সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

আমাদের বিবেক আর কখন জাগ্রত হবে?

।। ওসমান গনি ।।

মহামারি করোনাভাইরাসের কারনে আজ কাঁদছে বিশ্ব সাথে কাঁদছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। করোনাভাইরাসটি প্রথম চীন দেশে আক্রমন করলে ও এটি এখন বিস্তার লাভ করেছে পৃথিবীর প্রায় দুশোটির মতো দেশে। এর মধ্যে আমাদের বাংলাদেশ ও রয়েছে। গত মার্চ মাসের ৮ তারিখ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। তখন থেকে সরকার সচেতন।

ওসমান গনি

দেশের প্রতিটি নাগরিক কে সচেতন হয়ে চলাফেরার কথা বলা হয়। দিন যায় আস্তে আস্তে করে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সরকারও আস্তে আস্তে কঠোর হতে থাকে। কিন্তু আমরা সরকারের কথাকে অমান্য করে নিজেরা নিজেদের ইচ্ছা মতো চলতে থাকি। কেউ কারো কথা শুনে না বা শুনতে চায় না।

যেন আমরাই বিশ্বের সেরা পণ্ডিত। আমরা নিজেরা সব বুঝি, আমাদের কে কে কি বুঝাবে। এমন করে চলার কারনে আজ আমাদের অবস্থান কোথায় দাঁড়িয়েছে তা দেশের সচেতন মানুষগুলোর আর বুঝার বাকী নাই। সরকার আমাদের দেশে ও দেশের মানুষকে করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

দেশের রাষ্ট্র প্রধান হিসাবে দেশের প্রতিটি নাগরিক কে সেবা দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেজন্য রাষ্ট্র দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিকট দায়বদ্ধ। বাংলাদেশের আগে যেসব দেশ বা রাষ্ট্রে এ ভাইরাসটির আক্রমনের স্বীকার হয়েছিল তারা সঠিক নিয়মকানুন না জানা না মানার কারনে এর মাশুল দিচ্ছে তারা।

যেহেতু আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোন দেশ এ ভাইরাসটির ওষুধ আবিষ্কার করতে পারেনি সেহেতু বাংলাদেশ সহ আক্রান্ত দেশগুলোর একটিই কথা এ ভাইরাসটির আক্রমন থেকে বাচতে হলে আক্রান্ত ব্যক্তি কে ছোঁয়া বা সংস্পর্শে যাওয়া যাবে না। আমাদের ছোট আয়তনের বাংলাদেশের লোকসংখ্যা প্রায় ২০ কোটির মতো।

পৃথিবীতে বাংলাদেশ ই হলো একমাত্র ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এই জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা সহ পৃথিবীর আরও অন্যান্য বড় দেশগুলো বাংলাদেশ কি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে। এমন কি বাংলাদেশ কে বার বার সতর্ক করছে। কিন্তু আমরা এ ব্যাপার টাকে কোন পাত্তাই দিচ্ছি না। সরকার আইন করে, সেনাবাহিনী, পুলিশবাহিনী নিয়োগ করছে আমাদের কে সচেতন করার জন্য।

কিন্তু আমরা এসবের কোন গুরুত্বই দিচ্ছি না। বার বার বলা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, হোমকোয়ারেন্টাইনে থাকা, বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়া, জনসমাগম ঠেকানোর দেশের প্রত্যন্তঞ্চলের মানুষকে বুঝানো হচ্ছে কোন কাজেই আসছে না। নিজেদের মনমতো চলছে।

নিজেদের ইচ্ছামতো চলার কারনে আমাদের সামনে মনে হয় অন্ধকার হয়ে আসছে। এখনও দেশের গ্রামাঞ্চলের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে চায়ের দোকানে, সেলুনে বসে আড্ডা করছে। টহলরত পুলিশ ও সেনাবাহিনী আসলে দৌড়ে চলে যায়, পুলিশ সেনাবাহিনী চলে গেলে আবার আগের অবস্থা। এসব লোকজন একবারও চিন্তা করে না যে, আমাদের দলবদ্ধ চলার কারনে তো করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে। আমরা কেন সরকারের আইন মেনে চলি না। আমরা তো বিবেকবান মানুষ।

কেন আমাদের কে অন্যজন এসে বলতে হবে। আমাদের কি কোন আক্কেল জ্ঞান নেই? কবে ফিরে আসবে আমাদের মধ্যে বোধশক্তি? কেন আমাদের বিবেক জাগ্রত হয় না। আমরা সচেতন হয়ে না চললে আমাদের ই বিপদ হবে। কিন্তু যখন বিপদ শুরু হয়ে যাবে তখন হয়ত আমরা দিশেহারা হয়ে যাব।

কি করব না কি করব কোন পথ খুঁজে পাব না। তখন আমাদের নিশ্চিত মরণ। তখন আমরা কাকে দোষারোপ করব। তাই আসুন আমরা আগ থেকেই সরকারের আইনের দরকার নাই নিজেদের বিবেকের কারনেই সচেতন হয়ে যাই। ২০ কোটি মানুষের দেশে কয় কোটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক রয়েছে? যে আমাদের কে ঘরে ঘরে গিয়ে পাহারা দিবে।

পুলিশ সেনাবাহিনী কেনইবা পাহারা দিবে। তারাতো মানুষ, তাদেরও তো মরণের ভয় আছে। হয়তো তারা সরকারের চাকরি করে দায়ে পড়ে আমাদের কে বলতে আসে।

তাদের মতো আরও বহু লোক রয়েছে যারা কোনদিন আমাকে বা আপনাকে বলবে না যে, জনসমাগম এড়িয়ে চলুন, প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবে না, মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস ব্যবহার করুন, বার বার সাবান দিয়ে হাত ওয়াশ করুন। কারন তারা কারও নিকট দায়বদ্ধ না। সমাজের বিবেকবান লোক যারা তারা সব সময় নিজেদের ইচ্ছাতেই তারা সচেতন হয়ে চলে। (লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট)

[নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকার মুক্তমত কলামের সকল লেখা, লেখকের একান্তই নিজস্ব মতামত। এর সাথে নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতিমালার মিল নাও থাকতে পারে।]

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!