সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:০৫ অপরাহ্ন

হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন রিজিয়া রহমান

‘হুমায়ূন আহমেদ নেই, হুমায়ূন আহমেদ আছেন। যারা তার সাহচর্য পেয়েছিলেন, তাদের স্মৃতিতে তিনি রয়েছেন। যারা তার সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পাননি, তারা তার সাহিত্যকর্মকে ভালোবেসে তার নৈকট্য লাভ করেছেন। তিনি এখনও সর্বত্র বিরাজিত।’ প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে এসব কথা বলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

আজ মঙ্গলবার হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য রিজিয়া রহমান এবং নবীন সাহিত্যশ্রেণিতে (অনূর্ধ্ব চল্লিশ বছরের লেখক) ‘সাঁঝবেলা’ উপন্যাসের জন্য ফাতিমা রুমিকে হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে রিজিয়া রহমানকে পাঁচ লাখ, ফাতিমা রুমিকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও এক্সিম ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। স্বাগত বক্তব্য দেন অন্যদিনের সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে রিজিয়া রহমানের শংসাবচন পাঠ করেন কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং ফাতিমা রুমির শংসাবচন পাঠ করেন কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত। রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কণ্ঠে হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই’ ও ‘আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে ছাড়া বাংলা সাহিত্য চিন্তা করা যায় না। তার বড় কৃতিত্ব তিনি একটি বিশাল পাঠক শ্রেণি তৈরি করেছেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি আধুনিক, প্রগতিশীল চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, প্রিয় মানুষেরা চলে গেলেও, তাকে প্রিয়জনরা স্মরণ করলে চিরকাল বেঁচে থাকেন। হুমায়ূন আহমেদ তেমনই একজন। তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

মেহের আফরোজ শাওন বলেন, একজন সাহিত্যিকের জীবন পরিপূর্ণতা পায়, যখন তার নামে পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। এ পুরস্কার প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য জীবন পরিপূর্ণ হয়েছে। নবীন কথাসাহিত্যিকদের জন্য এটি তীব্র কামনার পুরস্কার হবে একদিন।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রিজিয়া রহমান বলেন, এ পুরস্কার প্রাপ্তি তার জন্য সম্মানের, গর্বের, দুঃখের ও বেদনার। কারণ, হুমায়ূন আহমেদ তার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। প্রকৃতির নিয়মে তার স্মৃতি হয়ে যাওয়ার কথা ও হুমায়ূন আহমেদের বেঁচে থাকার কথা। বাস্তবে তা ঘটেনি- যা বেদনার। তার স্মৃতির স্মারক হিসেবে পাওয়া এ পুরস্কার অনেক গর্বের ও সম্মানের।

ফাতিমা রুমি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের নামাঙ্কিত এ পুরস্কার একজন নবীন লেখকের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এটি অনেক বেশি উৎসাহের, যা একজন তরুণ লেখকই কেবল উপলব্ধি করতে পারেন।


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!