বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ১২:০৫ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

অনশনের পর স্ত্রীর স্বীকৃতি পেল ভাঙ্গুড়ার মেহেরিন সুলতানা

image_pdfimage_print

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে অনঢ় অনশনের দ্বিতীয় দিনে স্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে স্বামীর বাড়িতে ঠাঁই পেয়েছে মেহেরিন সুলতানা নামের এক নববধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা মন্ডতোষ ইউনিয়নের দিয়ারপাড়া গ্রামে।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) রাতে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের আইনী সহযোগিতায় মেহরিন সুলতানাকে বধূ হিসেবে মেনে নেয় তার স্বামী খাইরুল ইসলাম ও শ্বশুর আকবর আলীসহ তার পরিবারের লোকজন।

এর আগে বুধবার বিকালে মেহেরিন সুলতানা ভাঙ্গুড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার স্বামী খায়রুল ইসলাম ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল।

মেহরিন সুলতানা ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের নৌবাড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে ও খাইরুল মন্ডতোষ ইউনিয়নের দিয়ারপাড়া গ্রামের আকবার আলীর ছেলে।

জানা গেছে, সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে ছাত্রী মেহেরিন সুলতানা ও খাইরুল একই শ্রেণিতে পড়ালেখা করত।

একই শ্রেণিতে পড়া লেখার করার সুবাদে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সম্পর্ক একপর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কে গিয়ে পৌছায় এবং মেহেরন সুলতানা সন্তান সম্ভবা হয়ে পড়ে।

কিন্তু প্রেমিক খাইরুল বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মেহেরিন সুলতানার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলে। অবশ্য পরে গোপনে দুজনেই চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ৫ তারিখে পাবনা আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে কাজী অফিসের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ।

এ অবস্থায় মেহেরিন সুলতানা বিয়ের পর থেকেই তার স্বামীকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে।

কিন্তু খাইরুল নানান অযুহাতে কৌশলে মেহেরিনকে এড়িয়ে চলতে থাকে।
অবস্থা বেগতিক দেখে গত মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরের দিকে মেহেরিন সুলতানা তার দিয়ারপাড়ার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেয়। তবে সে সময় তার স্বামী খাইরুল ও তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে গেলেও সে তার স্বামীর বাড়িতে অনঢ় অবস্থান নেয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাসনাৎ জাহান ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আজিদা পারভীন পাখি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

পরে বুধবার বিকালের দিকে মেহরিন সুলতানা ভাঙ্গুড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযোগ দেন।

অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ওই দিন সন্ধ্যার দিকে মেহরিনের স্বামী খাইরুল ইসলাম, শ্বশুর আকবর আলী ও মেহেরিন সুলতানার পরিবারে লোকজনকে নিয়ে থানায় এক সালিশী বৈঠকে বসে।

বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি অপোস মীমাংসা করেন এবং মেহেরুন সুলতানাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যেতে সহায়তা করেন।

এবিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং উভয় পরিবারের লোকজনকে নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!