শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন

আটঘরিয়ায় ড্রাগন ফল চাষ করে সফল অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক

আটঘরিয়া প্রতিনিধি : বিদেশি ড্রাগন ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কৃষক বাহার উদ্দিন শেখ। গতানুগতিক ফসল চাষের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে নতুন নতুন ফসল চাষে ইতিমধ্যে সৃজনশীল কৃষক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কৃষক বাহার উদ্দিন শেখ।

উৎপাদন যথাযথ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থাকলেও ঝুঁকি নিয়ে নতুন নতুন ফসল চাষ করে চলেছেন তিনি। ফলটি লাভজনক হওয়ায় ড্রাগন চাষ সম্প্রসারণ করেছেন। এখন ছড়িয়ে দিতে চান দেশব্যাপী। চাষি বাহার উদ্দিন ক্রমাগত নতুন নতুন চাষে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি কৃষকদের পথিকৃত হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আলাপকালে কৃষি উদ্যোক্তা বাহার উদ্দিন শেখ বলেন, শিক্ষকতা জীবনে স্বল্প আয়ে ৪ ছেলে ও ২ মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। প্রথমদিকে ধান, পাট ও গমের মতো পরিচিত ফসল চাষ শুরু করলেও কয়েক বছর পরেই চাষে বৈচিত্র আনি। ধান-পাট বাদ দিয়ে ফল চাষে মনোযোগ দেই। এক সময় টেলিভিশন ও পত্রিকায় ড্রাগন চাষ নিয়ে প্রতিবেদন দেখি। ২০১৭ সালে ৬৬ শতক জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করি। প্রথম বছরে খুব বেশি লাভ না পেলেও পরের বছর নিজের উৎপাদিত চারা দিয়ে ১১২ শতক জমিতে ড্রাগন চাষ করে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হই। ১১২ শতক জমি থেকে প্রতি বছর খরচ বাদে গড়ে প্রায় ৮-১০ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।

বাহার উদ্দিন শেখ আরো বলেন, আমার ছেলে নাজিম উদ্দিন শেখ চাকুরি কারার সুবাদে ঢাকায় থাকেন। সে ফল গবেষনাগারে খবর নিয়ে চারা সংগ্রহ করে ৬৬ শতক জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করি। পরবর্তীতে ভালো ফলন পাওয়ায় আরও ৬৬ শতক জমিতে ড্রাগন চাষ করি। এ ফল চাষে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় খুবই কম। সাধারণত গোবর ও মুরগির বিষ্টা প্রয়োগ করা হয়। পাকা ফল ফ্রিজিং বাদেই ১৫ দিন ভালো থাকে। এলাকায় ড্রাগন চাষ ছড়িয়ে দিতে আমি অন্যদের পাঁচ হাজার চারা দিয়েছি।

এদিকে উপজেলার মাজপাড়া গ্রামের জহুররুল ইসলাম নামের এক সৌখিন চাষি বলেন, আমি বাহার উদ্দিন মাষ্টারের ড্রাগন বাগান দেখে উৎসাহিত হয়ে তার কাছ থেকে ৫ হাজার চারা নিয়ে ৫ বিঘা ড্রাগন ফলের বাগান করেছি। তিনি বলেন, ড্রাগন চাষে প্রথম বছর খরচ একটু বেশি হয়। পরের বছর থেকে খরচ নেই বললেই চলে। এ বছর গাছের পরিচর্যা, সেচ ও সার বাবদ ৮-১০ লক্ষ টাকা ব্যায় হলেও প্রথম বছর খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৮-১০ লাখ টাকা আয় করা যাবে।

আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকশানা কামরুন্নাহার বলেন, বাংলাদেশে এ ফলের চাষ এখনও সেভাবে শুরু হয়নি। আটঘরিয়া উপজেলায় বাহার উদ্দিন মাষ্টার নামে একজন চাষি ক্যাকটাস প্রজাতির এ ফলের চাষ শুরু করেছেন। এই ফলটি লাল, হলুদ, গোলাপিসহ বিভিন্ন রং এর হয়। রং এর কারনে অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এ ফল চোখকে সুস্থ রাখে, শরীরের চর্বি কমায়, রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমানোসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে।

তিনি আরো জানান, ঢাকাতে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় বাজারেও এ ফল বিক্রি শুরু হয়েছে। এই ফল চাষে চাষিদের হার্টিকালচার এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ এবং ছাদ বাগানের বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। উপজেলার চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে আগামী তিন বছরে কমপক্ষে ৮-১০ হেক্টর জমিতে লাভজনক ড্রাগন ফলের চাষ সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা আছে কৃষি বিভাগের।

0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x