বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১১:২৪ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার উপরে

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ সেন্টিমিটার কমলেও এখনও বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শনিবার সকাল ৬টায় সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্ট এলাকায় যমুনার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ১৪.২৯ মিটার (বিপদসীমার ১৩.৩৫)। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রনজিত কুমার সরকার জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এ মুহূর্তে পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।

তবে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় যমুনা তীরবর্তী কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার প্রায় দুই শত গ্রাম বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব গ্রামের পরিবারের সদস্যরা অনেকে বাঁধ, রাস্তা ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

অনেককে খোলা আকাশের নিচে রান্না করতে দেখা গেছে। বাড়ির মালামাল, শিশু আর গবাদি পশু নিয়ে নিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বন্যা কবলিত মানুষ। শাহজাদপুর, বেলকুচি ও এনায়েতপুরে বন্যার পানিতে ডুবে গেছে অনেক তাঁত কারখানা।এতে বেকার হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা।

অপরদিকে, শাহজাদপুরে শাহজাদপুরে রাওতারা রিং বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে গো চরনভুমি। গরুর খাদ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। এসব এলাকার ফসলি জমি ও হাট-বাজার ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুল হক বলেন, বন্যার পানিতে জেলার প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমির পাট, রোপা আমন, আউশ ও সবজির ক্ষেতে পানি উঠেছে।

এ ব্যাপারে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সুত্রে জানা যায়, জেলার ৫টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের ১৮১টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের ২১ হাজার ৫৫২ পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার্তদের বিতরণের জন্য ৪৯৪ টন চাল ও ৮ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। ইতোমধ্যেই কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদরে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কাজিপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে কাজিপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্যার্তরা বাঁধ ও উচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় সেগুলো বন্ধ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যা পরবর্তিতে সেগুলো মেরামত করা হবে।

আরো পড়ুন: ‘ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি না দিয়ে পুলিশে দিন’

এদিকে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ডপয়েন্ট এলাকায় ফাটল দেখা দেওয়ার খবরে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে মনে করছেন যেকোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে শহর ও শহরতলীর গ্রামগুলোতে বন্যার পানি ঢুকতে পারে। তবে ধস ঠেকাতে শহর রক্ষা বাঁধে ব্লক ফেলা হচ্ছে। এছাড়াও নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে ভাঙনের শঙ্কাও রয়েছে। তবে এসব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে শহরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধটি কেপিআইভুক্ত এলাকা। এ বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। হার্ডপয়েন্ট এলাকায় যমুনার প্রবল স্রোতের কারণে বাঁধের লাঞ্চিং এপ্রোনে গিয়ে আঘাত করে। এতে দু’টি ব্লকের মাঝখানে একটি গ্যাপ সৃষ্টি হয়েছিল। সেখানে সিসি ব্লক ডাম্পিং করা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৫১
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:১১
    যোহরদুপুর ১১:৪৩
    আছরবিকাল ১৫:৩৮
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:১৪
    এশা রাত ১৮:৪৪
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!