শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন

সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন মোদি

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে শুক্রবার চিঠি দিয়েছেন তিন বাহিনীর সাবেক আট সেনা প্রধান—সহ দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা।

তাদের ক্ষোভ, ভোটের প্রচারের সময় সেনার সাফল্যকে নিজেদের দলের সাফল্য বলে প্রচার করতে চাইছেন রাজনীতিবিদরা। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে শুরু করে রাজস্থান, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, কাশ্মীরের মতো সব স্পর্শকাতর এলাকায় এবার ‘সেনার সম্মান’ রাখতে নিজের দলের পক্ষে ভোট চাইছেন স্বয়ং মোদি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেনার সাফল্যকে বিরোধীরা হেয় করছে বলেও অভিযোগ করে বিজেপির পদ্ম চিহ্নে ভোট দিতে বলছেন তিনি।

যেসব সেনাকর্তা রাষ্ট্রপতির কাছে দরবার করেছেন তারা সরাসরি না বললেও তারা সবাই বিজেপিবিরোধী। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দিনকয়েক আগে একটি জনসভায় সেনাবাহিনীকে ‘মোদিজির সেনা’ বলে উল্লেখ করেন। আবার কোথাও পাকিস্তানে আটক ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের ছবি নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে রাজনৈতিক দল। এমনকি উত্তরবঙ্গে ভোট প্রচারের জনসভায় পুলওয়ামা কাণ্ডকে হাতিয়ার করে মোদি বলেছিলেন, ‘সেনার সম্মান রাখতে আপনারা ভোট দিন।’

বিরোধীরা বিজেপির এই সেনাকে ঢাল করে নির্বাচনী প্রচার চালানোর ব্যাপারে নিন্দা করলে মোদি পাল্টা বলেন, বিরোধীরা সেনার সাফল্যকে মর্যাদা দিচ্ছে না। গর্বিত হচ্ছে না। সেনাকে এভাবে ‘তাস’ করে ভোটে প্রচার চালানোতেই তীব্র আপত্তি সাবেক সেনাকর্তাদের। নির্বাচন কমিশনের তরফেও সতর্ক করা হয়েছিল, কোনো দল যেন সেনার সঙ্গে রাজনীতির যোগ না করে। চিঠিতে লেখা হয়, ‘এভাবে সশস্ত্র বাহিনীকে অপব্যবহার করা হলে তাতে উর্দি পরা পুরুষ ও মহিলাদের মনোবল যে ভাঙবে এবং লড়ার দক্ষতা কমবে, তাতে আপনিও সম্মত হবেন বলে আশা করি।’

যোগীর বক্তব্য ও অভিনন্দনের ছবির বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, সেনার উর্দি পরে পোস্টারে দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি। ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের ছবিকেও রাজনৈতিক পোস্টারে ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন প্রবীণ সেনারা। এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এসএফ রডরিগোস, জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরী, জেনারেল দীপক কাপুরসহ সাবেক বায়ুসেনা প্রধান এনসি সুরি ও আরও তিন নৌসেনা প্রধানও।

সঙ্গে আরও ১৫৬ জন সেনা। যদিও শুক্রবার জেনারেল রডরিগাস সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি এই চিঠি পাঠাননি এবং তাতে স্বাক্ষরও করেননি। তার বক্তব্য, ‘সারাজীবন রাজনীতির ঊর্ধ্বে আছি। দেশই সবার আগে। জানি না, কে বা কারা আমার নাম ব্যবহার করে এই চিঠি দিয়েছে।’ অন্যদিকে বায়ুসেনার মার্শাল এনসি সুরির কথায়, ‘আমি লিখেছিলাম যে সেনাবাহিনী রাজনীতির ঊর্ধ্বে। আমি নির্বাচিত সরকারকে সমর্থন করি। তবে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেয়ার ব্যাপারে আমার কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। চিঠিতে যা লেখা আছে তার সঙ্গে সহমত নই। আমাদের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। জনৈক মেজর চৌধুরী চিঠিটি লিখেছেন। তার বক্তব্যটাই হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে।’

দ্বিতীয় ইভিএমে ভোট দেবেন না- মমতা : ভোটারদের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘দ্বিতীয় ইভিএমে ভোট দেবেন না। কিন্তু প্রথম মেশিনে এক নম্বরেই আমাদের প্রার্থী অমর সিং রাইয়ের নাম আছে। সেখানেই ভোট দেবেন।’ অর্থাৎ দ্বিতীয় ইভিএমে বিজেপি প্রার্থীর নাম থাকবে এবং তাকে ভোট না দিতে বলেছেন মমতা। শুক্রবার দার্জিলিংয়ের কার্শিয়াঙে নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এদিন মমতার বক্তব্যেও উঠে আসে সাবেক সেনাকর্তাদের রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠির প্রসঙ্গ।

তিনি বলেন, ‘সেনার কৃতিত্বকে নিজেদের বলে জাহির করছেন নরেন্দ্র মোদি। রাজনৈতিক স্বার্থে সেনার শৌর্যকে ব্যবহার করছেন। তার প্রতিবাদে সাবেক সেনা কর্তারা চিঠি লিখেছেন রাষ্ট্রপতিকে। আমি তাদের পাশে আছি।’ কেন্দ্রে সরকার গঠনে তৃণমূলের বড় ভূমিকা থাকবে এবং বিজেপি ১০০ আসনও পাবে না বলে দাবি করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জোর গলায় বলেন, ‘কেন্দ্রে আমরাই সরকার গঠন করব। কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেটা পরে ঠিক করা হবে।’

কেজরিওয়ালের গোঁড়ামিতে জোট হল না- কংগ্রেস : শুক্রবার কংগ্রেস জানিয়েছে, দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির (এএপি) সঙ্গে জোট করবে না তারা। আরও ছয় দফা ভোট এখনও বাকি। কংগ্রেস নেতা পিসি চাকো জানালেন, দিল্লিতে আম আদমি পার্টি এবং কংগ্রেসের মধ্যে একটি সমঝোতা প্রায় হয়েই গিয়েছিল। যেখানে আম আদমি পার্টির লড়াই করার কথা ছিল চারটি আসন থেকে এবং কংগ্রেসের তিনটি আসন থেকে। কিন্তু সেই সমঝোতা আর দিনের আলো দেখল না। তিনি বলেন, ‘জোটের জন্য বহুবার চেষ্টা করেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। কিন্তু কেজরিওয়ালের গোঁড়ামিতে তা আর সম্ভব হল না।’

ঈমানদার চৌকিদার না ভ্রষ্টাচারী নামদার, পছন্দ আপনাদের- মোদি : দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে মহারাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেকে ‘ইমানদার চৌকিদার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে কংগ্রেসকে নিশানা করে দলটির প্রধান রাহুল গান্ধীকে ‘ভ্রষ্টাচারী নামদার’ বলতেও ছাড়েননি তিনি। শুক্রবার শিরডি লোকসভা কেন্দ্রের আহমেদনগরে নির্বাচনী সভা থেকে জনতার উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘এই নির্বাচনে ঈমানদার চৌকিদার আর ভ্রষ্টাচারী নামদারের মধ্যে যে কোনো একজনকে বেছে নিতে হবে আপনাদের।’

এখানেই শেষ নয়, আরও এক ধাপ এগিয়ে ফের একবার সেনা প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, ‘ভারতীয় বীর (সেনা জওয়ান) আর পাকিস্তানের সমর্থকদের মধ্যেও কোনো একজনকে আপনাদের বেছে নিতে হবে।’ এরপরই মনমোহন সিং সরকারকে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ পরিচালিত সরকার বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। মোদি বলেন, ‘রিমোট কন্ট্রোল (ইউপিএ) পরিচালিত সরকার সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগত। দুর্নীতিপরায়ণ ছিল।’


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:১৪
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৩৪
    যোহরদুপুর ১১:৫৮
    আছরবিকাল ১৬:৩১
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:২১
    এশা রাত ১৯:৫১
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!