সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

সাময়িক ব্রেইন স্ট্রোক

ব্রেইনের সাময়িক রক্তপ্রবাহের ঘাটতিজনিত অবস্থা থেকে একজন রোগী সাময়িক সময়ের জন্য এ ধরনের ব্রেইন স্ট্রোকের শিকার হতে পারেন। ব্রেইন স্ট্রোক হলে যে উপসর্গগুলো মাসের পর মাস কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সারাজীবনের জন্য স্থায়ী হয়ে যায়, টিআইএ হলে তার উপস্থিতি থাকে মিনিটখানেকের জন্য, কখনও-সখনও হয়তো বা পুরো একদিন

টিআইএ বা ট্রানসিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক এক ধরনের মস্তিস্কের ব্যাধি। ব্রেইনের সাময়িক রক্তপ্রবাহের ঘাটতিজনিত অবস্থা থেকে একজন রোগী সাময়িক সময়ের জন্য এ ধরনের ব্রেইন স্ট্রোকের শিকার হতে পারেন। ব্রেইন স্ট্রোক হলে যে উপসর্গগুলো মাসের পর মাস কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সারাজীবনের জন্য স্থায়ী হয়ে যায়, টিআইএ হলে তার উপস্থিতি থাকে মিনিট খানেকের জন্য, কখনও-সখনও হয়তো বা পুরো একদিন। হঠাৎ করে সাময়িকভাবে দৃষ্টি হারিয়ে ফেলা, এমনকি কিছু সময়ের জন্য ভারসাম্য হারিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া- এসবই টিআইএর প্রধান উপসর্গ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের একপাশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, জিহ্বায় ভারী ভারী বোধ অনুভূত হওয়া- এই লক্ষণগুলো টিআইএ রোগে আক্রান্ত হলে দেখা যায়। রোগী এই মুহূর্তগুলো পার করার পর আবার নিজে থেকেই স্বাভাবিক হয়ে ওঠেন।

সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস রোগে যারা ভুগছেন, নিয়মিত যারা ধূমপান করেন, যাদের পরিবারে স্ট্রোকের ইতিহাস আছে এমন লোকজনই টিআইএ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তবে পুরুষদের বয়স ৫৫-এর বেশি হলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ব্যক্তির রক্তের সিস্টলিক রক্তচাপ বেশি থাকে, তারা অধিক হারে টিআইএর ঝুঁকিতে থাকেন।

রোগের সব লক্ষণ

যেসব কারণে ব্রেইন স্ট্রোক হয়, তার সবই টিআইএ হওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে মস্তিস্কের রক্তনালি সরু হয়ে যাওয়া হলো এর প্রধান কারণ।

ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা তথা কায়িক পরিশ্রমে অনভ্যস্ততা ইত্যাদি কারণে সাধারণত মস্তিস্ক, হূৎপিণ্ড অথবা শরীরের অন্য কোনো স্থানের রক্তনালি সরু হয়ে যেতে পারে। এই অসুস্থ রক্তনালির কোনো অংশ থেকে ছুটে আসা কোনো ক্ষুদ্র রক্তের দলা ছুটে এসে যদি ব্রেইনের ধমনি/রক্তনালিতে আটকে যায়, তাহলেই টিআইএ হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হূৎপিণ্ডের অনিয়মিত এবং দ্রুত স্পন্দনজনিত রোগ বা অ্যাটরিয়াল ফিব্রিলেশনজনিত কারণেও টিআইএ হতে পারে।

যে ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন

টিআইএ রোগে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গেই একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বা নিউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। রোগীর ইতিহাস জেনে এবং কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তবেই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিত হতে পারেন টিআইএ রোগ

সম্পর্ক। রোগের কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এর ঝুঁকি রয়েছে কি-না তা জানার জন্য ব্রেইনের সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই, হার্টের পরীক্ষা যেমন ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, রক্তে লিপিড প্রোফাইলসহ রক্তজমাট হওয়া নির্দেশ করে এ-সম্পর্কিত পরীক্ষাও করানো হয়ে থাকে।

যে ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন

টিআইএ হলে প্রথমেই রোগীর উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তের চর্বির পরিমাণ খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হয়। প্রাথমিক রোগ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চিকিৎসক রোগীকে রক্ত পাতলা রাখার প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ সেবনের পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। তবে কোনো ক্ষেত্রে বারবার টিআইএ-জনিত স্ট্রোকের শিকার হলে মস্তিস্কের ধমনির অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। টিআইএ ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার একটি চূড়ান্ত পূর্বাভাস।

যাদের একবার টিআইএ হয় তাদের এক-তৃতীয়াংশের আবার টিআইএ হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং ১০% রোগীর ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা ব্যাপক। তাই চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি রোগীকে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর জীবন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হওয়া যেমন- ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত হালকা পরিশ্রম করা, খাবারে পরিমিত লবণ গ্রহণ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। টিআইএর রোগীকে বিধাতা বোধকরি সুস্থ জীবনাচরণ রপ্ত করার ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন। এর পরও কেউ সচেতন না হলে তাকে স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাতগ্রস্ত অসহায় জীবন, এমনকি জীবনহানির শিকার হতে হয়।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৪০
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৫৮
    যোহরদুপুর ১২:০৫
    আছরবিকাল ১৬:২৯
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:১১
    এশা রাত ১৯:৪১
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!