শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন

কুমিল্লায় পবিত্র কোরান অবমাননা সংক্রান্ত খবরটির প্রতি সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সকলকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।- ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

আটঘরিয়ায় শিশুর পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে মামলা

আটঘরিয়া প্রতিনিধি : শিশুটির বয়স সাত মাস। নাম উর্মি। ফর্সা ফুটফুটে। দেখতে খুবই সুন্দর। শিশুটি টানা টানা দুটি চোখ, মিষ্টি হাঁসি আর তার মাকে জড়িয়ে কান্নাকাটি করছে উর্মি। মনে হয় সে তার আপনজনকে খুজছেন। উর্মির পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে হন্য হয়ে ঘুরছেন তার মা।

এমন একটি ঘটনার সন্ধান পাওয়া গেছে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার চাচকিয়া গ্রামে। চাচকিয়া গ্রামের পান্টু প্রামানিকের মাদরাসা পড়ুয়া মেয়ে রানী খাতুন (১৫)। তার ইচ্ছা ছিল লেখা পড়া শেষ করে ভালো একটা চাকরী করবে। বাবা মার মুখ উজ্জল করবে। বাবা মার চার সন্তানের মধ্যে রানী খাতুন সবার বড়। রানী খাতুনের বাবা পান্টু প্রাং একজন ভ্যান চালক। সারা দিন ভ্যান চালিয়ে যে অর্থ উপার্জন করেন তা দিয়ে কোনো মতে তাদের সংসার চলে।

পাবনার আটঘরিয়ার চাচকিয়া হাফিজিয়া মাদরাসার ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী রানী খাতুন (১৫)কে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে ধর্ষণ করেছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে ষাটগাছা গ্রামের আব্দুল খালেকের লম্পট ছেলে মিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তারা সম্পর্কে মামতো ফুফাতো ভাই, বোন।

৭ মাসের শিশু উর্মির পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে সুবিচারের আশায় হন্যে হয়ে গ্রাম্য প্রধান বর্গের কাছে ঘুরছেন রানী খাতুনের পরিবার। সুষ্ঠ বিচার না পেয়ে মিরাজুল ইসলামকে আসামী করে আটঘরিয়া থানায় এফ আই আর দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভ্যান চালক পান্টু প্রাং মেয়ের সাথে ষাটগাছা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মিরাজুল ইসলাম(২৪) আত্মীয় সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের মার্চ মাসে মিরাজুল ইসলাম বিয়ের প্রলোভনে রানীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এতে রানী খাতুন রাজি না হলে মিরাজুল ইসলামের নিজ বাড়ির শয়ন কক্ষে রানী খাতুনের ইচ্ছা বিরুদ্ধে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের এক পর্যায় মিরাজুল ইসলাম রানী খাতুনকে বিয়ে করবে বলে স্বীকার করেন। যার ফলে বিষয়টি কাউকে জানায়নি পরিবার। তবে লম্পট মিরাজুল ইসলাম ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও অনেকবার স্ত্রীর মতো মেলামেশা করতে থাকে।

এক পর্যায়ে রানী খাতুন গর্ভবতী হয়ে পড়েন। গত বছরের নভেম্বরে রানী খাতুনের গর্ভে আল্টাসনোগ্রাম করে ২৫ সপ্তাহের বাচ্চা ধরা পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে রানী খাতুনের পরিবার চক্ষু লজ্জার ভয়ে মিরাজুল ইসলামকে বিয়ের করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু মিরাজুল ইসলাম রানী খাতুনের সাথে অবৈধ সর্ম্পকের কথা অস্বীকার এবং তার পরিবার বিয়ে না দেয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে তালবাহানা শুরু করতে থাকেন।

এঘটনায় রানী খাতুনরে পরিবার মিরাজুল ইসলামের পরিবার থেকে কোনো ইতিবাচক সারা না পেয়ে গ্রাম্য প্রধানদের কাছে সুষ্ঠ সুবিচার চাইলে তারা কোন সুরাহা করতে পারেননি। তাই কোনো উপায় না পেয়ে রানী খাতুনের পিতা পান্টু প্রাং বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় মিরাজুল ইসলামকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে প্রেরণ করেছেন। কিন্তু মিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন জেলা হাজতে থাকার পর জামিনে বের হয়ে এসে বাদী পান্টু প্রামানিককে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং মামলা তুলে নেওয়া জন্য রানী খাতুনের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রানী খাতুন এখন তার সন্তানের পিতৃ পরিচয় নিশ্চিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

0
1
fb-share-icon1


© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!