সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

সৈয়দ শামসুল হকের অপ্রকাশিত রচনা

অ নু গ ল্প

কেনাকাটা সম্পর্কে
বস্তুতপক্ষে আজকাল তার কোনো প্রকাশক নেই। লেখাটা শেষ করে মাহমুদ এখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকেই বলল, ‘আরও একটা ভার বৃদ্ধি হলো।’

বাইরে তাকিয়ে সে দেখতে পেল, দুপুরের আলোয় ফিকে গোলাপি আভা। এখন ঠিক ঠিক বাজে একটা ঊনত্রিশ মিনিট। এখুনি সূর্যাস্তের রঙ ধরে গেছে। দেখতে দেখতে সমস্ত আকাশ কেমন রক্তাভ গোলাপি হয়ে গেল। মাহমুদ ভাবল, আত্মরক্ষার জন্যে একটা পিস্তল কিনতেই হয়।

বন্দুকের দোকানে গিয়ে একটা পিস্তল পছন্দ করে রাখলে মন্দ হয় না। লাইসেন্স পাওয়া গেলে তখন কেনা যাবে। লেখাটায় স্বাক্ষর করে তুলে রাখতে যাবে, হঠাৎ কলমটা পড়ে গিয়ে নিব ভেঙে গেল। অনেকদিন সঙ্গী কলমটা। সেও এখন তাকে ছেড়ে গেল। ফেরার পথে একটা কলম কিনতে হবে।

বাইরে আলোটা এখন যে মাত্রায় গোলাপি হয়েছে। দেখে মনে হয়, সূর্যের সামনে কে একটা রঙিন পরকলা পরিয়ে দিয়েছে।

বন্দুকের দোকানে মাহমুদের পছন্দ হলো ঝিনুক বসানো বাঁটওয়ালা ছোট একটা পিস্তল। -‘আচ্ছা, লাইসেন্স হয়ে গেলে এটা নিয়ে যাবো।’

‘আপনি এখুনি নিতে পারেন।’

দোকানদারের কথায় অবাক হলো মাহমুদ। দোকানদার তখন দেয়ালে নোটিশের দিকে মাহমুদের দৃষ্টি করিয়ে বলল, ‘ঐ দেখুন, সরকার আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর থেকে লাইসেন্স তুলে নিয়েছেন। আজ সকাল থেকে।’

পিস্তলটি পকেটে পুরে বেরুলো মাহমুদ।

এই তো কলমের দোকান। সোনার, রুপোর, নানা রঙের, নানা মাপের কলম। একেবারে ঝকঝক করছে। একই কোম্পানির কলম সে সারা জীবন ব্যবহার করে আসছে। তাই পছন্দ করতে সময় লাগল না। অবিকল আগের মতোই একটা কলম দেখিয়ে দাম জিজ্ঞেস করল সে। বছর দশের আগের চেয়ে দাম এখন দ্বিগুণ। তা তো হবেই। টাকার দাম কমছে বই বাড়ছে না।

দিন এটা।

দোকানদার জিজ্ঞেস করল, ‘লাইসেন্স আছে?’

আরও একবার দোকানদার তার দৃষ্টি আকর্ষণ করল দেয়ালে ঝোলানো নোটিশের দিকে। এটাও আজ সকালে জারি হয়েছে। ঘন গোলাপি আলোতেও স্পষ্ট পড়া গেল।

শেষ বাস

প্রকাণ্ড এক খোলা মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন নাসিম সাহেব, একা। এখানেও আপিসের ফাইলপত্র তাঁর হাতে। আরে, এ কোথায় এলেন তিনি। এই অপরাধে বড় সাহেব তাঁর আগাম নেবার আর্জিটা না আবার না-নামঞ্জুর করে দেন। তা হলেই মেয়ের বিয়ে মাথায় উঠেছে।

জুতো জোড়াই বা গেল কোথায়? একেবারে খালি পায়ে যে।

নিঃশব্দে পুরনো একটা বাস এসে হাজির। কন্ডাক্টর হাতল ধরে পুরো শরীরটা বার করে চিৎকার করে ডাকল, আসুন, আসুন, শিগগির আসুন। শেষ বাস ছেড়ে যায়।

কোথাকার শেষ বাস? কোথায় যায়?

নাজির সাহেবের হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিল নাছোড়বান্দা কন্ডাক্টর। চলে আসুন। সময় নেই।

নাজির সাহেবের শরীরের ভেতরে আতঙ্কের বরফ ভেঙে পড়ল। চলন্ত বাসে লাফ দিয়ে ওঠার জন্যে পা তুলতে গিয়ে দেখেন, পা আর উঠছে না।

বটের মতো তাঁর পা থেকে শেকড় বেরিয়েছে, কামড়ে ধরেছে মাটি।

চোখের সামনে শেষ বাস মুহূর্তে মিলিয়ে গেল দূর দিগন্তে।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৪০
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৫৮
    যোহরদুপুর ১২:০৫
    আছরবিকাল ১৬:২৯
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:১১
    এশা রাত ১৯:৪১
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!