সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০০ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

আফগানিস্তানে অপহৃত সুমনের বন্দিদশার লোমহর্ষক বর্ণনা

image_pdfimage_print

file (4)আফগানিস্তানে কর্মরত ছিলেন দুই বাংলাদেশি ব্র্যাক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সুমন ও শওকত আলী। সে দেশে জঙ্গিরা অপহরণের পর তাদের জিম্মি করে রেখেছিল ১৯ দিন। সমপ্রতি মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন তারা। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসা ওই দুজনের আতঙ্ক এখনো কাটেনি।

জঙ্গিদের হাতে অপহরণের শিকার সিরাজুল ইসলামের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার দুবলিয়া গ্রামে আর শওকত আলীর বাড়ি ফরিদপুর উপজেলার হাংড়াগাড়ি গ্রামে। শওকত ব্র্যাকের প্রকৌশলী ও সিরাজুল হিসাব বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

 পাবনার সিরাজুল ইসলাম সুমনের ১৯ দিনের বন্দিদশার লোমহর্ষক বর্ণনা শুনে আতঙ্কে গা শিউড়ে ওঠে। রোববার তার বাড়িতে বসে আলাপকালে তিনি জানান, ‘সব সময় মৃত্যুর প্রহর গুনছিলাম। এই বুঝি আমাদের মেরে ফেলবে। অপহরণকারীরা বলছিল, তোমাদের মেরে ফেলা হবে। এমন পরিস্থিতিতে চোখে ভাসছিল বাবা-মা আর স্ত্রীর মুখের ছবি।
তাদের কথামতো কিছুদিন পর বুঝলাম আমাদের প্রাণে মারা হচ্ছে না, মুক্তি দেয়া হবে। তারপর থেকে দিন গুনছিলাম কবে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাব। এভাবে দুর্বিষহ অবস্থায় ১৯টি দিন কাটানোর পর আল্লাহর অশেষ রহমতে ৪ এপ্রিল ভোরে মুক্তি পাই। মুক্ত হয়ে যখন মাটিতে পা রাখি, তখন ফজরের আজান শুরু হয়।’
সুমন জানান, ‘১৭ মার্চ বিকাল ৪টার দিকে আমরা তিনজন একটা গাড়ি নিয়ে কুন্দুজ থেকে বাগলানের উদ্দেশে রওনা হই। গাড়িতে ছিলাম আমি, প্রকৌশলী শওকত আলী, আফগান প্রকৌশলী মনসুর আদিল। ড্রাইভার ছিল আফগান। কুন্দুজ থেকে বাগলান যাওয়ার পথে আমরা আলিয়াবাদ নামে একটা জায়গায় নামি। সেখানে ব্র্যাকের একটা স্কুলের নির্মাণ কাজ দেখার জন্য আমরা কিছু সময় কাটিয়ে আবার গাড়িতে উঠে রওনা দেই। পথে একটা পুলিশ চেকপোস্টে আমাদের গাড়ি চেকিং হওয়ার পরে আমরা আবারো রওনা দেই। এরপর মাত্র ৩ থেকে ৪ মিনিট গাড়ি চলার পর একটা ঢালু স্থানে এসে আমাদের গাড়ি থেমে যায়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটা প্রাইভেটকারের মধ্যে থেকে তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি আমাদের কাছে এসে প্রকৌশলী শওকত আলীকে জিজ্ঞাসা করে তিনি ইঞ্জিনিয়ার কিনা। প্রকৌশলী শওকত আলী জানান তিনি ইঞ্জিনিয়ার। এ সময় একজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে টেনে গাড়িতে তোলে। এরপর আমাকে হাত ধরে গাড়িতে উঠতে বলে। আমি বাধা দিতে গেলে সশস্ত্র এক যুবক বন্দুকের বাঁট দিয়ে আমাকে আঘাত করে গাড়িতে উঠিয়ে নেয়।’
তিনি আরো জানান, ‘গাড়িতে ওঠানোর পর তারা আমাদের হাত, পা, চোখ বেঁধে দিয়ে কথা বলতে বারণ করে। এ সময় তারা আমাদের পকেটে থাকা টাকা, মোবাইল ফোনসহ সবকিছু নিয়ে নেয়। প্রায় ১৫ মিনিট গাড়ি কাঁচা রাস্তায় চলার পর গাড়ি থেকে নামিয়ে আমাদের নির্জন একটা ঘরের মতো জায়গায় ফেলে রাখে।
এ সময় দফায় দফায় কিছু লোক ওই ঘরে এসে আমাদের নানা প্রশ্ন জানতে চায়। তারা সবাই পশতু ভাষায় কথা বলছিল। আমরা মুসলিম এ কথা জানার পর তারা বিভিন্ন সুরা তেলাওয়াত করতে বলে। যতক্ষণ ওই স্থানে ছিলাম পাশেই মাটি কাটার মতো শব্দ হচ্ছিল। রাতে আমাদের দুজনকে অপহরণকারীরা ধরে একটি বাংকারের মতো গর্তে ফেলে দেয়।
পরবর্তী ওই বাংকারেই আমাদের থাকতে হয়েছিল। সেখানেই থাকা, ঘুমানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক কাজ একই স্থানেই সারতে হতো। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শুধু রাতে সামান্য শুকনা ভাত আর পানি খেতে দিত ওরা। নড়াচড়া করলে বা কোনো কথা বলতে চাইলে নির্যাতন করত।
২০ মার্চের দিকে ওই গ্রুপের নেতা যাকে ওরা ‘মোল্লা’ সম্বোধন করছিল তিনি এসে আমাদের নানা প্রশ্ন করেন। তিনি আমাদের কাছে আফগানিস্তানে আমাদের অফিসের অন্য কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন নাম্বার চাইলে আমি আনোয়ার হোসেন নামে আমাদের এক কলিগের নাম্বার দেই। মোল্লা আমাদের জানান যে আফগানিস্তান সরকার তাদের (অপহরণকারী দলের) কিছু সঙ্গীকে আটক করেছে। তাদের মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত আমাদের ছাড়া হবে না।’
সিরাজুল ইসলাম সুমন বলেন ‘প্রথমদিকে অপহরণকারীরা বলত, তোমাদের মেরে ফেলা হবে। এতে আমরা আতঙ্কিত ও ভীত ছিলাম। এরপর কিছুদিন পর তারা জানায়, প্রাণে মারা হচ্ছে না। ছেড়ে দেয়া হবে। কবে ছাড়া হবে জানতে চাইলে বলত কাল-পরশু। এভাবে মুক্তি পাওয়ার আশায় সময় গুনেছি, কিন্তু সহসা মুক্তি মেলেনি। ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা। বাইরে বৃষ্টির শব্দ। একজন এসে আমাদের বলে তোমাদের জন্য সুখবর আছে। কাল ভোরে তোমাদের মুক্তি দেয়া হবে। কারণ আফগান সরকার আমাদের লোকদেরও ছেড়ে দিয়েছে।
তখন বিশ্বাস হলো এইবার বুঝি মুক্ত হতে পারব। তখন থেকে ঘুম আর আসছিল না। ভোর আনুমানিক চারটার দিকে একটু ঘুম ঘুম ভাব হওয়ার সময় বন্দুকধারীদের একজন এসে প্রথমে শওকতকে তুলে নিয়ে যায়। তার ৫/৭ মিনিট পর আরেকজন এসে আমাকে টেনে তুলে বাইরে রাখা গাড়িতে তোলে। এ সময় আমরা পাসপোর্ট চাইলে তারা আমাদের পাসপোর্ট এনে দেয়। গাড়ি ভাড়া বাবদ কিছু ওই দেশের মুদ্রাও দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা গাড়ি চলার পর একটি নির্জন স্থানে আমাদের নামিয়ে দিয়ে চোখ খুলে দিয়ে বলে, গাড়ি এলে চলে যাবি।’
তিনি আরো বলেন, ‘গাড়ি থেকে নেমে যখন মাটিতে প্রথম পা রাখি ঠিক তখনই ফজরের আজানের ধ্বনি কানে ভেসে আসে। এরপর গাড়ি ধরে কাবুলে আমাদের রেস্ট হাউসে যাই। সেখানে গোসল করে বিশ্রাম নেয়ার পর পরিবারের সঙ্গে ব্র্যাক কর্মকর্তারা কথা বলিয়ে দেয়। তারপর অফিসের সব লেনদেন হিসাব-নিকাশ শেষ করে ৬ এপ্রিল দুপুর আড়াইটায় এয়ারপোর্টে গিয়ে বিমানে উঠি।
সেখান থেকে সাফি এয়ারওয়েজে প্রথমে দুবাই আসি। সেখান থেকে রাত ২টায় এমিরেটস এয়ারওয়েজে ৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকায় নামি। বিমান থেকে নামার পর বুক ভরে শ্বাস নেই এবং আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করি। বাড়িতে স্বজনদের কাছে আসি ওইদিন রাতে।’


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!