বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ০১:২৯ অপরাহ্ন

হাত রাঙাতে মেহেদি

ঈদের সাজের বড় অংশ জুড়ে থাকে মেহেদি। এই ঈদে কীভাবে সাজবেন, তা হয়তো ভেবে রেখেছেন। কিন্তু কী ধরনের নকশার মেহেদি পরবেন বা কোন ধরনের ট্রেন্ড চলছে তা জানাও জরুরি।

মেহেদি পাতা বেটে তা ব্যবহারের দিন শেষ হয়ে গেছে বহু আগে। মেহেদির টিউব দিয়ে অনায়াসে করে নিতে পারেন মনের মতো নকশা। হাতের পাশাপাশি পা কিংবা বাজুও রাঙিয়ে নিতে পারেন মেহেদির ছোঁয়ায়। মেহেদির আছে নানা রং। রংকে আকর্ষণীয় করতে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্লিটার আর কালার। এবারের ঈদে গুজরাটি ও রাজস্থানি মেহেদির ডিজাইন বেশি চলবে। এই নকশার সুবিধা হলো হাত থেকে কনুই পর্যন্ত যেমন ব্যবহার করা যাবে, আবার হালকা করে শুধু হাতের তালু ও পিঠে দুই জায়গাতে দিতে পারবেন।

হাতের মাঝখানে আঁকা বৃত্ত আর চারদিকে গোল করে ফোঁটাÑ এই ছিল একসময়ের প্রচলিত নকশা। সেই ট্রেন্ডেও অনেকে ঈদের মেহেদি পরছে। এ ছাড়া সূক্ষ্ম কারুকাজ করা নকশাও অনেকে করছে। তবে কার হাতে কেমন নকশা মানায়, সেটা জানা থাকা জরুরি। যাদের হাতের পাতা বড়, তারা হাতে ভরাট নকশা করলে দেখতে ভালো দেখাবে। ছোট হাতের একপাশে লম্বালম্বি ডিজাইন মানানসই। হাতের আঙুল যদি ছোট হয়, তবে অনামিকা বা মাঝের আঙুলে লম্বা করে নকশা আঁকুন। যাদের হাত লম্বা তারা কিছুটা অংশ ফাঁকা রেখে ভরাট ডিজাইন করতে পারেন। তবে যেহেতু উৎসবের উপলক্ষ, সেহেতু দুই হাত ভরেও করতে পারেন মেহেদির নকশা। কনুই পর্যন্ত নামিয়ে নিতে পারেন নকশাকে। আবার কবজি থেকে নামিয়ে লাগাম টেনে ধরতে পারেন নকশার।

যারা হালকা ডিজাইন পছন্দ করেন, তারা হাতভর্তি করে মেহেদি দিলে নকশা যেন সূক্ষ্ম হয় সেদিকে লক্ষ রাখা জরুরি। তালুর মাঝখানে স্পষ্ট গাঢ় নকশাও ছিমছাম দেখাবে। কলকা, ফুল, লতাপাতা, তারাÑ এ ধরনের ডিজাইন করতে পারেন। আবার সূক্ষ্ম ডিজাইনের কিছুটা অংশ ভরাট করে নকশায় বৈচিত্র্য নিয়ে আসা যায়। নকশায় ফিউশন পছন্দ করছেন আজকাল সবাই। মাঝে মাঝে ফাঁকা জায়গা রেখে নকশাকে স্পষ্ট করে তোলা হয় এ ধরনের ডিজাইনে। নখের চারপাশে ভরাট করে মেহেদি দেন অনেকে। সে ক্ষেত্রে নখে হালকা রঙের নেলপালিশ দিলে ভালো দেখাবে। যারা পুরো হাতে মেহেদি দিতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য কনুই পর্যন্ত হাতভর্তি করে মেহেদি দিতে হবে। নকশার কারুকাজও ভরাট হতে হবে। আর নকশা যেন সূক্ষ্ম হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।

ঈদে ছোটদের মেহেদি দেওয়ার আগ্রহ সবচেয়ে বেশি থাকে। তারা যেমন মেহেদি হাতের তালুতে ব্যবহার করতে। তেমনি পা কিংবা বাজুতেও মেহেদি দিতে পারে। পায়ের পাতার চারপাশে আলতার মতো করে মেহেদির রেখা টেনে দিতে পারে। কিংবা মাঝামাঝি লতানো ধরনের নকশা করতে পারে। হাতাকাটা পোশাক পরলে বাজুতেও মেহেদি দিয়ে ছোট্ট করে ডিজাইন এঁকে নিতে পারে। তবে যেখানেই দেওয়া হোক না কেন, মেহেদির নকশায় নিজস্বতার প্রতিফলন থাকা জরুরি। ছোটদের নকশা ফুল পাতা, কার্টুন, কোনো লেখা নাম ইত্যাদি বেশি জনপ্রিয়। শিশুদের কিন্তু হাতভর্তি মেহেদি তেমন মানাবে না।

ট্যাটুসদৃশ মেহেদিও এই ঈদে অনেকেই পরতে পারে। বিশেষ করে ওয়েস্টার্ন ঈদ পোশাকের সঙ্গে এ ধরনের মেহেদি বেশি মানায়। এ ক্ষেত্রে বাহুতে, কাঁধে, পিঠের ওপরের দিকের অংশে মানিয়ে যাবে। আর নকশা হবে ছোট পান পাতা, চাঁদ তারা, কোনো আদ্যাক্ষর, কিংবা কোনো চিহ্নও হতে পারে।

জেনে রাখুন

 মেহেদি দেওয়ার আগে হাতে ময়েশ্চারাইজার বা লোশনজাতীয় কিছু

দেবেন না।

 মেহেদি ওঠানোর পর হাতে তেল ঘষে নিতে পারেন। দীর্ঘস্থায়ী হবে রং। এ ছাড়া লেবুর রস ও চিনির সিরাপ একসঙ্গে মিশিয়ে তুলো দিয়ে নকশার ওপর দিলেও জৌলুশ বাড়বে রঙের।

 সম্ভব হলে মেহেদি তুলে ফেলার পর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা হাতে পানি দেবেন না। অতিরিক্ত সাবান, শ্যাম্পু দিলেও রঙের উজ্জ্বলতা কমে যেতে পারে।

 বাজারে নানা কোম্পানির মেহেদি টিউব পাওয়া যায়। কেনার আগে মান ও দাম দুটোই যাচাই করে কিনুন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৩:৪১
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:১২
    যোহরদুপুর ১২:০০
    আছরবিকাল ১৬:৪০
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:৪৮
    এশা রাত ২০:১৮
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!