজ।

ফেসবুক ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেনকে কাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনি ঘুষের টাকা প্রদান করছেন।

তিনি টাকা টেবিলের নিচে নিয়ে গুণে তা প্যান্টের পকেটে রাখছেন। ফেসবুকে পোস্ট দেবার পর থেকেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়।

সাঁথিয়া উপজেলার কয়েকজন সহকারী শিক্ষা অফিসার ও প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মর্জিনা খাতুনের নির্দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ বরাদ্দ, মেরামত বাবদ অনুদান, ওয়াশ ব্লক ও রুটিন মেইন টেনেন্স বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ঘুষ নিচ্ছেন অফিসের উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসারগণ জানান, ১৭৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭৫টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে জোড়পুর্বক বিল তৈরি বাবদ উচ্চমান সহকারীর মাধ্যমে শিক্ষা অফিসার বরাদ্দের ৮ থেকে ১০ ভাগ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছে।

সোনাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান, হাটবাড়িয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাতেনসহ অনেকেই বলেন, সরকার প্রদত্ত স্কুলের উন্নয়ন কাজের বিল গ্রহণে অগ্রিম ঘুষ প্রদানে আমাদের বাধ্য করা হচ্ছে। ঘুষের টাকা পরিশোধ না করলে বিভিন্নভাবে হয়রানীর স্বীকার হতে হয়।

গত ১৮ আগস্ট উপজেলার আমোষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের পরিচয়ে স্লিপ বরাদ্দের টাকার চেক গ্রহণে উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা খোকন।

তিনি পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বিল করতে রাজি হন বলে এ প্রতিবেদককে জানান খোকন।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে ব্যবস্থা গ্রহণে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম।

এছাড়াও তিনি শিক্ষা অফিসারসহ অফিসের সকল কর্মকর্তাদের ডেকে অপরাধীদের কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেন।

উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মর্জিনা খাতুনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গোলজার হোসেনের ঘুষ গ্রহণের তথ্য আমি পেয়েছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ঘুষ গ্রহণে তার জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ ব্যপারে ইউএনও আব্দুল হালিম জানান, ফেসবুকে পাওয়া ভিডিও ক্লিপ দেখে আমি ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছি। তারা বিষয়টি সংস্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছে।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:২৮
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৪৬
    যোহরদুপুর ১১:৫২
    আছরবিকাল ১৬:১৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৫৯
    এশা রাত ১৯:২৯
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!