বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর হচ্ছে সরকার

সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে এবার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক মানুষের মৃত্যুর পর সারা দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় পরবিহন খাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে। বিশেষজ্ঞরা এসব সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গাড়ির বেপরোয়া গতিকে দায়ী করেছেন। এবার বেপরোয়া চালকদের লাগাম টেনে ধরা সহ বিভিন্ন ধরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সড়ক পরিবহন নীতিমালা বাস্তবায়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ-সংস্কারসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার বিভিন্ন খাতে গত দশ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও এ সময়ে বেপরোয়া গতির যানবাহনের চাপায় সড়কে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হওয়ায় সে সাফল্য অনেকটাই ম্লান হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া নিরাপদ সড়কের দাবিতে দফায় দফায় শিক্ষার্থী ও পোশাক শিল্প শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উত্তপ্ত আন্দোলনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও কিছুটা অবনতি ঘটছে। এ সুযোগে স্বার্থান্বেষী মহল দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিনষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও এ নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে পানি ঘোলা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা সরকারকে নানা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ফেলছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ পরিস্থিতিতে সড়ক-মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার সর্বোচ্চ কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইতোমধ্যে ‘সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটি চার স্তরে পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ তুলে ধরে একটি খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আশু, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা স্থান পেয়েছে এই প্রতিবেদনে। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে ‘সড়ক নিরাপত্তা’ কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ওই খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ২০২৪ সালের মধ্যে সবকিছু বাস্তবায়নের সময়সীমা উল্লেখ করে ১১১ দফা সুপারিশসহ এই প্রতিবেদন সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে। তবে খসড়া চূড়ান্ত করার আগে কিছু পরিবর্তন আনারও ইঙ্গিত দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। অন্যদিকে প্রায় ১৯ লাখ অবৈধ চালকদের বৈধতা দেয়ার সুপারিশ থাকছে সুপারিশে। সেই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলতে দেশব্যাপী কর্মসূচীও নেয়ার কথা জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। আগামী এক এপ্রিল থেকে ঢাকা শহরে টিকেট পদ্ধতিতে বাস সার্ভিস চালুর কথাও জানান পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা।

বিগত সময় লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালকের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইনে মামলা করা হলেও আগামীতে ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে মহাসড়কে যাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, নসিমন ও করিমনসহ ছোট যানবাহন চলাচল করতে না পারে সেজন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দূরপাল্লার বাস-ট্রাক ও কভার্ড ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন যাতে বেপরোয়া গতিতে ছুটতে না পারে এজন্য স্পিডগানের (স্পিড ডিটেক্টর ডিজিটাল মেশিন) ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।

মহাসড়কে ৮০ কিলোমিটারের অধিক গতিতে যানবাহন চালালে তাৎক্ষণিক তা আটক করা হবে। ভাঙাচোরা কিংবা আঁকাবাঁকা হওয়ার কারণে যেসব মহাসড়ক ঝুঁকিপূর্ণ, ওইসব মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিবেগ আরো কমিয়ে আনা হতে পারে। বিগত সময় পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে শুধু জনসচেতনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও এখন থেকে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেবে পুলিশ। তবে এ কার্যক্রম শুরুর আগে ব্যস্ততম প্রতিটি সড়কে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং তৈরি করা হবে। এছাড়া যেসব মোড় কিংবা সিগন্যালে ফুটওভার ও আন্ডারগ্রাউন্ড পাসওভার রয়েছে, সেখান দিয়ে পথচারীরা যাতে নির্বিঘ্নে রাস্তা পার হতে পারে তা নিশ্চিত করবে ডিএমপি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৩:৪১
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:১২
    যোহরদুপুর ১২:০০
    আছরবিকাল ১৬:৪০
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:৪৮
    এশা রাত ২০:১৮
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!