বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
সংবাদ শিরোনাম :

আবাদে কৃষক আনিসের অদম্য সাফল্য

আবাদে কৃষক আনিসের অদম্য সাফল্য

image_pdfimage_print
আবাদে কৃষক আনিসের  অদম্য সাফল্য

আবাদে কৃষক আনিসের অদম্য সাফল্য

নিউজ ডেস্ক : কৃষক আনিস পরিশ্রম, প্রচেষ্টা আর প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে কৃষির মতো একটি জটিল ক্ষেত্রকে করায়ত্ত করেছেন। কৃষি এখন আনিসের যাদুবন্দী । কৃষির ক্ষেতে আনিস এখন রাজা মহা-রাজা। আনিস যা-বলে তাই হয়। অথচ সেদিনও এই আনিস ছিল প্রযু্িক্ত না জানা বেকার এক যুবক। টাকার জন্য দিক বিদিক ছুটাছুটি, হন্যে হয়ে চাকরি প্রাপ্তির জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধন্না দেয়াসহ কি-না করেছে সে।

নিটিং ফেব্রিক্সে চাকুরী, তারপর ব্যবসা, ফড়িয়াগিরি, দালালী ইত্যাদি ক্ষেত্রে আনিসের দৌড়ঝাপের কমতি ছিল না । অথচ কোনোটাতেই ফায়দা করতে না পেরে অর্থাৎ জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আনিস শেষমেশ বাবার দেয়া ২ বিঘা জমিতেই শুরু করেন কৃষি কাজ। যদিও তার কাছে কৃষি কাজটা পছন্দসই ছিল না প্রথম দিকে। তবুও এক প্রকার বাধ্য হয়েই যৌবনটাকে নিয়োগ করে ছিলেন কৃষিতে ।

অনাগ্রহের সাথে বেছে নেয়া কৃষি পেশায় প্রথম বছরে ততটা সুবিধা করতে পারেননি আনিস। কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং প্রতিবেশী (অগ্রসরমান কৃষক ) আত্মীয়ের পরামর্শ মোতাবেক তিনি জানতে পারলেন ভাল উৎপাদনের পূর্ব শর্ত হলো উত্তমরুপে জৈব সার প্রয়োগ করে মাটি তৈরি করা। তাই আনিস উত্তমরুপে জমি তৈরি ও জৈব সার প্রয়োগ করে মৌসুম শুরুর পূর্বেই শাক-সবজী এবং উচ্চমূল্যের শশা, চালকুমরা, করেল্লা, তরমুজ, ফুটি, টমেটো, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি আবাদে মনোনিবেশ করেন। এতে করে আনিস যথেষ্ঠ লাভবানও হয়েছেন।

সেই থেকে আবাদের প্রতি তার আগ্রহ দ্বিগুন হারে বেড়ে যায়। জমি ফেলে রাখেননি কখনও। শুধুমাত্র উচ্চমূল্যের সবজী বিক্রী করেই মৌসুমের শুরুতে আয় করেছেন কয়েক লক্ষ টাকা। আনিসের মাথায় কাজ করতে থাকে কোন ফসলে লাভ বেশী এবং কখন তা আবাদ করা যায়।

সে মোতাবেকই তিনি ফসল নির্বাচন করে মৌসুম শুরু পূর্বেই ঐ ফসল আবাদ করে ফসল বিক্রীর টাকা পেয়েছেন অনেক বেশী যা মৌসুমের সময় অতটা হতো না। এভাবেই তার কৃষিতে লাভের অংক সময়ের আবর্তে গড়িয়ে চলতে থাকে আর কৃষি ও নুতন নুতন ফসল আবাদের প্রতি আগ্রহের মাত্রা বেড়ে যেতে থাকে।

কৃষক আনিস আবাদের ক্ষেত্রে এখন একটি আর্দশ, চারিপাশের কৃষকেরা আনিসকে লক্ষ্য করেই নুতন ফসল আবাদে অগ্রসর হয়। লাভের মাত্রায় যোগ হয় তাদেরও বাড়তি নুতন টাকা। শুধুমাত্র বুদ্ধি, শ্রম আর প্রযুক্তিকে সম্বল করে সামান্য জমিতেই আনিস এখন লক্ষ লক্ষ টাকা আয়ের লাইন বের করেছে। মির্জাপুর দাপুনিয়া গ্রামের চাষীদের পেরিয়ে আনিসের নাম এখন সারা পাবনায় পরিচিতি পেয়েছে।

মাত্র ৭ বছরের ব্যবধানে আনিসের পরিবর্তন এসেছে অনেক । পাবনা শহর থেকে মাত্র ১০-১২ কিলোমিটারের ব্যবধানে মির্জাপুর গ্রামে আনিসের বাড়ি। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে ২ বিঘা হতে ৯ বিঘার মালিক হয়েছেন আনিস।

এরই মধ্যে গত ১৮ জুন তারিখে একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেল “চ্যানেল আই” তে আনিসের কৃষি কর্মের সফলতা প্রচার হলে আনিসকে নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে সারা জেলার কৃষকের মধ্যে। বিগত ২০১৫ সালের ৩০ জুনেও “মাছরাঙ্গা” টিভি চ্যানেলে আনিসের প্রথম কৃষির সাফল্য প্রচারিত হয়।

কথা হলো আনিসের সাথে, তার কৃষির উত্থানের রহস্যের বিষয় নিয়ে। আনিস জানালেন, আমার এ উত্থানের রহস্যের পিছনে শুধুই নুতন নুতন জাতের ফল সবজী আবাদ করা।

আমি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল আউয়াল’র (বর্তমানে অতিঃ উপ পরিচালক, রাজশাহী) কাছ থেকে উচ্চমূল্যের সবজী ও ফলের চারা ও বীজের সন্ধান পাই, তার কাছ থেকে পরামর্শ পাই কোন ফসল কখন আবাদ করলে লাভ হবে বেশী, পাবনা সদর উপজেলার বর্তমান কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকেও এ বিষয়ে যথেষ্ঠ পরামর্শ পাই। এ

ছাড়া কৃষি তথ্য সার্ভিস, পাবনার বিভিন্ন প্রকার শাক সবজি ও ফলমূল আবাদের বই পুস্তক পড়ে আমি আবাদ সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ধারণা পাই। সে মোতাবেক পেপসিক্যাম মরিচ, হাইব্রিড তরমুজ- কানিয়া, গ্রীষ্ম কালীন টমেটো, থাইল্যান্ডের ফল রিয়া আবাদ করে যথেষ্ঠ লাভবান হই। এছাড়া আন্তঃ ফসল, মিশ্র ফসল ও সাথী ফসল আবাদের মাধ্যমেও লাভবান হয়েছি বেশী।

মাত্র ২ শতাংশ জমি হতে পেপসিক্যাম বিক্রী করেছি পঞ্চাশ হাজার টাকা, ২ শতাংশ জমিতে হাইব্রিড কানিয়া তরমুজ (মাচায় জন্মে) বিক্রী করেছি ষাট হাজার টাকা, দুই বিঘার লিচুর বাগানেও সাথী ফসল আবাদ করে যথেষ্ঠ আয় করি এবং অন্যান্য মিশ্র ফসলেও আমার কপাল ফিরিয়েছে কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে ।

এখন জমি আমার সাথে কথা বলে, জমির ফসল আমার কাছে কি চায় তার ভাষা আমি বুঝতে পারি, ফসলের ভাষা বুঝে কাজ করি। তাই আমার কাছে কৃষির প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রয়োগ সহজ ব্যাপার মাত্র। এখন আমি আমার স্বপ্নের খামারে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেই আর ভাবি সঠিক সময়ে, সঠিক প্রযুক্তি, সঠিক জাত, সঠিক আবাদ ব্যবস্থাপনা পালন করলে কৃষিতে উন্নয়ন অবশ্যম্ভাবী।

কৃষি বিভাগের অনেক অফিসার আসেন মোটিভেশন ট্যুরে। তারা খুশী হন, প্রযুক্তির ও জাতের রহস্যের সন্ধান নেন। আমিও তাদের সাথে কথা বলে আনন্দ পাই। আমার আবাদের সব কথা জানাই। আবাদের পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ন কর্মকান্ড যেমন- বাল্য বিবাহরোধ, পরিবার পরিকল্পনা, স্যানিটেশন ও বাচ্চাদের স্কুলমূখী করা সহ নানা কাজে আমার সময় কেটে যায় স্বাচ্ছন্দ্যে।

পরিশ্রম , কৌশল আর মেধার সাথে প্রযুক্তি খাটিয়ে কাঙ্খিত সফলতা লাভ করেছেন মির্জাপুরের আনিস। শুধু আনিস নয় এ গ্রামের আবদুল্লাহ, ইউনুস, আজাদ, কামাল বিশ্বাস, মফে, কাদের, আনিস মন্ডল, আমজাদ, বাদশা প্রাঃ, জামাল প্রমূখ চাষীরাও আনিসকে অনুসরণ করে কৃষিতে এভাবেই নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে লাখপতি হয়েছেন । (তথ্য ও সূত্র: অনলাইন)


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!