রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩২ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

আটঘরিয়ায় সালমা হত্যা, নিস্ক্রিয় ভূমিকায় পুলিশ !

আটঘরিয়ায় সালমা খাতুনের লাশ ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড়

image_pdfimage_print
আটঘরিয়ায় সালমা খাতুনের লাশ ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড়

আটঘরিয়ায় সালমা খাতুনের লাশ ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড়

আটঘরিয়া প্রতিনিধি : আটঘরিয়া উপজেলার কলেজপাড়া মহল্লার সালমা খাতুন হত্যার একমাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ মামলার কোন অগ্রগতি হয়নি। আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও অজ্ঞাত কারণে তাদের গ্রেফতার করছেনা পুলিশ।

থানা পুলিশ এই হত্যাকান্ডের বিষয়টি ডিবি পুলিশের উপর হস্তান্তর করলেও ডিবির তদন্ত দলের তেমন কোন তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়নি।

প্রশাসনের এই নিস্ক্রিয় ভূমিকায় মামলার ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে নিহত সালমার পরিবার।

এদিকে সালমা হত্যা মামালার অন্যতম আসামী উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক গোলাম মাওলা পান্নুর নাম বাদ সহ মামলা তুলে নিতে আসামীরা হুমকি ধমকী দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মামলার বাদি খুনের শিকার সালমার ভাই সেলিম হোসেন।

পারিবারিক সুত্র জানায়, আটঘরিয়া কলেজপাড়া মহল্লার কৃষক নিজাম উদ্দিনের মেয়ে সালমা খাতুন ছোটবেলা থেকেই শান্ত ও লাজুক প্রকৃতির মেয়ে। কখনই সে কারো সাথে ঝগড়া বিবাদে জড়াতো না। এক কথায় সালমার মতো ভালো মেয়ে গ্রামে দুটো ছিলো না।

৬ বছর আগে পাশের গ্রামের জহুরুলের ইসলামের সাথে বিয়ে হয় সালমার। কিন্তু বিয়ের ৮ দিনের মাথায় সালমা বাবার বাড়িতে ফিরে আসে। স্বামী জহুরুল ছিলো জুয়ারু এবং নেশাখোর। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছেদ হয়।

ঘটনার দিন গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সালমা। পরিবারের সদস্যরা সালমাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে না পেয়ে, রাত ১০ টার দিকে আটঘরিয়া থানা পুলিশকে জানায় বিষয়টি।

থানা থেকে বলা হয়, সে (সালমা) কোনো ছেলের সাথে পালিয়ে যেতে পারে। তাই পরদিন সকাল ১০ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা বলে পুলিশ।

কিন্ত পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৭ টার দিকে বাড়ির অদুরে কলা বাগান থেকে সালমার গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে ওইদিন নিহতের ভাই সেলিম হোসেন বাদি হয়ে গোলাম মওলা পান্নু, রিফাজ উদ্দিন, আবু সাইদের ছেলে ছবেদ আলী, ফরমান আলীর ছেলে মহিদুল ইসলামসহ ৯ জনকে আসামী করে আটঘরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৫। পরে মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ব্যাপারে নিহতের মামা আমজাদ হোসেন বলেন, আমাদের সাথে রিফাজ উদ্দিনের পরিবারের দীর্ঘদিন মামলা মোকাদ্দমা নিয়ে বিরোধ চলছিলো। আর রিফাজের আত্মীয় ছাত্রলীগ নেতা গোলাম মাওলা পান্নু তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন রিফাজ ও পান্নুর দলবলই আমার ভাগ্নিকে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

মামলার বাদী সেলিম হোসেন বলেন, সে দিন আটঘরিয়া থানা পুলিশ যদি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তৎক্ষণাত সালমাকে উদ্ধারে তৎপর হতেন তা হলে হয়তো আমার বোনকে ফেরত পাওয়া যেত।

তিনি এ জন্য পুলিশের গাফিলতিকেই দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ায় পুলিশ দেখেও দেখে না।

আমরা বিষয়টি ডিবি পুলিশকে জানিয়েও কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না। ডিবি পুলিশ বার বার যাওয়ার কথা বললেও আজ পর্যন্ত তারা এলাকায় যায়নি। এদিকে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এস আই ইসমাইল হোসেন বাদীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মামলার তদন্ত ঠিকঠাক চলছে।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!