বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

স্মরণ : পাবনার সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃত মীর্জা শামসুল ইসলামের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী

 

।। এবিএম ফজলুর রহমান।।

পাবনার সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃত পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার মীর্জা শামসুল ইসলামের আজ ৩ অক্টোবর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে মরহুমের নিজ বাসভবন এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া পাবনা প্রেসক্লাবে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

মরহুম মীর্জ শামসুল ইসলাম ছাত্র জীবনে ১৯৫৮ সালে তিন ভাষায় প্রকাশিত মাসিক আমাদের দেশ পত্রিকায় সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন।

১৯৬২ সালে স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পর প্রথমে শিক্ষকতা দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করলেও পরে সাংবাদিকতাকেই পেশা হিসেবে গ্রহন করেন।

তিনি ১৯৬৪ সালে তৎকালীন দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দৈনিক বাংলার অবলুপ্তি পর্যন্ত ঐ পত্রিকার সাথে জড়িত ছিলেন।
৭০ এর দশকে দৈনিক বাংলায় তার পাবনা মানসিক হাসপাতালের উপর প্রায় দুই‘শ পর্বের এক বিশাল ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এ রির্পোটে তিনি সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন এবং দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পান।

১৯৬৭ সালে পাবনার ভূট্টা আন্দোলন, ৮০র দশকে পাবনার ১৯ পর্বের মাদক পরিক্রমাসহ তার বিভিন্ন্ সাহসী ও বস্তনিষ্ঠ প্রতিবেদন এবং ফিচার তাকে সারা দেশে পরিচিত করে তোলে।

বিশেষ করে যে কোন বিষয় ভিত্তিক সংবাদ ও ফিচার তৈরির দক্ষতা এ প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুকরনীয়।

পেশাগত দক্ষতার স্বকৃতি স্বরুপ ১৯৭২ সালে দৈনিক বাংলা কতৃপক্ষ ঢাকার বাইরে মফস্বলে প্রথম তাকে ষ্টাফ রিপোর্টার হিসেবে পদোন্নতি দেন। ১৯৭৬ সালে তিনি সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার হন।

সে সময় থেকে তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহন করেন। এ ছাড়া ৭০ এ দশকে বাংলাদেশ বেতার এরপর মৃত্যর আগ পর্যন্ত প্রায় ২৫ বছর বাংলাদেশ টেলিভিশনে সাংবাদিকতা করেছেন।

১৯৬৮ সালে তিনি সাপ্তাহিক প্রবাহ নামে পাবনা থেকে একটি জাতীয় মান সম্মত পত্রিকা প্রকাশ করেন। তার সম্পাদনায় এ পত্রিকাটি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।

১৯৯১ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি পাবনা প্রেসক্লাব এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, পাবনা জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া কৃষিতে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮৩ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি স্বর্নপদক ও ১৯৮৫ সালে বার্ড পুরস্কারে ভুষিত হন।

তার ছেলে উৎপল মির্জা মাছারাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো চিফের দায়িত্ব পালন করছেন।

মরহুম মীর্জা শামসুল ইসলাম ১৯৪৪ সালে পাবনার আমিনপুরে সম্ভ্রান্ত মীর্জা পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯৯৯ সালের ৩ অক্টোবর ইন্তেকাল করেন।

এ উপলক্ষে মরহুমের নিজ বাসভবন এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া সন্ধ্যায় পাবনা প্রেসক্লাবে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

লেখক : এবিএম ফজলুর রহমান, প্রধান সম্পাদক, বার্তা সংস্থা পিপ, পাবনা।

 

 


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!